২০০৮ সালে প্রথম অলিম্পিক আয়োজনের সুযোগ পেয়েই ইতিহাস তৈরি করে ফেলেছিল বেইজিং। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী চিনের সেই আয়োজনকে টপকে যাওয়ার এক সুযোগ পেল এবার জাপান। আর্জেন্টিনার রাজধানী বুয়েন্স আয়ার্সে গত শনিবার আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সদস্যদের ভোটে ইস্তাম্বুল এবং মাদ্রিদকে হারিয়ে ২০২০ সালের অলিম্পিক আয়োজনের স্বত্ব ছিনিয়ে নিয়েছে টোকিও।
৭ সেপ্টেম্বর রাত জেগে টিভির পর্দায় চোখ রেখে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করেছেন জাপানবাসী। দ্বিতীয়বারের মতো জাপানের গ্রীষ্মকালীন অলিম্পিক আয়োজকের দেশ হওয়ার ঘোষণা আসার পর আনন্দের বন্যায় ভেসে যাচ্ছে পুরো জাপান। সাঁতারে চারবারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন কোসুকি কিতাজিমা পুরো দেশের হয়ে যেন বললেন, ‘এটা স্বপ্নের মতো যে টোকিও আবার অলিম্পিকের আয়োজন করবে। আমি আশা করি, আমাদের দেশের নতুন প্রজন্ম তাদের স্বপ্নকে বাস্তবে পাবে।’
এর আগে ১৯৬৪ সালে জাপান একবার গ্রীষ্মকালীন এবং আরো দু’বার শীতকালীন অলিম্পিক আয়োজন করেছে।
এবার অবশ্য ২০২০ সালের অলিম্পিকের আয়োজনের জোর সম্ভাবনা ছিল স্পেনের রাজধানী মাদ্রিদের। ঘোষণা আসার আগে রাস্তায় নেমে এসেছিল মাদ্রিদের মানুষজন। প্রস্তুতি চলছিল ঘোষণা আসার পর আনন্দ উদযাপনের। কিন্তু টোকিও তাদের সেই স্বপ্ন কেড়ে নিল। অন্যদিকে প্রথম কোন মুসলিম রাষ্ট্র হিসেবে তুরস্কে অলিম্পিক আয়োজনের ব্যাপারে সংশ্লি¬ষ্টরা বেশ আশবাদী ছিলেন। তবে বেশ কয়েকজন আইওসি সদস্য অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে আঙ্কারা সরকারের ভূমিকাতে খুব একটা খুশী ছিলেন না। এছাড়া প্রতিবেশী সিরিয়ার চলমান সহিংসতাও এখানে তুরস্ককে চাপের মধ্যে ফেলেছিল।
মাদ্রিদ এবং ইস্তাম্বুলকে পেছনে ফেলে শেষ হাসিটা টোকিও হাসলেও তাদের সামনে অপেক্ষা করছে আরো বড় চ্যালেঞ্জ। নিশ্চিতভাবেই সেই চ্যালেঞ্জটা হলো বেইজিংকে ছাড়িয়ে যাওয়ার। এখন দেখার বিষয় টোকিও সেটা করতে পারে কী-না।
