অজিদের স্বস্তি ফেরালেন মাইকেল ক্লার্ক

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫১
গত চার মাসের মধ্যে তিনজন ভিন্ন প্রধানমন্ত্রী দেখা মিললেও দেশের টেস্ট ও ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মাইকেল ক্লার্কের অধীনে একটিও জয় দেখার সৌভাগ্য হচ্ছিল না অস্ট্রেলিয়ানদের। অবশেষে অজিদের সেই দুর্দশা কাটলো। আর জয় ক্ষরা কাটানোয় মূল ভূমিকা ওই মাইকেল ক্লার্কেরই। গত রবিবার অধিনায়কের এক দুর্দান্ত সেঞ্চুরির কল্যাণে ফেব্রুয়ারি মাসের পর ক্লার্কের অধীনে প্রথম কোন বড় জয় পেল অস্ট্রেলিয়ানরা। ৮৮ রানের এই জয়ে পাঁচ ম্যাচের ন্যাটওয়েস্ট সিরিজেও তারা এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে। সিরিজের তৃতীয় ওয়ানডে বার্মিংহ্যামে অনুষ্ঠিত হবে আগামীকাল। ম্যানচেস্টারে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে বোর্ডে ৩১৫ রানের পাহাড় গড়ে সফরকারীরা। ম্যাচটা মোটামুটি এরপরই শেষ হয়ে যায়। কারণ, এই রান টপকাতে হলে রীতিমতো রেকর্ড গড়তে হতো ইংলিশদের। রান তাড়া করার ইতিহাসে ইংল্যান্ডের সেরা সাফল্য হলো ১৩ বছর আগে পাকিস্তানের বিপক্ষে করাচিতে পাঁচ উইকেটে ৩০৬ রান। অসম্ভব টার্গেটের ৮৮ রান আগেই থামতে হয় স্বাগতিকদের। ম্যাচে ১২১ রানে তৃতীয় উইকেটের পতন ঘটার পর ক্রিজে আসেন অধিনায়ক ক্লার্ক। জুটি গড়েন টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক জর্জ বেইলির সাথে। চতুর্থ উইকেট জুটিতে এই দুজন মিলে যোগ করেন ১৫৫ রান। ৬৭ বলে ৮২ রান করে বেইলি আউট হওয়ার পরপরই ১০২ বলে ১০৫ রান করে সাজঘরে ফিরেন ক্লার্ক। ততোক্ষণে অবশ্য বড় রানের ইনিংসে পৌঁছে গেছে অজিরা। ইংলিশদের হয়ে দুটি করে উইকেট পান বয়েড র্যাংকিন, স্টিভেন ফিন ও রবি বোপারা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে দুই অংকের স্কোর গড়তে পারেন মাত্র চারজন ব্যাটসম্যান। জস বাটলার সর্বোচ্চ ৭৫ রান করেন। কেভিন পিটারসেন ৬০ ও ইয়ন মরগান ৫৪ রান করেন। ৪৪ ওভার দুই বলে অল আউট হওয়ার আগে মাত্র ২২৭ রান করেন ইংলিশরা। ক্লিন্ট ম্যাকে তিনটি ও মিশেল জনসন দুটি উইকেট নেন। ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান মাইকেল ক্লার্ক ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে স্বাভাবিকভাবেই স্বস্তিতে ছিলেন ক্লার্ক, ‘টেস্ট কিংবা ওয়ানডে যেকোন জয়কেই আমি সব সময় অনেক গুরুত্ব দেই। খেলায় জয় পরাজয় থাকবেই; তাই কোনটাতেই খুব বেশি বিচলিত হওয়া ঠিক না। তবে, জয়ের মধ্যে থাকার অনুভূতি সব সময়ই আনন্দের।’ অন্যদিকে হারের জন্য বোলারদের দুষলেন ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যান ইয়ন মরগান, ‘এটা ২৭৫ রান তাড়া করার মতো উইকেট। কিন্তু দলের বোলাররা হাত খুলে রান দিতে থাকলে তখন আসলে ব্যাটসম্যানদের কিছুই করার থাকে না। ব্যাটসম্যানদেরও দোষ আছে। পার্টনারশিপ গড়ার ভাল ভিত্তি পেয়েও তারা উইকেট বিলিয়ে দিয়ে এসেছে। আর ওরা (অস্ট্রেলিয়া) অনেক ভাল ক্রিকেট খেলেছে।’