মোহামেডান স্পোর্টিং
মোহামেডানের ক্ষেত্রে একটা কথা বলা যায়—দল খুব তারকা বোঝাই না হলেও কার্যকর দল গড়তে পেরেছে তারা। দলের প্রধান আকর্ষণ হয়ে আছেন মাশরাফি বিন মুর্তজা। মাশরাফির যে কোনো ধরনের ক্রিকেটে নিজের সবটুকু উজাড় করে দেয়ার প্রবণতা এবং অনেকদিন পরে খেলায় ফেরার লড়াই মিলিয়ে তার চূড়ান্ত সার্ভিস পাবে মোহামেডান। পাশাপাশি সামসুর রহমান শুভ, ধীমান ঘোষ, রাজিন সালেহ, সাকলাইন সজীব, মুক্তার আলী, জুপিটর ঘোষ, মুরাদ খানরা মোহামেডানকে লড়াইয়ে রাখবেন। এরা কেউ খুব ঝলমলে তারকা না হলেও ঘরোয়া ক্রিকেটে অসাধারণ কার্যকর বলেই বিবেচিত।
শেখ জামাল ক্লাব
কাগজে-কলমে অন্তত এবার লিগের সেরা দল শেখ জামাল। লটারি ভাগ্যও এবার পুরোটা পক্ষে গেছে তাদের। ফলে নিজেদের ঘরের ছেলে মুশফিকুর রহিমকেই পেয়েছে তারা অধিনায়ক হিসেবে। আবদুর রাজ্জাক, ইলিয়াস সানি, জুনায়েদ সিদ্দিকী, শফিউল ইসলাম, তুষার ইমরানরা মিলে দারুণ এক দল গড়ে তুলেছেন। এর সঙ্গে এরই মধ্যে শ্রীলঙ্কার দিলশান মুনাবিরাও যোগ দিয়েছেন শেখ জামালে। এক কথায় টুর্নামেন্টের হট ফেবারিট বলা চলে; কিন্তু দলটির সিনিয়র সদস্য, দেশ সেরা ওয়ানডে বোলার আব্দুর রাজ্জাক বলছেন, কাগজ-কলমে নয়, লড়াইটা হবে মাঠে, ‘এমনিতে তো আমাদের দল খুবই ভারসাম্যপূর্ণ হয়েছে; কিন্তু কাগজের হিসাবে তো হবে না। মাঠে আমাদের খেলেই চ্যাম্পিয়ন হতে হবে।’
খেলাঘর সমাজকল্যাণ সমিতি
চ্যাম্পিয়নশিপের দৌড়ে থাকার মতো দল খেলাঘর করতে পারেনি। তবে সুপার লিগের লড়াইয়ে তাদের আশা করা যেতে পারে। বিশেষ করে শুভাগত হোম, আরাফাত সালাউদ্দিন এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের অভিজ্ঞ নিয়মিত পারফরমার ফয়সাল হোসেন ডিকেন্সের উপস্থিতি দলটিকে কার্যকর বলে প্রমাণ করছে। বাকি কথা তাদের মাঠের খেলা দেখা সাপেক্ষেই বলতে হবে।
প্রাইম দোলেশ্বর
এবার প্রিমিয়ারে এই ‘ছোট দল’টি কোনো চমক দেখালে অবাক হবেন না। বাংলাদেশের উইকেটে সফল হওয়ার জন্য যেমন প্রয়োজন, তেমনই কার্যকর একটা দল করেছে তারা। মোমিনুল হক ও সোহাগ গাজী নিঃসন্দেহে দলটির সেরা দুই তারকা। এ ছাড়া ফরহাদ রেজা, রনি তালুকদার, সাব্বির রহমান রুম্মনরা ঘরোয়া ক্রিকেটে যে ভালো প্রভাব ফেলতে পারেন, তাতে সন্দেহ নেই। দলটির মালিকপক্ষ বলছেন, সঙ্গে তারা ভালো কিছু বিদেশি খেলোয়াড় যোগ করার চেষ্টা করছেন।
গাজী ট্যাংক
দলবদলের পুরনো ব্যবস্থা থাকলে এবার বাজিমাত করে ফেলতো গাজী ট্যাংক। দলটিতে এবার যোগ দিয়েছেন বহুল আলোচিত কর্মকর্তা লুত্ফর রহমান বাদল। তার সম্পর্কের জেরে তামিম ইকবাল, সাকিব আল হাসানসহ বেশ কয়েকজন শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড় এখানে খেলবেন; অনেকটা নিশ্চিত ছিল; কিন্তু লটারিপদ্ধতিতে মনের মতো দল গড়তে পারেনি তারা।
তারপরও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, ইমরুল কায়েস, রকিবুল হাসান, রুবেল হোসেনদের নিয়ে গড়া দলকে খুব পেছনে রাখা যাবে না। এর সঙ্গে কয়েক জন বিদেশি খেলোয়াড় যোগ হওয়ায় গাজী ট্যাংক যে লড়াইয়ে থাকবে, সেটা অন্তত অনুমান করা যায়।
কলাবাগান ক্রিকেট অ্যাকাডেমি
কার্যত এবার প্রিমিয়ার লিগে কলাবাগানের তিনটি দল খেলছে। সিনিয়রদের পাশাপাশি তাদের অ্যাকাডেমি ও ক্রিকেট স্কুলও এবার প্রিমিয়ারে! কলাবাগান মূল দল তারকা খচিত করার পাশাপাশি কর্তৃপক্ষ অ্যাকাডেমিতেও খেলোয়াড় নিতান্ত খারাপ নেননি। মার্শাল আইয়ুব, সগীর হোসেন পাভেল, তালহা যুবায়েরদের সঙ্গে পরীক্ষিত বিদেশি কিছু পারফরমার নিয়ে সুপার লিগের জন্য অন্তত লড়াইয়ের আশা করতে পারে তারা। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, অ্যাকাডেমি দলটি সিনিয়র দলের পরামর্শ ও অনুশীলনে সহায়তাটা অন্তত পাচ্ছে।
ব্রাদার্স ইউনিয়ন
কলাবাগানের মতো ব্রাদার্সও ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি থেকেই সেরা অস্ত্রটা কিনে ফেলেছে। অনেকদিন ধরে ক্রিকেটে ‘ছোট দল’ গড়তে থাকা কলাবাগান এবার তামিম ইকবালকে কেনার পাশাপাশি হঠাত্ করেই বেশ শক্তিশালী দল গড়েছে। তামিম ছাড়াও নাফিস ইকবাল, মেহরাব জুনিয়র, তারেক আজিজ, অলক কাপালির মতো কার্যকর তারকারা আছেন দলে। সেই সঙ্গে কয়েক জন বিদেশি খেলোয়াড়ও থাকার কথা এবার লিগে। সবমিলিয়ে দল যে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার মতো হয়েছে, সেটা মানছেন ব্রাদার্সের পুরনো সৈনিক নাফীস ইকবাল, ‘দল খুব ভালো হয়েছে। স্থানীয় খেলোয়াড় খুবই ভারসাম্যপূর্ণ। বিদেশি খেলোয়াড়ও ভালো হবে বলে আশা করছি। বাকিটা মাঠে বোঝা যাবে।’
ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং
মূলত লুত্ফর রহমান বাদলের ছোঁয়ায় গত বছর হঠাত্ করেই সুপার পাওয়ার হয়ে উঠেছিল ভিক্টোরিয়া। এবার বাদলও চলে গেছেন, দলবদলের পুরনো ব্যবস্থাও নেই। সব মিলিয়ে আগের মতো সাকিব-তামিমে সাজানো দল আর হয়নি। তারপরও ফেবারিটদের তালিকায় তাদের রাখতে হবে। বিশেষ করে নাসির হোসেন ও এনামুল হক বিজয়ের মতো দুই ইনফর্ম তারকা এবং মো. শরীফ, রবিউল ইসলাম শিপুল, মায়শুকুর রহমান, সৌম্য সরকারদের মতো এক ঝাঁক তরুণ দলটিকে লড়াইয়ে রাখবে।
আবাহনী লিমিটেড
ঢাকার ক্লাবের ‘বড় দল’ বললে চিরকালই যে আবাহনী-মোহামেডানের কথা বোঝায়, দলবদলে তাদের ঝুলি মোটেও বলার মতো তারকা দিয়ে পূর্ণ হয়নি। এদের মধ্যে আবাহনীর অবস্থা আরো খারাপ। দলটিতে একমাত্র তারকা ক্রিকেটার হলো শাহরিয়ার নাফীস। এ ছাড়া আলাউদ্দিন বাবু, লিটন কুমার দাস, তাপস ঘোষ, নাবিল সামাদ, আল-আমিনদের মতো তরুণদের ওপর ভরসা করতে হবে তাদের। যদিও কর্মকর্তারা সবসময়ের মতো বলছেন, আবাহনীর জার্সির একটা ওজন আছে। সেই ওজনে শাহরিয়াররা কতোদূর যেতে পারেন, সেটা সময়ই বলবে; তবে লিগটা তাদের জন্য কঠিন হতে যাচ্ছে।
প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব
প্রাইম ব্যাংকও এবার ভালো দল করবে, এমন একটা গুঞ্জন দলবদলের আগে শোনা গিয়েছিল; কিন্তু দলবদল ব্যবস্থাটা বদলে যাওয়ায় গুঞ্জনটা সত্যি না মিথ্যে, তাই বোঝার সুযোগ পাওয়া গেল না। শেষ পর্যন্ত লটারির দলবদলে তারা একেবারেই মাঝারি শক্তির একটা দল গড়তে পেরেছে। চ্যাম্পিয়নশিপের জন্য এই দল নিয়ে লড়াই করা কঠিন। তবে জিয়াউর রহমান, এনামুল হক জুনিয়র, সৈকত আলী, তাপস বৈশ্য, ডলার মাহমুদরা দলে থাকায় সুপার লিগের আশা তারা করতে পারে। যদিও দলের সিনিয়র সদস্য তাপস বৈশ্য বলছিলেন, ‘চ্যাম্পিয়নশিপই আমাদের লক্ষ্য। এবার দলগুলোর মধ্যে পার্থক্য খুব বেশি না। ফলে চ্যাম্পিয়ন কে হবে, এটা আগে বলা যাবে না।’
কলাবাগান ক্রীড়া চক্র
গত লিগে কলাবাগান ১২ দলের মধ্যে নবম হয়েছিল। সেই দলটিকেই এবার রাখতে হচ্ছে ফেবারিটদের তালিকায়। কারণ এক সাকিব আল হাসানকে ‘এ প্লাস’ ক্যাটাগরি থেকে কিনে দলটি নিজেদের ‘রেটিং’ বদলে ফেলেছে। সাকিব শুরুর দিকে মাঠে খেলতে পারবেন না ইনজুরির জন্য। তবে মাঠের বাইরেও দলের হয়ে খুব তত্পর তিনি। ফলে সাকিবের ক্রিকেট মস্তিষ্কের উপকারিতাটা শুরু থেকেই পাবে কলাবাগান। এর বাইরে নিলামেই নাঈম ইসলাম, সৈয়দ রাসেল, ফরহাদ রেজা, নাসির উদ্দিন ফারুক, নাদিফ চৌধুরীদের কিনে শক্ত একটা কাঠামো বানিয়েছে কলাবাগান।
ক্রিকেট কোচিং স্কুল
এবার প্রিমিয়ার লিগে কাগজে-কলমে অন্তত সবচেয়ে নিষ্প্রভ কলাবাগান এলাকার এই দলটি। এ দলটিতে জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন তারকা নেইই। দলের সবচেয়ে বড় তারকা, বাংলাদেশ যুব দলের নিয়মিত পারফরমার আসিফ আহমেদ রাতুল। এ ছাড়া বাকিরা একেবারেই তরুণ খেলোয়াড়।
