গফরগাঁওয়ে এলজিএসপি প্রকল্পে অনিয়ম

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:২৪
গফরগাঁওয়ে কাজ না করেই এলজিএসপি-২ প্রকল্পের প্রায় পৌনে ২ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ স্থানে প্রকল্পের নাম কাগজপত্রে থাকলেও বাস্তবে নেই। এ ব্যাপারে সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০১২/১৩ অর্থ বছরে উপজেলার ১৫টি ইউনিয়নে ২৫৬টি প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ১ কোটি ৮৩ লাখ ৯৫ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বেশিরভাগ প্রকল্পে ইউনিয়ন পরিষদ সচিব ও চেয়ারম্যান অনুগতদের সভাপতি বানিয়ে কাজ না করেই সিংহভাগ টাকা আত্মসাত্ করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। একাজে জুন ফাইনালের অজুহাতে তারা কাজ না করেই শতভাগ কাজ শেষ দেখিয়ে টাকা তুলে নিয়ে ইচ্ছেমত আত্মসাত্ করেছেন। জানা গেছে, দত্তেরবাজার ইউপির বিরই গ্রামের খালের উপর বক্স কালভাট না করেই ২ লাখ টাকা আত্মসাত্ করা হয়েছে। মশাখালীতে ১৩ লাখ ১৫ হাজার ৭২৫ টাকা বরাদ্দ থাকলেও ‘ঘুপচি’ কোটেশন বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ১০ লাখ ৯৫ হাজার টাকার ৬টি প্রকল্পের কাজ চেয়ারম্যানের জামাতার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হয়। উস্থি ভোট বাজারে ব্যবসায়ী সুজন মিয়া জানান, বাজারে কোন ল্যাট্রিন না করেই ১ লাখ টাকা আত্মসাত্ হয়েছে। বারবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে দরজা-জানালা নির্মাণ না করেই ৫০ হাজার টাকা উত্তোলন হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান শিক্ষক ওয়াহিদুজ্জামান রতন। সালটিয়া ইউপির পুখুরিয়া গ্রামের মাহমুদুল হাছান বলেন, এক টুকরি মাটি না ফেলেই রাস্তা সংস্কারের নামে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা আত্মসাত্ হয়েছে। রসুলপুরের আলালপুর গ্রামে মঈন সরকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পুকুর ভরাট না করেই লাখ টাকা আত্মসাত্ করা হয়। হাতে গোনা কয়েকটি নলকূপ ও রিং পাইপ স্থাপন করে এই খাতের ৮৯ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আত্মসাত্ করা হয়েছে। কোটেশনের মাধ্যমে কাজে দুর্নীতি সম্পর্কে মশাখালী ইউপি সচিব মোঃ ফজলুল হক জানান, চেয়ারম্যানের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। বারবাড়িয়ার ইউপি সদস্য আব্দুর লতিফ বলেন, প্রকল্পের কাজ সম্পর্কে সে অবগত নয়। মশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান সেলিম আহম্মেদ, সালটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুর রহমান, দত্তেরবাজার ইউপি চেয়ারম্যান রোকসানা বেগম বলেন, এলজিএসপি প্রকল্পে কোন দুর্নীতি হয়নি। উপজেলা এলজিএসপি বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য সচিব উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ তোফাজ্জল হোসেন বলেন, আমাদের নামমাত্র কমিটিতে রাখা হয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়ন করে ইউনিয়ন পরিষদ। নিয়ম অনুসারে বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলো ব্লক গ্রেট কর্ডিনেশন কমিটির সভায় পাসও করা হয়নি। উপজেলা এলজিএসপি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল বারী বলেন, এলজিএসপি প্রকল্পে আমাদের তদারকির ক্ষমতা খুবই কম। তবে অনিয়ম হয়ে থাকলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।