‘বিতার্কিক হতে অবশ্যই মঞ্চের ভয় কাটাতে হবে। ভয় নিয়ে অনেকের আর বিতার্কিক হয়ে ওঠা হয় না। সাহস করে শুরু করা- জড়তা কাটিয়ে ওঠার জন্য যথেষ্ট। এটুকুর জন্য চাই আত্মবিশ্বাস। পাছে লোকে কিছু বলে- ধরণের মানসিকতা নিয়ে বিতর্কে ভালো করা যায় না।’ বিতর্ক নিয়ে এভাবেই বলছিলেন পায়েল বড়ুয়া। যুক্তি তর্কের মানুষ পায়েল। পড়েছেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণ রসায়ন ও অণু প্রাণ বিজ্ঞানে। চট্টগ্রামের মেয়ে পায়েল। বাবা সুব্রত বিকাশ বড়ুয়া ও মা সুপ্তা বড়ুয়া। সুন্দর মুখের মেয়েটা বিতর্ক শুরু করেন ২০০৪ সালে। চট্টগ্রাম কলেজে পড়াকালীন সময়ে।
পরে ২০০৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষেই টিআইবি-সিইউডিএস আন্ত:বিশ্ববিদ্যালয় বিতর্কে রানার্স আপ হয়েছেন। এরপর সাংগঠনিকভাবে বিতর্কে জড়িয়ে পড়েন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, স্টামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত বিতর্ক উত্সবে অংশগ্রহণ করেন। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিতর্ক ছড়িয়ে দিতে কাজ করেন ইপসা, অ্যাকশন এইড, টিআইবি, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনসহ বিভিন্ন বিতর্ক সংগঠনে। বিটিভিতে জাতীয় টেলিভিশন বিতর্ক করে রানার্স আপ হয়েছে সে। ২০১১ সালে টিআইবি আয়োজিত দুর্নীতি ও পরিবেশ শীর্ষক বিতর্কে সারাদেশের একহাজারেরও বেশি প্রতিযোগীদের মধ্যে চতুর্থ হয়েছেন।
এছাড়া বাংলাদেশ স্কুল অব ডিবেট (বিএসডি) এর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আবৃত্তি, গান এবং বিতর্কের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন দুই বার। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান উপস্থাপনা, বিবিসি সংলাপ এবং অদম্য চট্টগ্রামে অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে পায়েল আইসিডিডিআরবি এর ‘সেন্টার ফর ভ্যাকসিন সাইন্সেস‘ এর রিসার্স ট্রেইনি হিসেবে কর্মরত আছেন। ইচ্ছে একজন হবেষক হবেন। কাজ করতে চান সংক্রামক রোগ এবং রোগ প্রতিরোধ বিজ্ঞান নিয়ে।
বিতর্কের গুরুত্বের কথা উল্লেখ করে পায়েল বড়ুয়া বলেন, ‘সমাজের প্রতিটি স্তরে যুক্তি চর্চা খুবই জরুরি। বিতর্কের মাধ্যমে সত্যকে যেমন সুপ্রতিষ্ঠিত করা যায়, তেমনি একজন মানুষের মূল্যবোধের পরিচয় পাওয়া যায়।’
