২০০৬ সালে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় দেশের ২৬ তম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল তথা সারা বাংলাদেশের উচ্চ শিক্ষায় ভূমিকা রাখতে বৃহত্তর কুমিল্লা জেলায় প্রতিষ্ঠিত হয়। পাহাড়ি পরিবেশের এই বিশ্ববিদ্যালয় অনেক পাওয়া না পাওয়াকে সাথে নিয়েই সামনের দিকে ছুটে চলছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়কে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে চার বছরের কিছু কম সময় ধরে কাজ করে যাচ্ছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আমির হোসেন খান। কথা বলেছেন— মুহাম্মাদ শফিউল্লাহ ও ফজলে শাহরিয়ার সিয়াম
বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক সমস্যা আছে। এ সমস্যা সমাধানে আপনি কোন পদক্ষেপ নিয়েছেন?
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় একটি ভিন্ন ধারায় ও স্বতন্ত্র মাত্রায় দেশের উচ্চ শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়নে সচেষ্ট রয়েছে। নবীন এ বিশ্ববিদ্যালয়ে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। দ্বিতীয় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন হলে সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান হবে।
প্রশাসনিক কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে আপনার পদক্ষেপ জানতে চাচ্ছি?
অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় তার যাত্রা চালিয়ে যাচ্ছিল ঠিক সেই সময়ে আমি যোগদান করি। অনেক কাজের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হলো- নতুন ৯টি বিভাগ খোলা, ২৫ জন শিক্ষক থেকে ১২৩ জন শিক্ষক নিয়োগ, কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগ, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম উন্নয়ন প্রকল্পের অসমাপ্ত ৭০% কাজ সমাপ্ত করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থাকে সমৃদ্ধশালী করতে কাজ করা হচ্ছে, গ্যাস লাইন সংযোজন করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে তথ্য প্রযুক্তি আপনি কি ভাবে কাজে লাগাচ্ছেন?
ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়তে আমরা বদ্ধপরিকর। বিভিন্ন কারণে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার আমরা নিশ্চিত করতে পারিনি। আইটি সুবিধাদির জন্য একটি আইটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে শীঘ্রই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে যা বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাই পাবে।
বিশ্ববিদ্যালয়কে আধুুনিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়তে আপনি কি কাজ করছেন?
বর্তমান বিশ্বায়নের যুগে বিশ্বের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলা ছাড়া বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্যে যুগোপযোগী পাঠ্যসূচি প্রণয়ন, শিক্ষা সহায়ক আধুনিক সুবিধাদি বর্ধিত করা, লাইব্রেরী, ক্লাসরুম, ল্যাবরেটরি, ইন্টারনেট সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। দেশের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে তথ্য আদান প্রদানের সুবিধা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক সমস্যা, যানবাহন সমস্যা প্রকট। এ ব্যাপারে আপনি কি বলবেন?
আবাসিক সমস্যা সমাধানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বর্তমানে ছাত্রদের জন্য তিনটি ও ছাত্রীদের জন্য একটি হল রয়েছে। ভূমি অধিগ্রহণ শেষ হলে আরো দুইটি হল নির্মাণ করা হবে। পরিবহন সমস্যা আগের চেয়ে অনেক কম।
পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে গড়ে উঠতে আর কত সময় লাগতে পারে ও কি কাজ করার প্রয়োজন বলে আপনি মনে করেন?
‘পরিপূর্ণ’ এটি বিমূর্ত শব্দ। একে সংজ্ঞায়িত করা যায় না। একটি বিশ্ববিদ্যালয় কখন পরিপূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় হবে তা বলা মুশকিল। তবে গুণগত মানের শিক্ষা প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের আধুনিক ও বিজ্ঞান সম্মত উপায়ে পাঠদানের পাশাপাশি নৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি আনুগত্যশীল সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলেই আমি মনে করি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় পরিপূর্ণতা পাবে।
