ব্রাজিল-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়ছে

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:০০
ব্রাজিলের বিখ্যাত তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাসের ওপর যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দাগিরি করেছে এবং তাদের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর অন্যতম টার্গেট ছিল পেট্রোব্রাস এমন তথ্য প্রকাশের পর দু’টি দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরো বেড়েছে। ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট দিলমা রৌসেফ অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে নয় বরং অর্থনৈতিক উদ্দেশ্যে তার দেশের বৃহত্ তেল স্থাপনা পেট্রোব্রাসের ওপর গোয়েন্দাগিরি চালাচ্ছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, রবিবার ব্রাজিলিয়ান টিভি গ্লোবো’র খবরে দেশটির তেল কোম্পানি পেট্রোব্রাসের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দাগিরির কথা বলা হলে দিলমা এ মন্তব্য করেন। সোমবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, এটি স্পষ্ট নিরাপত্তা কিংবা সন্ত্রাস বিরোধী যুদ্ধের জন্য নয় বরং অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র কাজটি করছে। তিনি বলেন, পেট্রোব্রাস কোন দেশের জন্যই হুমকি নয়- এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়। দিলমা আরো বলেন, ব্রাজিল দেশ, সরকার ও তার সকল কোম্পানিকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি পেট্রোব্রাসসহ অন্য কোম্পানিগুলোর ওপর গোয়েন্দাগিরির অভিযোগ অস্বীকার করেছে। এদিকে পেট্রোব্রাস এক বিবৃতিতে বলেছে, অভ্যন্তরীণ কম্পিউটার নেটওয়ার্ক রক্ষায় তাদের উচ্চ গুণগত ও দক্ষ পদ্ধতি রয়েছে। এছাড়া মার্কিন গোয়েন্দাগিরি বিষয়ে কথা বলতে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার যুক্তরাষ্ট্র গেছেন। সেখানে বুধ অথবা মঙ্গলবার তিনি বিষয়টি নিয়ে জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা সুসান রাইসের সঙ্গে কথা বলবেন। পেট্রোব্রাসের ওপর গোয়েন্দাগিরির বিষয়টি ব্রাজিলের জন্য খুবই উদ্বেগজনক কারণ দেশটির উপকূলে বিপুল তেলের সন্ধান পাওয়া গেছে। গভীর সমুদ্রে তেল অনুসন্ধানের জন্য পেট্রোব্রাস বিশ্বে নেতৃস্থানীয় একটি কোম্পানি। অক্টোবরে ব্রাজিল উপকূলের লিবরা খনিতে তেল উত্তোলন শুরু করবে। সেখানে মজুদের পরিমাণ ১৫ বিলিয়ন ব্যারেল যা সেদেশের বর্তমান মোট মজুদের দ্বিগুণ। পেট্রোব্রাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেন, যদি কোম্পানির গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যায় তবে নিলামের সময় অন্য কোম্পানিগুলো অবৈধ সুবিধা পেতে পারে। কতটা তথ্য ফাঁস হয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোম্পানির সাবেক সিইও বলেন, কম্পিউটার হ্যাকিং-এর মাধ্যমে তথ্য বের করার চেষ্টা করা হয়েছিল কিন্তু তাদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত শক্তিশালী। যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক গোয়েন্দা স্লোডেনের ফাঁস করা তথ্যের সূত্র ধরে পেট্রোব্রাসের ব্যাপারে তথ্য বের হয়ে আসে।