বেহাল নন্দীপাড়া-শেখের জায়গা সড়কে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৯
রাজধানীর নন্দীপাড়া-শেখের জায়গা সড়কটি সংস্কারের অভাবে ক্ষয়ে যাচ্ছে। আর খানাখন্দে ভরা সড়কে প্রতিদিনই ঘটছে দুর্ঘটনা। মহানগরীর সবুজবাগ থানাধীন নন্দীপাড়া এলাকা এখন নানা সমস্যায় জর্জরিত। বিশেষ করে নন্দীপাড়া থেকে শেখের জায়গার দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। অথচ চলাচলের একমাত্র প্রধান রাস্তাটি দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় রাস্তা ক্ষয়ে মাটি বেরিয়ে এসেছে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্তের। রাস্তার অর্ধেক ভেঙ্গে যাওয়ায় এপথে যানবাহন চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তার উপর যাত্রাবাড়ী ফ্লাইওভার নির্মাণ কাজ চলায় সিলেট, চট্টগ্রামসহ শিল্প জোনের গাড়ি এপথ ধরে চলাচল করছে। অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে এ রাস্তাটি আরো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। রাস্তা অতিমাত্রায় খারাপ হওয়ায় প্রতিদিনই এপথে যানবাহন দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। একটি গাড়ি রাস্তায় ঢুকলে আরেকটি গাড়িকে রাস্তার এক পাশে উপরে তুলে রাখতে হচ্ছে। এতে করে এলাকায় প্রচণ্ড যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বাড়ছে জনদুর্ভোগ। এ রাস্তায় চলাচলকারী একজন বেসরকারি কর্মকর্তা ইত্তেফাককে বলেন, কাঁচপুর ব্রিজ থেকে যাত্রাবাড়ী হয়ে ঢাকায় পৌঁছতে সময় লাগে ২ থেকে ৩ ঘন্টা। আর শেখের জায়গা ও নন্দীপাড়া হয়ে ঢাকায় পৌঁছা যায় মাত্র ২০ থেকে ৩০ মিনিটে। কাঁচপুর ব্রিজ থেকে এ রাস্তার ডান পাশ ধরে কয়েক মিনিটে পৌঁচ্ছে যাওয়া যায় বনশ্রী হয়ে রামপুরা। আর বাম পাশ ধরে দ্রুততম সময়ে পৌঁছে যাওয়া যায় বাসাবো, খিলগাঁও, শাজাহানপুরে। ফলে দিন দিন নন্দীপাড়া ও শেখের জায়গা সড়কটি জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। সে কারণেই সিলেট, চট্টগ্রাম ও নারায়ণগঞ্জগামী অধিকাংশ যানবাহন এ পথকে সহজ পথ হিসাবে বেছে নিয়েছে। এছাড়া শিল্পাঞ্চলের বাসিন্দারাও এ পথটি দীর্ঘ দিন যাবত্ ব্যবহার করে আসছেন। তিনি বলেন, রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের জনদুর্ভোগ বাড়েছে। তিনি অবিলম্বে রাস্তাটি সংস্কারের দাবি জানান। স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ২০১০ সালে একবার রাস্তাটি মেরামত করা হয়েছিল। বেশ কিছুদিন ভালোভাবেই কেটে যাচ্ছিল। কিন্তু সহজ পথ হওয়ায় অন্যান্যা সড়কের ভারী যানবাহন এ রাস্তায় ঢুকে পড়ায় রাস্তাটি দ্রুতই নষ্ট হয়ে গেছে। রাস্তাটি সংস্কার না হওয়ায় প্রতিদিনই মানুষের কষ্ট বাড়ছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য সাজ্জাদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, নন্দীপাড়া ও শেখের জায়গা রাস্তাটি মূলত স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের। রাস্তার অর্ধেক সবুজবাগে বাকি অর্ধেক পড়েছে নারায়ণগঞ্জে। দুটি নির্বাচনী আসনে পড়ায় রাস্তা মেরামত বা সংস্কার নিয়ে প্রায়ই টানাহেঁচড়া হয়ে থাকে। তিনি বলেন, রাস্তাটি ৬০ ফুট প্রস্তাবিত হলেও বাস্তবে আছে ১৮ ফুট। রাস্তার অধিকাংশই দুই পাশ থেকে দোকানপাট, বাড়িঘর তুলে দখল করা হয়েছে। পুরো রাস্তা দখলমুক্ত তো হচ্ছেই না বরং ক্রমেই তা প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। তিনি রাস্তাটি অবৈধ দখল থেকে মুক্ত করে প্রস্তাবিত ৬০ ফুট রাস্তা করার দাবি জানান। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, নন্দীপাড়া ও শেখের জায়গা সড়কটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এপথে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। তিনি বলেন, জনদুর্ভোগ লাঘবে শিগগিরই রাস্তাটি সংস্কারের যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে।