দরিদ্রতা, অশিক্ষা এবং নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা, নারীর প্রতি প্রথাগত দৃষ্টিভঙ্গি, ইভটিজিং ইত্যাদিকে বাল্য বিয়ের কারণ হিসাবে চিহ্নিত করে বাংলাদেশে এ হার ৬৪ শতাংশ বলে জানিয়েছে প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ। গতকাল নগরীর একটি হোটেলে ‘বাংলাদেশের শিশু বিবাহ : জাতীয় জরিপের ফলাফল ২০১৩’ প্রকাশকালে এই তথ্য জানায় প্রতিষ্ঠানটি। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ও আইসিডিডিআরবির যৌথভাবে পরিচালিত এই জরিপে কিছু সুপারিশমালা তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি ‘ইউএন ইউথ কারেজ এওয়ার্ড ফর এডুকেশন’ পুরস্কার প্রদান করেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কানাডার রাষ্ট্রদূত হিয়েথার ক্রুডেন এশিয়া, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের আঞ্চলিক পরিচালক মার্ক পিয়ার্স।
প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষায় শিক্ষিত শতকরা ২৬ জন মহিলার বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর বয়সের পূর্বে। নিরক্ষর মহিলাদের ক্ষেত্রে হার শতকরা ৮৬ জন।
মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে সরকার দেশের দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তা করে যাচ্ছে, এ ধরনের সাহায্য পরোক্ষভাবে বাল্য বিয়ে বন্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তিনি বাল্য বিয়ে রোধে বিভিন্ন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের কাজের প্রশংসা করেন এবং এ ব্যাপারে সরকারের অঙ্গীকারের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে পাঁচজন শিশু সংগঠক, নীলফামারির কেশব রায় ও আরজিনা বেগম ঢাকার অলি আহমেদ ও তামান্না আখতার জিন্নাত এবং গাজীপুরের রুমা বেগম বাল্য বিয়ে রোধে তাদের কাজ ও অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন এবং উপস্থিত অতিথিদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এরপর প্রতিমন্ত্রী কেশবের হাতে ‘ইউএন উইথ কারেজ এওয়ার্ড ফর এডুকেশন’ পুরস্কার তুলে দেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ জুলাই মালালা দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘ মহাসচিবের গ্লোবাল এডুকেশন বিষয়ক বিশেষ দূত গর্ডন ব্রাউন বিশ্বের সাতজন কিশোর-কিশোরীকে শিক্ষা বিস্তারে অনন্য ভূমিকার জন্য এই পুরস্কার ঘোষণা করে।
শিক্ষাকে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধে সবচেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র হিসাবে উল্লেখ করে নারী শিক্ষা প্রসারে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা মনে করিয়ে দেন প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর এলেনা আহমেদ। প্ল্যান ইন্টারন্যাশনালের এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক মার্ক পিয়ার্স তার স্বাগত বক্তব্যে বাল্য বিয়ের ভয়াবহতা বিষয়ে বৈশ্বিক দৃষ্টিকোণ তুলে ধরেন। এ সময় তিনি বাল্য বিয়ে রোধে সরকার ও বেসরকারি সংস্থাকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।
অনুষ্ঠানের প্যানেল আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ ইন্টারিম কান্ট্রি ডিরেক্টর এলেনা আহমেদ, ডিএফআইডির পোর্ভাটি এন্ড সোস্যাল প্রোটেকশন এডভাইজার নাভেদ চৌধুরী, পপুলেশন কাউন্সিলের কান্ট্রি রিপ্রেসেনটেটিভ ওবায়দুর রব এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ইশরাত শারমীন। আলোচকগণ বাংলাদেশের শিশু বিয়ের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণ ও কমানোর ক্ষেত্রে করণীয় বিষয়ে তাদের মতামত ব্যক্ত করেন।
