বৃষ্টি শঙ্কা মাথায় নিয়েই শুরু হয়েছে প্রিমিয়ার লিগ। ঘটনাচক্রে লিগের প্রথম রাউন্ডেই বিকেএসপিতে সেই বৃষ্টি এসে হানা দিল। আগের দিনের ভারী বৃষ্টিতে ভেসে গেল এই ভেন্যুতে নির্ধারিত ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ও কলাবাগান ক্রিকেট অ্যাকাডেমির ম্যাচ। তবে বগুড়া ও রাজশাহী ভেন্যুর দুই ম্যাচের কল্যাণে এই বৃষ্টি নয়, দিনশেষে ঘটনাবহুল এক সূচনাই হল ২০১২-১৩ মৌসুমের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের। বগুড়ায় খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতিকে ৮ উইকেটে হারিয়ে লিগ শুরু করল গাজী ট্যাংক। লো স্কোরিং এই ম্যাচে ১৮ রানে ৬ উইকেট নিয়ে ইনজুরি কাটিয়ে নিজের দারুণ আগমনবার্তা জানান দিলেন পেসার রুবেল হোসেন।
অন্যদিকে রাজশাহীতে লিগের প্রথম দিনেই অঘটনের শিকার হয়েছে তামিম ইকবালের ব্রাদার্স ইউনিয়ন; প্রাইম ব্যাংকের বিপক্ষে ৭৯ রানে হেরেছে তারা। বাংলাদেশি অলরাউন্ডার জিয়াউর রহমানের ঝড়ো ৮৯ ও শ্রীলঙ্কান বানু রাজাপাক্ষের সেঞ্চুরির কাছে বিফলে গেছে নাফীস ইকবাল খানের অপরাজিত ১৫০ রানের ইনিংস।
বিকেএসপিতে গতকাল পরিত্যক্ত হওয়া ম্যাচে আজ কাগজে-কলমে রিজার্ভ ডে আছে। তবে ম্যাচ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আজও খেলা হওয়ার সম্ভাবনা তেমন নেই; কারণ মাঠ খেলার উপযুক্ত এই সময়ের মধ্যে করে তোলা কার্যত অসম্ভব। সে ক্ষেত্রে এক পয়েন্ট করে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকতে হবে ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিং ও কলাবাগান অ্যাকাডেমিকে।
জিয়া-নাফীসের দুই
রকম দিন
রাজশাহী শহীদ কামরুজ্জামান স্টেডিয়ামে টসে জিতে প্রাইম ব্যাংককে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। প্রথম ওভারের চতুর্থ বলে প্রাইম ব্যাংকের ওপেনার সৈকত আলীকে ফিরিয়ে দিয়ে সিদ্ধান্তটা যথার্থ বলে প্রমাণ করতে যাচ্ছিলেন পেসার তারেক আজিজ। কিন্তু এরপরই আসলে বিস্ময়কর এক ঝড়ের শিকার হল ব্রাদার্স। ঝড়টায় নেতৃত্ব দিলেন জিয়াউর রহমান। তিন নম্বরে নামা বানু রাজাপাক্ষেকে নিয়ে রীতিমতো তাণ্ডব শুরু করলেন। ৪৯ বলে ফিফটিতে পৌঁছে যাওয়া জিয়া শেষ পর্যন্ত ৬৯ বলে ৬টি চার ও ৭টি ছয়ে সাজানো ৮৯ রানের এক ইনিংস খেলে আউট হলেন; দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ১৬৫ রান যোগ করে ফেলেছেন ততক্ষণে দুজন। জিয়া ফিরে যাওয়ার পরও বানুর আক্রমণ চলেছেন। তৃতীয় উইকেটে মাহমুদুল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে যোগ করেছেন ৫৩ রান। শেষ পর্যন্ত বানু রানআউট হয়ে ফেরার আগে ৯৭ বলে ৯টি চার ও ৬টি ছয়ে সাজানো ১০৭ রানের ইনিংস খেলে ফিরেছেন তিনি। এরপর আক্রমণটা ধরে রেখেছিলেন হাসান। শ্রীলঙ্কান সামান ডি জয়সাকে নিয়ে ৭২ রান যোগ করেন হাসান। হাসান নিজেও ফিফটি করে গেছেন; ৫৭ বলে ৫৪ রান করেছেন তিনি ৪টি চার ও ২টি চারে সাজিয়ে। এরপর সামানের ২৯ ও তাইয়াবুরের ২৫ রান মিলিয়ে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৩৩৪ রানের বিশাল পুঁজি গড়ে প্রাইম ব্যাংক।
এই বিশাল রান তাড়া করতে গিয়ে ৩৯ রানের মধ্যে তামিমসহ দুই ওপেনারকে হারিয়ে একরকম লাইনচ্যুত হয়ে পড়ে ব্রাদার্স; দুই ওপেনারকেই ফিরিয়ে দেন তাপস বৈশ্য। কিন্তু এই ধ্বংসস্তূপের ভেতর থেকেই উঠে এসে অসামান্য এক ইনিংস খেলে আশা দেখাচ্ছিলেন নাফিস ইকবাল। কিন্তু ইনিংসের ৪৬তম ওভারে নবম উইকেট পড়ে যাওয়ার পর পায়ে টান নিয়ে খেলতে থাকা নাফিসকে ফিজিও আর ঝুঁকি নিতে দেননি। ফলে ২৫৫ রানে শেষ হয়ে যায় ব্রাদার্সের ইনিংস; এর মধ্যে ১৫০ রানই নাফিসের।
রুবেলে শেষ খেলাঘর
ম্যাচে প্রত্যাশিত ফলাফল যা ছিল তাই-ই হয়েছে; গাজী ট্যাংকের কাছে একরকম উড়েই গেছে খেলাঘর সমাজ কল্যাণ সমিতি। বগুড়ার শহীদ চান্দু স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় ফয়সাল হোসেন ডিকেন্সের দল। ডিকেন্সের এই সিদ্ধান্তকে ভুল প্রমাণ করতে এক রুবেল হোসেনই যথেষ্ট হয়ে উঠলেন। খেলাঘর ১৭ রানে ৪ উইকেট হারালো; ৪টিই রুবেলের শিকার। এরপর ৫৩ রান করে শুভাগত ও ৩১ রান করে অধিনায়ক ডিকেন্স একটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেছিলেন। কাজ হয়নি। শেষ পর্যন্ত ১৮ রানে ৬ উইকেট নিয়ে রুবেল ১৩৩ রানে শেষ করে দিয়েছেন খেলাঘরকে। জবাব দিতে নেমে দলীয় ১৬ রানের মেকশিফট ওপেনার রকিবুলকে হারিয়েছিল গাজী ট্যাংক। কিন্তু অনেকদিন পর রানে ফেরা আফতাব আহমেদের ফিফটি এবং ইমরুল কায়েস ও স্কট স্টাইরিসের তিরিশোর্ধ্ব দু’টি ইনিংস সহজ জয় পাইয়ে দেয় গাজী ট্যাংককে।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
খেলাঘর: ৩৯.৪ ওভারে ১৩৩
(শুভাগত হোম ৫৩, ফয়সাল হোসেইন ৩১; রুবেল হোসেন ৬/১৮, নূর হোসেন ২/২৪)।
গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স ২৪.২ ওভারে ১৩৭/২ (ইমরুল কায়েস ৩০, আফতাব আহমেদ ৫৯*, স্কট স্টাইরিস ৩২*; আরিফুল হক ১/২২)।
ফল: গাজী ট্যাংক ৮ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: রুবেল হোসেন
প্রাইম ব্যাংক ৫০ ওভারে ৩৩৪/৯
(জিয়াউর রহমান ৮৯, বানদ্রা রাজাপক্ষে ১০৭, মাহমুদুল হাসান ৫৪; ইফতেখার সাজ্জাদ রনি ২/৫৩, সোহরাওয়ার্দী শুভ ২/৫৩, সামজামুল ইসলাম ৩/৫২)।
ব্রাদার্স ইউনিয়ন ৪৫.২ ওভারে ২৫৫/৯ (তামিম ইকবাল ৩১, নাফিস ইকবাল ১৫০* অব.; তাপস বৈশ্য ২/৩৮, এনামুল হক জুনিয়র ৩/৩৬)।
ফল: প্রাইম ব্যাংক ৭৯ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: নাফিস ইকবাল খান
