নাদালের ‘লাকি থার্টিন’

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৫৬
টানা চারবারের ফাইনালিস্ট নোভাক জোকোভিচকে চার সেটের দুর্দান্ত লড়াইয়ে পরাজিত করে দ্বিতীয়বারের মতো ইউএস ওপেন শিরোপা জিতলেন রাফায়েল নাদাল। এটি তার ক্যারিয়ারের ত্রয়োদশ গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা। ক্যারিয়ার সংশয়ী এক ইনজুরিকে কাটিয়ে উঠে আবার কোর্টে ফিরে চলতি বছরেই এ নিয়ে দুইবার গ্র্যান্ড স্ল্যাম জিতলেন নাদাল। নিউইয়র্কের ফ্ল্যাশিং মেডোয় গত সোমবার রাতে স্মরণীয় এই জয় শেষে নাদাল জানান তার ক্যারিয়ারে এটিই সবচেয়ে আবেগময় বছর। অ্যান্ডি মারে-জোকোভিচরা যখন ইউএস ওপেনের গত আসরের ফাইনালে লড়ছিলেন, নাদাল সেসময় ম্যানাকোরে তার বাড়িতে ব্যস্ত হাঁটুর পরিচর্যায়। গুরুতর এই ইনজুরি শঙ্কা তুলেছিল নাদালের ক্যারিয়ার নিয়েই। সুদীর্ঘ সাত মাসের বিরতি শেষে চিলিতে ভিটিআর ওপেনের মাধ্যমে কোর্টে ফেরেন ফেব্রুয়ারির শুরুতে। টুর্নামেন্টের ফাইনালে অবাছাই এক আর্জেন্টাইনের কাছে হেরে গেলেও পুরনো রূপে ফিরে আসার ইঙ্গিতটা পাওয়া গিয়েছিল তখনই। আর ব্রাজিল ওপেন জিতে বুঝিয়ে দেন ইনজুরি সমস্যাকে ঝেরে ফেলে সেরাদের মাঝে জায়গা করে নিতে পুরোপুরিই প্রস্তুত তিনি। এরপর রোলা গ্যারোর লাল কোর্টে রেকর্ড অষ্টমবারের মতো ফ্রেঞ্চ ওপেন জিতে জায়গা করে নেন ইতিহাসে। বাকি ছিল শুধু হার্ড কোর্টে নিজেকে প্রমাণ করার। ইন্ডিয়ান ওয়েলসে শিরোপা জিতে সেই পরীক্ষায়ও উের যান এই ২৭ বছর বয়সী। এ বছর এখন পর্যন্ত ৬৩টি ম্যাচ খেলে মাত্র তিনটিতে হারের স্বাদ পাওয়া নাদাল এবার নিউইয়র্কে এসেছিলেন হার্ড কোর্টে বছরজুড়ে অপরাজিত থাকার দারুণ এক রেকর্ড নিয়ে। আর ফাইনালে সার্বিয়ান প্রতিপক্ষকে হারানোর পরে সেই রেকর্ড এখন ২২-০। ইনজুরি থেকে ফিরে এমন একটা বছর কাটাবেন সেটা হয়তো কল্পনা করতে পারেননি নাদাল নিজেও। বিশ্বের শীর্ষ তারকাটিকে ৬-২, ৩-৬, ৬-৪, ৬-১ গেমে হারানোর পর জয় নিয়ে নাদালের মন্তব্যটা ছিল এক শব্দে, ‘অদ্ভুত সুন্দর’। একটু পরেই অবশ্য ফিরে আসলো নাদালের সেই পরিচিত বিনয়ী রূপটিই। তবে কোর্টের বাইরে কাটানো সেই দিনগুলোর স্মৃতি কিছুটা হলেও ছুঁয়ে গেল ১৩টি গ্র্যান্ড স্ল্যামের মালিক এই বাঁহাতিকে, ‘আমার মনে হয় এবছরটা আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে আবেগঘন বছর। সাথের এই ট্রফিটির মূল্য আমার কাছে অনেক। আমার মনে হয় সুযোগটাকে কাজে লাগাতে আমাকে সম্ভাব্য সবকিছুই করতে হয়েছে।’ টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠে শিরোপা বঞ্চিত হওয়া জোকোভিচের প্রতিও যথেষ্ট শ্রদ্ধাই ঝরলো এদিন অষ্টাদশ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনালে নামা নাদালের কণ্ঠে, ‘নোভাকের পারফরম্যান্স যখন এই পর্যায়ে থাকে, তখন তাকে থামানো যে কারো পক্ষেই প্রায় অসম্ভব। সর্বকালের অন্যতম সেরা এক খেলোয়াড় যখন তার প্রিয় কোর্টে খেলবে, তখন তাকে হারাতে হলে আপনাকে নিখুঁত খেলাই উপহার দিতে হবে। এই জয়ের ফলে সর্বকালের সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্ল্যাম জয়ীর তালিকায় নাদাল চলে এসেছেন তিন নম্বরে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা পিট সামপ্রাসের সঙ্গে তার ব্যবধান মাত্র এক, আর ১৮টি শিরোপা নিয়ে সবার উপরে আছেন রজার ফেদেরার। এই ফর্মে থাকলে নাদালের পক্ষে অনায়াসে ফেদেরারকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলা সম্ভব বলে মনে করছেন চারবারের ইউএস ওপেন চ্যাম্পিয়ন জন ম্যাকেনরো। এই টেনিস কিংবদন্তি বলেন, ‘সে যদি শারীরিক সমস্যায় না পড়ে, তাহলে তার পক্ষে সহজেই আরো চার-পাঁচটি শিরোপা জেতা সম্ভব। এ বিষয়ে কোন তর্কের অবকাশ নেই। আমার মনে হয়, সে এখন তার জীবনের সেরা খেলাটা খেলছে।’ এদিকে টুর্নামেন্টের ২০১১ আসরের শিরোপা জয়ী জোকোভিচ এখানেই স্বপ্নের শেষ মানতে চাইছেন না। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপাধারী বলেন, ‘আমার এখন ২৬ চলছে। আর আমার বিশ্বাস ক্যারিয়ারের সেরা সময়টা আমি সামনেই পেতে যাচ্ছি। আমি এটাই মনে প্রাণে বিশ্বাস করি। আর যতক্ষণ আমার মধ্যে এই বিশ্বাসটি আছে। খেলাটার প্রতি আমার ভালবাসা ততদিনে এক বিন্দুও কমবে না। সুতরাং, গত ১০ বছর ধরে যে বিশ্বাস নিয়ে আমি খেলাটা খেলছি, সামনের দিনগুলোতেও তার ব্যতিক্রম হবে না।’