একনজরে গাগার অ্যালবামগুলো
দ্য ফেম(২০০৮)
দ্য ফেম মনস্টার(২০০৯)
বর্ন দিস ওয়ে(২০১১)
আর্টপপ(২০১৩)
গত বছর এই পপ গায়িকা ৮০ মিলিয়ন ডলার আয় করেন, যা ত্রিশের কোঠা না পেরোনো অন্যান্য তারকাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। ত্রিশের কোঠা না পেরোনো তারকাদের মধ্যে লেডি গাগা হলেন সর্বোচ্চ উপার্জনকারী সেলিব্রেটি। ফোর্বস ম্যাগাজিনের জরিপে এ তথ্য প্রকাশ পেয়েছে। ফোর্বসের এই শীর্ষ উপার্জনকারীদের তালিকায় টিন তারকাদের মধ্যে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিলেন পপ গায়ক জাস্টিন বিবার। তিনি আয় করেছেন ৫৮ মিলিয়ন ডলার। তালিকার তৃতীয় স্থানে নাম লিখিয়েছেন পপ গায়িকা টেইলর সুইফট। তিনি আয় করেছেন ৫৫ মিলিয়ন ডলার। জানা গেছে, ২৭ বছর বয়সী লেডি গাগা এ বছর ফেব্রুয়ারিতে তার প্রায় বিশটি শো বাতিল করেছেন, নইলে তার আয় ৮০ মিলিয়ন ডলারের বেশি হতো।
মূলত বৈচিত্র্যময় ফ্যাশনের জন্য গাগাকে ভক্ত-অনুরাগীরা এলিয়েন বা ভিনগ্রহের মানুষ বলে মনে করেন। সমালোচনা এবং একই সাথে তাকে নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিতর্কেরও যেন শেষ নেই। সব মিলিয়ে কয়েক বছর ধরে গাগা মিডিয়ায় যেন সংবাদের শিরোনাম হয়ে থাকছেন।
ক্যারিয়ারের শুরু
গাগার মিউজিক ক্যারিয়ার শুরু হয় ২০০৫ সালে। তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৯। এ পর্যন্ত গাগার তিনটি অ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। তিনটি অ্যালবামই বিশ্বে তুমুল জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে। ২০০৮ সালে গাগার প্রথম অ্যালবাম ‘দ্য ফেম’ প্রকাশিত হয়। এর পরের বছরই মুক্তি পায় তার দ্বিতীয় অ্যালবাম ‘দ্য ফেম মনস্টার’। ‘ফেম মনস্টার’ দিয়ে গাগা আন্তর্জাতিক খ্যাতি লাভ করেন। গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে নমিনেশনও পেয়ে যান। সর্বশেষ ২০১১ সালে মুক্তি পায় গাগার তৃতীয় অ্যালবাম ‘বর্ন দিস ওয়ে’। অ্যালবামটি মুক্তি পাওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই গাগা টপচার্টে শীর্ষস্থান দখল করে নেন। টুইটারেও তিনি হলিউড তারকাদের মধ্যে শীর্ষে রয়েছেন। গাগা অভিনয়ের সঙ্গেও সম্পৃক্ত রয়েছেন। তিনি ‘ম্যান ইন ব্ল্যাক-৩’ ছবিতে অভিনয় করে নিজের পারদর্শিতা প্রমাণ করেছেন। কিছুদিন আগে শয়তানের ভয়ে রক্ত দিয়ে গোসল করে পৃথিবীজুড়ে গাগা হৈচৈ ফেলে দিয়েছিলেন।
শুরুর কথা
লেডি গাগার জন্ম যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে। ১৯৮৬ সালের ২৮ মার্চ তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা জোসেফ গারমানেট্টা একজন ইন্টারনেট ব্যবসায়ী। গাগা ইতালিয়ান এবং ফ্রেঞ্চ-কানাডিয়ান বংশোদ্ভুত। তবে তিনি জন্মশহর নিউইয়র্ককে ভীষণ ভালোবাসেন। লেডি গাগার আসল নাম হচ্ছে স্টেফানি জোয়ানি অ্যাঞ্জেলিনা গারমানোট্টা। ‘লেডি গাগা’ তার স্টেজের নাম। গাগা ছোটবেলায় একটি ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেন। তবে একটা পর্যায়ে থিয়েটার স্কুলের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের থিয়েটার স্কুলে ট্রেনিং নেন। স্টেজ পারফর্মেন্সের জন্য গাগা সবচেয়ে বেশি আলোচিত। স্বল্পবসনা হয়ে অদ্ভুত সব ছন্দ উপস্থাপনা করে তিনি এক ধরনের জাদুকরী মোহ সৃষ্টি করেন। তার প্লাস্টিক বাবল ড্রেস এবং ব্লাড সকড পারফর্মেন্স দর্শকদের ভীষণভাবে কৌতূহলী করে তোলে। গাগা নিজের মিউজিক ক্যারিয়ারের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক দায়িত্ব পালন করে ইতোমধ্যে বিশ্ববাসীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন। এইডস ও বন্যার্তদের সহযোগিতার জন্য তিনি বেশ কয়েকবার অনুদানও দিয়েছেন। গাগার মিউজিক ভিডিওগুলো ভীষণ জনপ্রিয়। সুশ্রী এ গায়িকা সম্প্রতি এক সাক্ষাত্কারে জানান, শিগগিরই তার চতুর্থ অ্যালবাম প্রকাশিত হবে। এ অ্যালবামে তিনি বৈচিত্র্যময় কিছু গান
নিয়ে শ্রোতাদের সামনে হাজির হবেন। পাশাপাশি তিনি অভিনয়টা নিয়মিত চালিয়ে যাবেন।
আর তাই বিশ্বখ্যাত এই পপ তারকা লেডি গাগা এখন অভিনয়ের উপর পড়ালেখা করছেন। এর আগেও লেডি গাগা দুইটি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। তবে সেগুলোতে অতিথি চরিত্রে ছিলেন তিনি। তবে এবার অভিনয়ে আসার ব্যাপারটা একটু ভিন্ন। কেননা, ৫ বছরের মধ্যে অস্কার পাওয়ার ভূত চেপেছে তার মাথায়। আর তাই এখন থেকে চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবং খুব শীঘ্রই চলচ্চিত্রে কাজ করাও শুরু করবেন তিনি।
