আবারো ব্রাজিলের ত্রাতা নেইমার। গতকাল বুধবার পর্তুগালের বিপক্ষের ম্যাচে ব্রাজিল যে তিনটি গোল করেছে তার সবগুলোতেই জড়িয়ে আছে নেইমারের নাম। নিজে গোল করেছেন একটি আর বাকি দুটিতে সাহায্য করেছেন। সব মিলিয়ে নেইমার একাই উড়িয়ে দিয়েছেন পর্তুগালকে। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটসয়ে ব্রাজিল ৩-১ গোলে পরাজিত করলো পর্তুগালকে।
এর আগের ম্যাচটিতে অস্ট্রেলিয়াকে ৬-০ তে উড়িয়ে দিয়েছিল ব্রাজিল। সেই ম্যাচেও দারুণ নৈপুণ্য দেখেছিলেন বার্সেলোনার এই তারকা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষের ম্যাচে নেইমার নিজে একটি গোল করেছিলেন। সাহায্য করেছিলেন আরো দুটি গোলে। খেলা শুরুর ছয় মিনিটে রাউল মেরিলেস শট গোলবারে লেগে ফিরে আসে। মাইকন হেড করে গোলরক্ষক জুলিও সিজারের কাছে দিতে গেলে সেই বল পান মোরালেস। সুযোগ কাজে লাগাতে দেরি হয়নি সাবেক লিভারপুল ও চেলসি তারকা মেরিলেসের। খেলা শুরুর ১৮ মিনিটে মাইকনের ওই ভুলের সুযোগ নিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো বিহীন পর্তুগালকে ১-০ তে এগিয়ে নেন রাউল মেরিলেস। এরপর শুরু হয় নেইমারের নেতৃত্বে ব্রাজিলের এগিয়ে যাওয়া। ২৪ মিনিটের মাথায় নেইমারের করা কর্ণার কিক থেকে ব্রাজিলের হয়ে প্রথম গোলটি করেন থিয়াগো সিলভা। এর দশ মিনিট পরই নেইমার নিজে পর্তুগালের গোলপোস্টে একটি বল ঢুকিয়ে দিয়ে দলকে ২-১ এ এগিয়ে নেন। প্রথমার্ধে এগিয়ে থেকে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল।
দ্বিতিয়ার্ধের শুরুতে ৪৯ মিনিটে জো শেষ গোলটি করেন। এক্ষেত্রেও মূল অবদানটা নেইমারেরই। নেইমার বামপ্রান্ত থেকে বল নিয়ে ঢুকে পাস দেন ম্যাক্সওয়েলকে। ম্যাক্সওয়েল সেই বল জো’কে ঠেলে দেন। ওই গোলটি করার জন্য শুধু বলে পা ঠেকানোর কাজটিই করেন জো। এরপর ম্যাচে আর কোনো গোল হয়নি। ৩-১ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ব্রাজিল। ম্যাচ শেষে ব্রাজিলের কোচ লুই ফিলিপ স্কোলারি নেইমারের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেন, ‘নেইমার খুবই ভাল, এক কথায় অসাধারণ। গত তিন-চার বছর ধরে সে নিয়মিত পারফর্ম করে যাচ্ছে। নেইমার কোন্ মাপের খেলোয়াড় সেটা দেখা গেল পর্তুগালের বিপক্ষে।’ এই জয়ের ফলে পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ তিনটি ম্যাচের দুটিতেই জিতেছে ব্রাজিল। আর ২০১০ বিশ্বকাপের ম্যাচে পর্তুগীজদের সাথে করেছিল গোলশূন্য ড্র। আসন্ন বিশ্বকাপে ব্রাজিল দলের স্কোয়াড এখনও চূড়ান্ত করতে পারেননি বলে জানালেন সেলেচাওদের ২০০২ বিশ্বকাপ জয়ী কোচ, ‘কয়েকটা ব্যাপার আছে যেসব নিয়ে আমি এখনও চূড়ান্ত কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারিনি। দলে কয়েকজনের ইনজুরি আছে। এছাড়া শেষ মুহূর্তে কিছু পরিবর্তন আসতে পারে।’
