কাঠমান্ডুতে আফগান রূপকথা

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:১৭
রোল অব অনার সাল ভেন্যু চ্যাম্পিয়ন রানার্সআপ ১৯৯৭ কাঠমান্ড ভারত মালদ্বীপ ১৯৯৯ গোয়া ভারত বাংলাদেশ ২০০৩ ঢাকা বাংলাদেশ মালদ্বীপ ২০০৫ করাচি ভারত বাংলাদেশ ২০০৮ মালে-কলম্বো মালদ্বীপ ভারত ২০০৯ ঢাকা ভারত মালদ্বীপ ২০১১ দিল্লি ভারত আফগানিস্তান ২০১৩ কাঠমান্ডু আফগাস্তািন ভারত ফুটবল মাঠের আদলে ড্রইং করে সবুজ মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। দুই পাশে গোলপোষ্ট, মাঝে কিকঅফ স্পটের উপর দাঁড়িয়ে আফগান ফুটবলাররা উচিয়ে ধরলেন স্বপ্নের ট্রফি। স্বপ্নের ট্রফিই বটে! ভারতের হ্যাটট্রিক শিরোপার স্বপ্ন গুড়িয়ে দিয়ে আর্ন্তজাতিক ফুটবলে নিজেদের সবচেয়ে বড় অর্জনটাই যে কাল করে নিল আফগানিস্তান। দশরথ স্টেডিয়ামে কাল রাতে অষ্টম সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে আফগানিস্তান ২-০ গোলে ভারতকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এই জয় যে আফগানিস্তানের জন্য কত বড় প্রাপ্তি, তা ম্যাচশেষে উত্সব দেখেই বুঝে নেওয়া চলে। ম্যাচশেষে ফুটবলার-কোচ-কর্মকর্তা, এমনকি দেশ থেকে আসা সমর্থকরাও মাঠে ঢুকে উত্সব শুরু করে দিলেন। দেশের জাতীয় পতাকা নিয়ে মাঠে ঢুকে খেলোয়াড়দের গায়ে গড়িয়ে দিলেন। যুদ্ধের কারণে ফিফা ১২ বছর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে দুরে সরিয়ে রেখেছিল আফগানিস্তানকে। ফিফার নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার পর এই আফগানিস্তান ২০০৩ সালে সাফে অন্তর্ভুক্ত হয়। মাত্র দশ বছরের ব্যবধানে শিরোপা তুলে নিয়ে গেল। আফগানিস্তানের ফুটবলে নতুন সূর্য্যেরও দেখা মিলল। ফুটবলে উপমহাদেশের সেরা দল হয়ে তারা জানিয়ে দিল যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি থেকে শুধুই গোলাবারুদের আহত নিহতের খবর আসে না; আনন্দের খবরও আসে। আফগানিস্তান থেকে চার্টার্ড বিমানে কয়েক শ দর্শক এসেছেন নেপালে। নিজেদের সাপোর্ট দেয়ার কেউ নেই তাই দেশ থেকে সমর্থকরা এসে প্রেরণা দিলেন। উজ্জীবিত করলেন খেলোয়াড়দের। শিরোপা নিয়ে গেলেন। বাংলাদেশ এবং স্বাগিতক নেপাল বিদায় নেয়ার পর সাফের রোশনাইটা যেন কমে গিয়েছিল। নিজের দেশ নেই বলে নেপালিরা ফাইনাল থেকে মুখ ঘুরিয়ে রেখেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত যারা মাঠে গেলেন, তারা অসাধারণ এক লড়াই দেখেই ফিরলেন। আফগানরা শুরুতেই গোছানো ফুটবল খেলে ম্যাচের ৯ মিনিটেই গোল বের করে ফেলে। মুস্তফা আজাদ জয় বল ঠেলে দিলেন ভারতের জালে ১-০। গোল করে আফগান যেন মৌচাকে ঢিল মেরে ফেলে। এরপর মুর্হুমুহু আক্রমণ করে ভারত। ১১ মিনিটের মধ্যে ভারত দুই বার নিশ্চিত গোলের সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি। আফগান গোলকিপার মনসুর বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন। বুন্দেস লিগার দ্বিতীয় বিভাগের দলে খেলা এই আফগান গোলকিপার ধরে ফেলেন ভারতের আরাতা ইজুমির শট। এরপর মেহেতাবের শট ঠেকিয়ে দেন। ফিরতি বলে স্ট্রাইকার জেজের শট গোললাইন থেকে আটকে দেন আফগানিস্তানের মারুফ জামহোর। দ্বিতীয়ার্ধেও ভারতের আক্রমণ যেন থামছিল না। ঝড়ের গতিতে আফগানদের উপর আক্রমণ করে ভারত। ফরোয়ার্ড রবিন সিং আফাগান গোলকিপারকে একা পেয়ে শট করতে পারেননি। আফগান ডিফেন্ডাররা যখন ক্লান্ত ৬৭ মিনিটে ভারতীয় ডাচ কোচ উইম কোভার ম্যাচ অধিনায়ক সুনীল ছেত্রীকে ছেড়ে দিলেন মাঠে। নেমেই ছেত্রীর দারুন শট, আফগান গোলকিপার গ্রীপ করলেন। কিন্তু দূর্ভাগ্য ভারতের; পাল্টা আক্রমণে দ্বিতীয় গোল হজম করে বসে তারা। সানজার আহমাদির গোল ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেন ২-০। গোল খেয়ে আরো তেতিয়ে উঠে ভারত। আবার সেই সুনীল। বাঁ পায়ে শট করলেন ক্রস পিসে লেগে ফিরে আসল। স্ট্রাইকিং পজিশনে ভারতীয় দলের তুরুপের তাস সুনীলকে নামিয়ে কোনো ফায়দা নিতে পারলেন না ডাচ কোচ। উল্টো দারুণ খেলে গোল করে ফাইনালের গল্পটা লিখে দিলেন আফগানরা।