রোগ আড়াল-অবহেলা না করা হাজি সাহেবানের জন্য জরুরি । কেননা, ইবনু আব্বাস (রা.) বর্ণিত ‘একদা ইব্রাহিম (আ.) জিজ্ঞেস করলেন:হে আমার প্রতিপালক রোগ কার পক্ষ থেকে? আল্লাহ্ বলেন ‘আমার পক্ষ থেকে’! জানতে চাইলেন ঔষধ কার পক্ষ থেকে? জবাব এলো ‘আমার পক্ষ থেকে’ আবার জানতে চাইলেন তবে চিকিত্সক? জবাব এলো ‘চিকিত্সকের মাধ্যমে ঔষধ পাঠানো হয়’। সবুজ-শ্যামলে ভরা বাংলাদেশ তাই এদেশের যারা শেষ জীবনের শেষ কর্তব্য হিসেবে হজ্বে যান তাদের পক্ষে মরুর উষ্ণতার ধকল সহ্য করা দূরূহ। অথচ তাদেরই অনেকে শুরুতেই রোগকে পাত্তা দেন না, চিকিত্সা নেন না— এটা ইসলামের শিক্ষা নয়। প্রিয়নবী (স.) বলেন ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ্ রোগ ও চিকিত্সা দু’ই পাঠিয়ে দেন, সুতরাং চিকিত্সা গ্রহণ কর’ (আবু দাউদ)। হজ্বের সময় সুস্থতা একািট গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এজন্যই সরকারি উদ্যোগে বিভিন্ন টেস্ট-টিকার ব্যবস্থা করা হয়। অভ্যস্থ জীবনাচারে পরিবর্তন, অধ্যাত্ম আবেগ ও দুর্বল দেহ নিয়ে সুস্থভাবে হজ্ব সম্পাদন করা বিরাট চ্যালেঞ্জ। এবার এর সঙ্গে যোগ হয়েছে ‘মধ্য প্রাচ্যে মার্স কারানো ভাইরাসের প্রকোপ’— এ রোগের কারণে বাংলাদেশ থেকে হজ্ব গমনেচ্ছুদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহবান জানানো হয়েছে। সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে এই ভাইরাস আক্রান্ত হন বহু লোক এবং যার ৫০% মারা যান। এই ভাইরাস শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে ছড়ায়। ক্রনিক রোগে আক্রান্তদের এই রোগে সংক্রমিত হবার ঝুঁকি বেশি। তাই মার্স কারানো ভাইরাস প্রতিরোধে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা সতর্কতা জারি করেছে। সংস্থাটি ক্রনিক রোগ যেমন-হাঁপানি, হূদরোগ, কিডনি ফেইলর রোগীদের এবার হজ্ব পরিহার করা :সৌদি আরবে অবস্থানকালে মাস্ক ব্যবহার করা বারবার সাবান দিয়ে হাত মুখ ধোয়ার পরামর্শ দিয়েছে। হজ্বের সফরে সহসা অসুস্থতার ক্ষেত্রে শরিআ’তের বিধান রয়েছে। বিশেষত:ইহরামকারী তার অসুস্থতা, শত্রুর ভয় বা অন্যকোন কারণে হজ্বের অনুষ্ঠানাদি পালনে অসামর্থ্য হবার আশংঙ্কা থাকলে তার এই দো-য়া পাঠ করা উত্তম ‘ফা-ইন হাবাসানি হাবিসান ফামাহিহলিল হাইসু হাবাসানি অর্থাত্ ‘যদি কোন প্রতিবন্ধকতা আমার হজ্বকে বাধাগ্রস্থ করে তবে হে আল্লাহ্ তুমি আমাকে যেখানেই থামিয়ে দেবে সেখানেই আমার ইহরাম ভঙ্গ হবে ফলে আমি হালাল হয়ে যাবো’। এমন নিয়্যাতের ফলে অসুস্থতা বা অন্যকোন কারণ হজ্বের আরকান পুরো করতে বাধা সৃষ্টি করে যার ফলে ইহরাম পরিত্যাগ করতে হয়— এমন অবস্থায় তাকে কোন ক্ষতিপূরণ বা কাফ্ফারা দিতে হবে না। কেননা, যুবাআ’হ বিন যুবাইর (রা.) এর জিজ্ঞাসা ‘আমি অসুস্থ’ এর জবাবে প্রিয়নবী (স.) বলেন ‘তুমি হজ্বে বের হও (যাও) এবং ইহরামের সময় শর্ত করো— হে আল্লাহ্ ! অসুখ বা অন্য কারণে আমাকে তুমি যেখানেই আটকে (থামিয়ে) দেবে সেখানেই আমার ইহরাম শেষ হবে। আমি তখনই হালাল হয়ে যাবো’ (বুখারি-মুসলিম)। মহান আল্লাহ্ হাজীসাহেবানকে নিরাপদ ও সুস্থ রাখুন সবাইকে হজ্ব করবার সামর্থ্য ও সদিচ্ছা দান করুন আমিন।
