সরকার হজ্ব এজেন্সিস ও হাজী এই তিন পক্ষকে আন্তরিক হতে হবে। এই তিন পক্ষের আন্তরিকতার যখন সমন্বয় হবে তখনই হজ্ব ব্যবস্থাপনা সুন্দর করা সম্ভব হবে। আমরা যদি প্রতিবেশি দেশ ভারতের দিকে তাকাই তাহলে দেখা যাবে যে তাদের হজ্ব প্রনয়ন নীতিমালায় কখনো কোন ঝামেলার মধ্যে পড়তে হয় না।
আমি ব্যক্তিগত ভাবে মনে করি এজেন্সিগুলো যদি সরকার ঘোষিত রেট এর চেয়ে কম না নেয়ার ব্যপারে সোচ্চর হয় এবং কমার্শিয়াল দৃষ্টি ভঙ্গি ত্যাগ করে হাজীদের সেবায় নিজেদের আত্ননিয়োগ করেন তবে হাজীদের সেবা সুনিশ্চিত হবে
এক্ষেত্রে হক্কানি ওলামাদের তত্ত্বাবধানে যে সব এজেন্সি পরিচালিত বা যাদের ফেইজভেলু রয়েছে তাদের মাধ্যমে হজ্ব করা যেতে পারে। বিজ্ঞ আলেমদের তত্ত্বাবধানে থাকলে স্পর্শকাতর ও জটিল মাসলা মাসায়েল সহজেই জানা যায় কোন ধরনের জটিলতায় পড়তে হয় না।
বিমানের সিডিউল বিপর্যয়, থার্ড ক্যারিয়ার ওপেন, না থাকা, টিকিট কালোবাজারি এবং এ বছর নতুন করে যোগ হয়েছে সৌদি মোনাজ্জেম কার্ড পেতে বিলম্ব। উল্লেখিত সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য সরকারকে সচেষ্ট হতে হবে।
আসলে এ বিষয়ে অনেক পরামর্শ রয়েছে যা স্বল্প পরিসরে দেয়া সম্ভব নয়। তবে হাজিদের যে কথাটি গুরুত্ব দিয়ে বলতে চাই তাহলো যখনই আাাপনি নিয়ত করলেন যে আপনি হজ্বে যাবেন, তখন থেকেই কিন্তু আপনি আল্লাহর মেহ্মান। তাই হজে যাওয়ার পূর্বে খুব ভালো ভাবে হজ্বের নিয়ম কানুন শিখে নেবেন, প্রশিক্ষন নেবেন এবং তখন থেকেই আপনি আল্লাহর রাস্তায় বের হচ্ছেন সে রকম মন মানসিকতা লালন করতে শুরু করবেন। মাসলা মাসায়েল গুলো জেনে নেয়ার চেষ্টা করবেন। মক্কা-মদিনার দর্শনীয় স্থান গুলো সম্পর্কে জেনে নেবেন। কারণ আপনার এজেন্সি যখন আপনাকে সেখানে ঘুরাতে নিয়ে যাবে তখন মনের মাঝে ফিলিংসটা কাজ করবে। সব সময় পরিচয়পত্র, মোয়াল্লেম কার্ড, কব্জী বেল্ট সাথে রাখবেন। মনে রাখবেন আপনি হরিয়ে গেলে এগুলোর মাধ্যমে আপনাকে আপনার ঠিকানায় পৌঁছে দেয়া হবে।
বৃদ্ধ বয়সে হজ্ব করতে গিয়ে অনেক হাজি শুদ্ধভাবে হজ্ব করতে পারেন না বিশেষ করে আমাদের দেশের ভ্রান্ত ধারনা হলো যে শেষ বয়সে সব গুনাহর জন্য ক্ষমা চেয়ে নিব, আরো একটু বয়স হোক তারপর হজ্বে যাই, ছেলে মেয়ে ছোট, তারা এখনো মানুষ হয়নি, কার কাছে বাচ্চা রেখে যাবো ইত্যাদি কথা বলে অনেকেই হজ্বে যান না। যারা এসব বলেন তাদের কে বলি, প্লিজ অর্থ সম্পদও শরীর ঠিক থাকতে থাকতে হজ্ব করে আসুন। কারণ আপনি জানেন না হয়তো এক সময় আপনার অর্থ থাকলে ও আপনার স্বাস্থ্য থাকবে না অথবা স্বাস্থ্য থাকলে ও অর্থ নাও থাকতে পানে। আর হজ্ব্ব ফরজের পর হজ্ব না করে মারা গেলে আছে ভয়ানক শাস্তি। আর আপনি যদি ইচ্ছা করেন যে, যত যাই হোক আমি হজ্বে যাবো এবং আল্লাহর সাহায্য চান তাহলে আল্লাাহ আপনার প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে দিয়ে হজ্ব পালানের ব্যবস্থা করে দেবেন।
