তোমাকে সময় দেব,
দেব না সময়ের অবসর;
আমাকে দিয়েছ পারাপার, গহন তিমির,
বজ্রপোড়া মেঘেদের চলাচল।
পারাপারে ভেঙে যায় ঊর্মিদের আনন্দবিহার;
তীর খোঁজা চোখ কখনো দেখেছ তুমি?
সকলেই কমবেশি ভাসমান, একাকী নাবিক।
বলেছিলে, ঘড়ি ছাড়া দেখা হোক আমাদের;
তুমি যত্নে পরেছিলে রাত্রি আর দিন,
চলমানতার উদারগভীরে হেঁটে
সাবলীল চলে গেছে লালনীল যুবকযুবতী।
এইখান থেকে উঠে গেছে খেয়াঘাট,
এইখানে ঘুমহীন শ্রীপুর স্টেশন;
চাঁদ উঠেছিল মহাস্থানগড়ের অদূরে
তুমি ওইখানে খুলেছিলে দিন,
প্রথম স্তনের নারী
কবিতার ছবি আর ব্যথা-আনন্দের ঋণ,
অতলে দেখেছি আমি রূপের উদয়;
ঘাসের ভেতর জলবায়ু ছিল দ্রাঘিমাচঞ্চল।
প্রেম, কখনো হঠাত্ রৌদ্রজ্বলা হেম;
ভালো লেগেছিল মুগ্ধ বাহু, সংহতির সংগীত,
ঋতুদের অবহেলা বলেছিল : কী উজ্জ্বল সংবিত্!
সে আমার পাশে কিন্তু সঙ্গে নয়,
কেন মনে হলো?
পাশাপাশি যাই, শুধু যাই;
কোন পথ শেষ হলে বলা যায়,
পড়শি আমার, সকল অচেনা পথ আমাদের;
চলো যাই।
অন্ধকারে গড়ে তুলি মুখ,
কেবল অপেক্ষা শিখি;
একজন দাঁড়িয়ে রাস্তায়,
শুধায় ভোর-জাগা স্বরে :
কোন প্রহরে পাখিরা গান গায়?
ছায়া পুড়ে যেতে যেতে যাচ্ছে খুঁজিতে উত্তর।
তুমি নেই, শুরু হলো নদী হারাবার যুগ;
মহেঞ্জোদারোর ঘাস উঠোনে পৈঠায়।
স্মৃতিসত্তা খুলে
ওইসব বহতাকে আমি বলিনি বিদায়।
দূরত্বের ছেঁড়াগুলি জোড়া দাও,
অনেক চুম্বন, দেবী, রয়ে গেছে বাকি।
হে জয়, হে ক্ষতি
বেঁধেছিলে ঘর এক বাক্যতায়।
