এ ধরনের শোকগাঁথা লিখতে ইচ্ছে হয় না। অভিমানে চলে যাওয়া কিংবদন্তির সংখ্যা যেন দিনকে দিন বাড়ছে। আক্ষেপটা যেন এখানেই। মৃত্যুর সময় কেন তাকে ‘চিকিত্সার অভাব’ এই শব্দটি ব্যবহার করতে হবে। এরপরও চলচ্চিত্রের এই নবাবকে দেখতে ছুটে গিয়েছেন তার কাছের মানুষেরা। গিয়েছিলাম আমিও। ইমপ্রেস টেলিফিল্মের ব্যানারে তার একটি বড়মাপের চলচ্চিত্র করবার কথা। ইতিহাসভিত্তিক। ক’বছর আগে এমনটাই কথা চলছিল। বেশ ক’বার আমরা বসেছিলাম। সিরাজউদ্দৌলাকে নতুন প্রজন্মের কাছে আরও কীভাবে আনা যায়। উদ্দেশ্যটা ছিল এমনই। এরপর গল্প বাছাই, গবেষণা এরই মাঝে হঠাত্ অসুস্থ হয়ে গেলেন। চলচ্চিত্রের এই উজ্জ্বল অধ্যায়কে আমরা আজীবন সম্মাননার ভেতর দিয়ে নিজেদের ছোট্ট দায়িত্ব হয়তো পালন করতে পেরেছি। কিন্তু তার এই মহামূল্যবান চলচ্চিত্র আর সেলুলয়েডে বন্দি হাজারও জীবন্ত মুহূর্ত। সেগুলো সংরক্ষণ করাটা আমাদের জন্য এখন সবচেয়ে জরুরি। সর্বশেষ মাত্র কিছুদিন আগেই চ্যানেল আইয়ের দর্শকদের সাথে একান্ত আলাপচারিতায় অংশ নেবেন বলে সম্মতি দিলেন। কিন্তু নবাবের আসন কীভাবে চ্যানেল আইয়ের স্টুডিওতে করব। এমন ভাবতেই সিদ্ধান্ত নিলাম চ্যানেল আই তারকাকথন এবারে হবে এফডিসি চত্বরে। সেখানে সরাসরি দর্শকদের সাথে কথা বলবেন তিনি। সরাসরি আমরা সম্প্রচার করব। বেশ কিছুক্ষণ প্রাণোচ্ছ্বলভাবে কথা বলছিলেন। সর্বশেষ আমার দিকে তাকিয়ে বললেন আমার আরও কিছু বলার আছে। এই বাক্যটুকু বলেই যেন থমকে গেলেন। হয়ে গেলেন নির্বাক! আমরাও যেন বাকরুদ্ধ হয়ে গেলাম। মনের ভেতর বড় জানার স্বাধ হলো নবাবের কী বলার ছিল! এরপর অসুস্থতা যেন তাকে ঘিরে ধরল। প্রকৃতির নিয়মে সবাইকে চলে যেতে হয়। কিন্তু এমন অভিমানী বিদায় দিতে যেন আমাদের বিধে এই বিবেকের বুকে। নবাবের বিদায়েও তেমনই যেন বাধছে। এমন গুণীজন শুধু দেশের জন্য দিয়ে যান। দেশ মাতৃকা তাকে আকণ্ঠ পান করে... সুধা ছড়ায় সারা দেশের লক্ষ কোটি চোখে প্রাণে। তার শেষ যাত্রায়... অসুস্থ সময়ে যারা যেতে পারেননি, আমি জানি তারাও বিবেকের এক অনন্ত দংশনে অনুতাপ বেদনায় থাকবেন। চলচ্চিত্রের নবাব... এক চলচ্চিত্র প্রেমিক হিসেবে তোমাকে তাই শেষবারের মতো স্যালুট যেমন মাথা উচু করা দৃপ্ত উচ্চারণে ছিল তোমার অভিনয়, ঠিক সেভাবেই বিদায় নিলেন। অভিমান, আর অনুতাপের গল্পগুলো তাই আপনার না। সব আমাদের করুণ ব্যর্থতা। ক্ষমা করবেন। অনন্তকালের শুভকামনায়। শ্রদ্ধা আপনার প্রতি।
