সহকর্মী তারকাদের শোকগাঁথা

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৩৩
নায়ক রাজ রাজ্জাক :এইতো সেদিন হাসপাতালে আনু ভাইয়ের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। হাসপাতালে যাওয়ার পর আমি তাকে বলছিলাম, ‘আনু ভাই আমাকে চিনতে পারছেন?’ জবাবে আনু ভাই বলেছিলেন কেন চিনতে পারব না।’ তিনি আমাকে চিনতে পেরেছিলেন। আমি অবাক হলাম তিনি আমার কুশলাদি নিলেন। শুনেছি চলচ্চিত্রের খুব কম মানুষই তার মৃত্যুর খবর শুনে তাকে শেষ দেখা দেখতে গিয়েছিলেন। আমরা সত্যিই দিন দিন কেন যেন নিজের জায়গার প্রতি, নিজের মানুষগুলোর প্রতি ভালোবাসা হারিয়ে ফেলছি। এটা সত্যিই খুব অন্যায় হচ্ছে। আনু ভাই চলে গেছেন সত্যি, কিন্তু তিনি আমাদের চলচ্চিত্রে যে অবদান রেখে গেছেন তা কখনোই ভুলবার নয়। অনেক অভিমান নিয়ে চলে গেছেন তিনি। তার সাথে আমি সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘আবির্ভাব’ ছবিতে প্রথম অভিনয় করি। এরপর বহু ছবিতে অভিনয় করেছি। আমার নির্দেশত ‘পাগলা রাজা’ ছবিতেও তিনি অভিনয় করেছিলেন। সব মিলিয়ে তার সাথে আমার সম্পর্কটা ছিলো আত্নিক সম্পর্ক। দোয়া করি আল্লাহ যেন তাকে বেহেস্ত নসিব করেন। ববিতা :আনু ভাই নেই এটা আমি বিশ্বাসই করতে পারছি না। কারণ পনেরো দিন আগে আমি, সুচন্দা আপা এবং চম্পা একসাথে তাকে দেখতে হাসপাতালে গিয়েছিলাম। তার শারীরিক অবস্থা এতটা খারাপ ছিল না যে তাকে এভাবে চলে যেতে হবে। শুনেছিলাম প্রধানমন্ত্রী তার উন্নত চিকিত্সার জন্য দেশের বাইরে পাঠাবেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা আর হলো না। আশায় ছিলাম, তিনি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে যাবেন। আমরা পরিকল্পনাও করছিলাম যে এবার ৬ নভেম্বর তার জন্মদিনটি বেশ ভালোভাবে পালন করব। আনু ভাই ছিলেন সত্যিকার অর্থের মনেপ্রাণে একজন শিল্পী। চলচ্চিত্রে অনেকেই কাজ করেন জীবনের প্রয়োজনে। কিন্তু আনু ভাই অভিনয় করতেন অভিনয়কে ভালোবেসে। যেটা এই সময়ের শিল্পীদের মধ্যে নেই বলা চলে। আমার সৌভাগ্য যে আমি আনু ভাইয়ের নায়িকা হতে পেরেছিলাম। শবনম :এটা আমার দুর্ভাগ্য যে মাত্র একটি ছবিতে আমি আনোয়ার ভাইয়ের সাথে অভিনয় করেছি। এত গুণী, উদার মনের মানুষের সাথে আমি অভিনয় করার সুযোগ পেয়েছিলাম যেন এটাই ছিল আমার জীবনের অন্যতম অর্জন। খুব কম ছবিতে আমি অভিনয় করেছি। একজন আনোয়ার হোসেন বাংলাদেশের ইতিহাস। যদি কখনও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র নিয়ে গবেষণা হয় তাহলে কোনোভাবেই তার নামকে এড়িয়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। একজন আনোয়ার হোসেন আমাদের সবার পথপ্রদর্শক ছিলেন। যগে যুগে জন্মায়না। তার এই চলে যাওয়ায় যে অপূরণীয় ক্ষতি হলো তা সত্যিই পূরণ হওয়ার নয়। আমি তার আত্নার মাগফেরাত কামনা করছি। আল্লাহ বেহেশত নসীব করুন। সুচন্দা :একজন আনোয়ার হোসেনের মৃত্যুতে চলচ্চিত্রের সোনালি যুগের অবসান হলো। তিনি ছিলেন মাস্টার অভিনেতা। বর্তমান প্রজন্ম , আগামী প্রজন্মের জন্য তিনি সবার কাছে যুগের পর যুগ একটি ইনস্টিটিউট হয়ে থাকবেন। নতার আনু ভাই আমার কাছে সবসময়ই ছিলেন একজন অভিভাবকের মতো। তাকে কখনোই আমি, আমরা পরিবারের বাইরের কেউ বলে ভাবিনি কখনও, তিনিও ভাবেননি। তার সাথে খুব বেশি ছবিতে যে অভিনয় করেছি তেমনটি নয়। তবে যে কটি ছবিতে অভিনয় করেছি তারসবগুলোই দর্শকের হূদয়ে ঠাঁই করে নিয়েছে। আনু ভাইয়ের মৃত্যুতে আজ চোখের সামনে কতো যে স্মৃতি ভেসে উঠছে তা বলে বুঝাতে পারব না। একজন পরিচালক হিসেবে হাজার বছর ছবির জন্য আমি শ্রেষ্ঠ পরিচালকের পুরস্কার নিয়েছিলাম আনু ভাইয়ের হাত থেকেই। তার বেহেশত নসিব হোক এই কামনাই করি। সোহেল রানা :আনু ভাইকে নিয়ে অনেক কথাই বলার আছে। অনেক কিছুই লেখার আছে। খুব বেশি কিছু আজ বলবনা। শুধু এতটুকুই বলব আনু ভাইয়ের মতো একজন উঁচু মাপের অভিনেতার যেভাবে যাওয়ার কথা ছিল সেভাবে তিনি যেতে পারেন নি। শিল্প, সমাজ ব্যবস্থার প্রতি অনেক অভিমান ও ক্ষোভ তার। আমাকে অনেক স্নেহ করতেন। আল্লাহ তাকে বেহেশত নসীব করুন।