হবিগঞ্জ-লাখাই সড়কের একাংশ অলওয়েদার রোড না হওয়ায় জনসাধারণকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এ সড়কের বামৈ-স্বজনগ্রাম অংশে বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যায়। বর্তমানে জেলা সদর থেকে সড়কের প্রান্ত সীমানায় অবস্থিত স্বজনগ্রাম পর্যন্ত যেতে জনসাধারণকে ট্যাক্সি, অটোরিকশা ও টেম্পু ছাড়াও নৌকায় ভ্রমণ করতে হয়। এতে অর্থ ও সময়েরও অপচয় হয়। জানা যায়, জেলা সদর হতে ২৯ কিলোমিটার দূরবর্তী লাখাই উপজেলা সদর ১৯৮৩ সালে কালাউক এলাকায় স্থানান্তর করা হয়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ দীর্ঘদিনে হবিগঞ্জ থেকে বামৈ পর্যন্ত সড়কের ২০ কিলোমিটার অংশ পাকা করে। পরবর্তীতে অপেক্ষাকৃত নিচু এলাকা বামৈ থেকে স্বজনগ্রাম পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার অংশ সাব-মার্জেবল সড়ক হিসাবে নির্মাণ করা হয়। শুকনো মৌসুমে সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করলেও, বর্ষাকালে পানিতে ডুবে যায়। তখন নৌকা ছাড়া যোগাযোগের আর কোন মাধ্যম থাকে না। এ সময় সড়ক পথে জনসাধারণের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হওয়া ছাড়াও পণ্য পরিবহনে সমস্যা দেখা দেয়।
কাজীপুরে ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী
কাজীপুর (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় কাজীপুরের বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। বন্যার পানিতে এখানকার ১০টি ইউনিয়নের ৩৭টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। এসব গ্রামের প্রায় ৮ হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে কষ্টে দিনযাপন করছে। বন্যাকবলিত গ্রামের অনেকেই ঘরবাড়ি ছেড়ে বিভিন্ন উঁচুস্থানে আশ্রয় নিয়েছে। বন্যাকবলিত এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় ২৭টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। ১ হাজার ৪০ হেক্টর জমির বিভিন্ন ফসল বন্যার পানিতে নিমজ্জিত। নিমজ্জিত ফসলের মধ্যে ৬৮০ হেক্টর উফসি, ৩শ’ হেক্টর মাশকলাই, বীজতলা ৫০ হেক্টর, ১০ হেক্টর আমন ধান রয়েছে বলে স্থানীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে। বন্যার পানির প্রবল তোড়ে চলতি বছর ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত বাঐখোলা গ্রামের বেড়িবাঁধটি ভেঙ্গে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন স্থানে ৫৪ কিলোমিটার কাঁচা-পাকা রাস্তাসহ ৪ হাজার ৬২১টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার্তদের জন্য ১৮ টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে।
