খুন আতঙ্কে নাঙ্গলকোটবাসী

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৩৩
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে একের পর এক খুনের ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। খুন অনেকটা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। দৈনন্দিন আইন-শৃৃৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়ে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। রাজনৈতিক পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও এখানে খুনের ঘটনা অনেক বেড়ে গেছে। পারিবারিক বিরোধ ও সামাজিক অস্থিরতা থেকে এমনটি হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। জানা যায়, গত ২১ আগষ্ট বুধবার বাহুড়া গ্রামের মরহুম হাজী মোকসুদুর রহমানের ছেলে তাজুল ইসলাম (৫০) রাতে ওমান থেকে বাড়ি আসলে একদল সশস্ত্র ডাকাত ডাকাতি করার জন্য তার বাড়িতে ঢুকে। ডাকাতদের সাথে বাকবিতণ্ডা করলে তারা তাজুল ইসলামকে উপর্যুপরি ছুরিকাঘাত করে খুন করে। ১৬ আগষ্ট উপজেলার রুপাবেরী গ্রামে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিবদমান দু’ভাইয়ের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষে আবদুল মজিদের ছেলে হারুনুর রশীদ নিহত হয়। ২২ জুলাই উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে মাদ্রাসার ছাত্র মেহেদী হাছানকে (৮) পূর্ব শক্রতার জের ধরে তার জ্যেঠাতো ভাই আলাউদ্দিন শ্বাসরোধে হত্যা করে। ১২ জুলাই রাতে বাঙ্গড্ডার শ্যামপুর গ্রামের মহিনউদ্দিনের মেয়ে নুরুন নাহার মনিকে (২৫) যৌতুকের দাবিতে তার স্বামী আবদুল কুদ্দুছ তুহিনসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজন গায়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে সে মারা যায়। ৬ জুলাই নাঙ্গলকোট পৌরসভার দক্ষিণ হরিপুর গ্রামে পল্লী বিদ্যুত্ সমিতির নিরাপত্তা প্রহরী মোসলেমউদ্দিনের স্ত্রী তার ১৯ দিনের সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করে। ২৫ জুন রাতে উপজেলার জয়াগ গ্রামের কামাল হোসেন যৌতুকের দাবিতে পরিবারের লোকজন নিয়ে তার স্ত্রী ছালেহা বেগমকে(৩৫)নির্যাতন করে হত্যার উদ্দেশ্যে ইনজেকশনের সিরিঞ্জে এসিড ঢুকিয়ে শরীরে পুশ করে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করার পর সে মারা যায়। ৩০ এপ্রিল দৌলখাঁড় গ্রামের ফুল মিয়ার ছেলে হারুনুর রশিদ যৌতুকের দাবীতে তার স্ত্রী নাজমুন্নাহার মুক্তাকে (২৩) কুপিয়ে হত্যা করে। ১২ এপ্রিল উপজেলার শুভপুর গ্রামের আবদুস সোবহানের ছেলে লিটন মিয়া পরিবারের লোকজন নিয়ে তার স্ত্রী পাখি বেগমকে (৩০) গলাটিপে হত্যা করে। সমপ্রতি বাঙ্গড্ডা ইউপির আঙ্গুলখোঁড় গ্রামের আবদুল মালেকের ছেলে মসজিদের মোয়াজ্জেম আবদুর রহিমকে (২৫) পূর্ব শত্রুতার জের ধরে খুন করা হয়। সাতবাড়িয়া গ্রামে সালিশ বৈঠকে স্থানীয় মেম্বার আবদুল মোতালেবের উপর অতর্কিত হামলা চালালে চিকিত্সাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। এসব হত্যাকাণ্ডের ব্যাপারে থানায় মামলা হলেও ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের গ্রেফতারে তত্পরতা না থাকায় দিন দিন অপরাধ প্রবণতা আরো বাড়ছে বলে জনসমাজ মনে করেন।