গণফোরাম সভাপতি ও বিশিষ্ট আইনজীবী ড. কামাল হোসেন বলেছেন, সুপ্রিম কোর্ট পঞ্চদশ সংশোধনী করতে বলেনি। আদালত রায়ে বলেছেন, দশম এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হতে পারে। শনিবার ‘বাংলাদেশ জাতীয় আইনজীবী সমিতি’র এক সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ড. কামাল একথা বলেন।
তিনি বলেন, পূর্ণাঙ্গ রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেছে কোনো কিছু বেআইনি হলেও জাতীয় স্বার্থে তা যদি প্রয়োজন হয়, তবে সেটিই বৈধ ও সঠিক। আদালতের রায়ে কোথাও বলা নেই যে সরকার আছে সে সরকারের অধীনেই দশম নির্বাচন হবে।
ড. কামাল বলেন, সংবিধান সংশোধনের জন্য ১৫ সদস্যের বিশেষ কমিটি হয়েছিল। কমিটির সদস্যরা বলেছিলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকা দরকার। এটি নিয়ে এক বছর আলোচনাও হয়। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা থাকবে। প্রত্যেকে আলাদা আলাদাভাবে যুক্তি দিয়েছিলেন। অ্যামিকাস কিউরি হিসাবে আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছিলাম। অ্যাটর্নি জেনারেলও তত্ত্বাবধায়ক অসাংবিধানিক নয় বলে আদালতে মত দিয়েছিলেন। কিন্তু তারপরও এই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করা হল।
তিনি বলেন, এদেশের মাটিতে কেউ স্বেচ্ছাচারিতা করে পার পায়নি। জনগণের সম্মতি ছাড়া কেউ অন্য কোনো কায়দায় যদি সরকার গঠন এবং ক্ষমতা দখল করতে চায়, তাদের ভয়াবহ পরিণতি হবে।
সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন ভবনের অডিটরিয়ামে আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন সাবেক প্রধান বিচারপতি মোহাম্মদ ফজলুল করিম। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সভাপতি অ্যাডভোকেট আহম্মদ আলী। বক্তব্য রাখেন সংগঠনের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ খসরুজ্জামান, ব্যারিস্টার বদরুদ্দোজা বাদল, এডভোকেট আখতার-উল ইসলাম, ঢাকা বারের সম্পাদক খোরশেদ মিয়া আলম প্রমুখ।
