যমুনায় বিলীন চৌহালী উপজেলা পরিষদ ভবন

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০৪
টানা ১২টি বছর যমুনার ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলেও দীর্ঘ দিনেও টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ড যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অবশেষে সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী চৌহালী উপজেলা পরিষদ ভবন যমুনা নদীর ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। তবে তা রক্ষায় অন্তত ৫০ কোটি টাকা সরকারের টাকা গচ্ছা গেছে। তাই শুধু উপজেলা পরিষদ নয় গত কয়েক বছরে পাশের খাসধলাই, মিস্ত্রিগাঁতী, খাসকাউলিয়া, জোতপাড়া গ্রামের প্রায় ৫ হাজার ঘরবাড়ি নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। উপজেলা প্রকৌশলী নাসির আহমদে জানান, গত ১ সপ্তাহ ধরে, যমুনার পানি বাড়া এবং কমার সাথে সাথে সিরাজগঞ্জের চৌহালীতে যমুনায় ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়ে দেখা দেয় ভাঙ্গন। আর তা পুরো আঘাত হাতে উপজেলা পরিষদ চত্বরে। এর কারণে শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত পুরো উপজেলা পরিষদ নদীতে দেবে যায়। প্রায় ৫ কোটি টাকা মূল্যের এই উপজেলা পরিষদে অন্তত ১২টি সরকারি দপ্তরের কাজ চলতো। যার মধ্যে ইউএনও, উপজেলা চেয়ারম্যান, এলজিইডি, কৃষি, প্রাথমিক, মাধ্যমিক, মত্স্য, পরিসংখ্যান, যুব অফিস রয়েছে। এসব অফিসের কাজ পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভ্রাম্যমাণভাবে চালানো হচ্ছে। এদিকে এখন শুধু দাঁড়িয়ে আছে প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভবন। তাও মুহূর্তের মধ্যে বিলীন হয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া থানা পুলিশের অফিসও একই অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। পাশাপাশি ঘর-বাড়ি আর আবাদি জমিও। টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জ্যোর্তি প্রকাশ ঘোষ জানান, এসময়টা যমুনা গতি প্রকৃতি নির্ণয় করা খুব কঠিন। তারপরও আমরা সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালাচ্ছি ভাঙ্গনের পরিধির বিস্তৃতি যাতে না ঘটে। এদিকে গত ২৪ ঘন্টায় যমুনার পানি ২৪ সেন্টিমিটার কমে তা বিপদ সীমার ২৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ভাঙ্গুড়ার ২৭ টি গ্রাম পানিবন্দি ভাঙ্গুড়া (পাবনা) সংবাদদাতা জানান,বন্যায় পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমণিষা, দিলপাশার ও খানমরিচ ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ায় ২৭টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া গত কয়েকদিনে স্থানীয় গুমানি ও বড়াল নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় ৬৫ হেক্টর জমির রোপা আমন তলিয়ে বিনষ্ট হয়েছে বলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা দেবেশ চক্রবর্তী জানিয়েছে। এলাকার কৃষকরা তাদের গবাদি পশু নিয়ে দুরাবস্থার শিকার হয়েছেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাজেদা সরকার জানান, চল্লিশ দিনের ‘অতি দরিদ্রদের কর্মসংস্থান কর্মসূচি’-র (ইজিপিপি) জন্য অর্থ বরাদ্দ পাওয়া গেলেও বন্যার কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে না।