বগুড়া শেরপুরে সামাজিক বনায়ন ও নার্সারীর টিপি চেকের (ট্রানজিট পাস) নামে ব্যাপক চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। ফলে কাঠ ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছে। হ্যামার মেরে টাকা নেয়ার সরকারি নিয়ম না থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। অফিসিয়াল খরচ ও কর্মচারীদের আপ্যায়নের নামে এ টাকা নিলেও যার কোন রশিদ প্রদান করা হয় না।
ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কটি উত্তরাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হওয়ায় প্রতিদিন বেশ কিছু কাঠ বোঝাই গাড়ী চলাচল করে। মহাসড়কের খামখেয়ালী হোটেলের সামনে ও ধুনট মোড় নামক স্থানে প্রতিদিন সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত স্থানীয় বনবিভাগের মালী আবু হানিফের নেতৃত্বে ট্রানজিট পাসের নামে এ চাঁদা আদায় করা হয়। তারা দিনে সূর্যের আলোয় নার্সারীর মালী ও রাতের আঁঁধারে রেঞ্জ অফিসার সেজে দিনের পর দিন এসব চাঁদা আদায় করছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেশ কিছু কাঠ ব্যবসায়ী জানান, প্রতিটি গাড়ীতে হ্যামার মারার পর সর্বনিম্ন তিনশ’ টাকা থেকে সর্বোচ্চ এক হাজার টাকা আদায় করা হয়। কাঠ ব্যবসায়ীরা চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকার করলে তাদের ওপর শুরু হয় নানা ধরনের হুমকি। তাদের পরিবহনকৃত কাঠগুলো চোরাই বলে থানায় নেয়ার হুমকিসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হয়। এ সব ঝক্কি-ঝামেলা থেকে রেহাই পেতে ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে বাধ্য হয়। এ ব্যাপারে মালী আবু হানিফ ও শাহজাহানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, রেঞ্চ কর্মকর্তার নির্দেশে তারা ট্রানজিট পাসের টাকা উত্তোলন করে। সরকারি নির্দেশনার কথা বলা হলে তারা কোন সদুত্তর দিতে পারে না। এ ব্যাপারে শেরপুর সামাজিক বনায়ন ও নার্সারীর রেঞ্জ অফিসার মির্জা মাহবুব-উল-আলমের সাথে, মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তাদের বিরুদ্ধে আনিত সকল অভিযোগ অস্বীকার করে।
