‘বাংলাদেশের সংগীতে পাইরেসি :সমস্যা ও সমাধান’ শীর্ষক এক সেমিনারে অডিও পাইরেসি রোধে প্রযোজকদের কথিত সংগঠন ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্টের পরীক্ষামূলক অবৈধ এজেন্টের মাধ্যমে মেমোরি কার্ডে গান ডাউনলোডের বিষয়টি নিয়ে আবারও তীব্র নিন্দা জানালেন বক্তারা। শনিবার বিকাল ৪টায় ধানমন্ডির ইএমকে সেন্টারে আয়োজিত এক সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী ও ব্যক্তিরা এসব কথা বলেন। এই সেমিনারের আয়োজন করে বাংলাদেশ কপিরাইট অ্যান্ড আইপি ফোরাম। সহযোগী হিসেবে ছিল বাংলাদেশ মিউজিক্যাল ব্যান্ডস অ্যাসোসিয়েশন (বামবা) এবং এলসিএস গিল্ড।
অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সুরকার ও এলসিএস গিল্ডের সভাপতি আলাউদ্দিন আলী, বামবা’র সভাপতি ও ব্যান্ড শিল্পী হামিন আহমেদ, সহ-সভাপতি ফুয়াদ নাসের বাবু, শিল্পী এন্ড্রু কিশোর, শুভ্রদেব, কপিরাইট বিশেষজ্ঞ মনজুরুর রহমান, কপিরাইট অ্যান্ড আইপি ফোরামের চেয়ারম্যান কাজী জাহিন হাসান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ব্যারিস্টার এবিএম হামিদুল মিজবাহ, বামবা’র সাবেক সভাপতি ও ব্যান্ড শিল্পী মাকসুদুল হক প্রমুখ।
সেমিনারে বক্তারা ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্টের মতো কোম্পানির বৈধতা নিয়ে বিশদ ব্যাখ্যা প্রদান করেন। বামবা সভাপতি হামিন আহমেদ তাদের লিখিত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এ ঘটনায় এতদিনে আসল থলের বেড়াল বেরিয়ে এসেছে। দেশবাসী প্রত্যক্ষ করল শীর্ষ প্রযোজনা সংস্থা অর্থাত্ ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্টের চেয়ারম্যান এ.কে.এম আরিফুর রহমান (লেজার ভিশন), এর অন্যতম উদ্যোক্তা ও ভাইস চেয়ারম্যান হাসান মতিউর রহমান (চেনা সুর), সংগীতার কর্ণধার সেলিম খান, সিডি চয়েজের এমদাদ সুমন, অনুপম রেকর্ডিং মিডিয়ার আনোয়ার হোসেন, দোয়েল প্রোডাক্টের কর্ণধার জানে আলম, সোনালি প্রোডাক্টের ইকবাল হোসেন, ফাহিম মিউজিকের কর্ণধার মনির হোসেনই আসল পাইরেটর। এরা এতদিন গোপনে অবিরাম পাইরেসি করেছে। সম্প্রতি পাইরেসিকে দেশব্যাপী বৈধতা দিতেই নতুন কৌশল করেছে। তারা সাংবাদিক সম্মেলনে নিজমুখেই স্বীকার করেছে যে, দেশব্যাপী ছড়িয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ পাইরেটদের মধ্য থেকে ওয়ার্ল্ড এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে বিভিন্ন প্রযোজকদের একমাত্র অবৈধ অনুমতিক্রমে শর্ত নেওয়া গানগুলোই শুধু সরবরাহ করা হচ্ছে। এই কৌশলে প্রধান প্রযোজকদের পাইরেসিকে বৈধতা দেওয়া কপিরাইট আইনের সম্পূর্ণ লঙ্ঘন। আইন অনুযায়ী এদের পাইরেসি বন্ধ করতে বামবা এবং এলসিএস গিল্টের পক্ষ থেকে উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। বক্তারা বলেন, ‘পাইরেসি একটা নিষিদ্ধ কাজ। পাইরেটদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেশব্যাপী অভিযান পরিচালনা করছে। এই ধরনের স্বীকৃত পাইরেসি বন্ধ না করলে, শীর্ষ প্রযোজনা সংস্থার কর্ণধাররাও গ্রেফতার এড়াতে পারবেন না।’
বিশিষ্ট সুরকার ও এলসিএস গিল্ডের সভাপতি আলাউদ্দিন আলী বলেন, ‘আইনের চোখে দেশের শীর্ষ প্রযোজনা সংস্থার মালিকগণ এখন পাইরেট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। আমরা ইতোমধ্যেই তাদের মেমোরি কার্ডে কথিত এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে গান ডাউনলোড না করতে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছি। অনতিবিলম্বে তারা পাইরেসি বন্ধ না করলে, এদের প্রত্যেককেই আইনের আওতায় আসতে বাধ্য করা হবে।’
