হাওয়া থেকে পাওয়া সুন্দরী!

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৫৮
এ মাসের ২৮ তারিখ ইন্দোনেশিয়ার বালিতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতা মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৩। এ প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দেশ একজন করে প্রতিনিধি পাঠায়। এই প্রতিনিধি হন সেই দেশের নির্বাচিত বর্ষসেরা সুন্দরী। ইন্দোনেশিয়ায় শুরু হয়েছে সুন্দরীদের মিলনমেলা। তারা বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নিচ্ছেন। বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার ওয়েবসাইটে প্রত্যেক সুন্দরীর বিস্তারিত পরিচয় দেয়া হয়েছে। দেয়া হয়েছে তাদের ব্যক্তিগত পরিচয়, শিক্ষা, পছন্দ ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু গোল বেঁধেছে প্রতিযোগিতায় উজবেকিস্তান থেকে অংশ নেয়া সুন্দরী রাখিমা গানিয়েভাকে নিয়ে। আয়োজকদের খাতায় তার পরিচয় তিনি মিস উজবেকিস্তান-২০১৩। বয়স ১৮ বছর। তিনি সুন্দরী, চপলা, ভ্রমণপিয়াসী। ভালোবাসেন সঙ্গীত। পড়তে ভালোবাসেন চেকভ, দস্তয়েভস্কি, তলস্তয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করে হতে চান আইনজীবী। তার আত্মবিশ্বাস, এবারের মিস ওয়ার্ল্ড শিরোপা জিতে তিনি বিশ্বের সামনে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন। দেশের মুখ উজ্জ্বল করবেন ভালো কথা। কিন্তু সমস্যা হলো, যে দেশের মান ইজ্জত বাড়ানোর জন্য তিনি প্রতিযোগিতায় নেমেছেন সেই উজবেকিস্তানই যে তাকে চিনতে পারছে না! দেশটির প্রশাসন বলেছে, ওই মেয়েটিকে তারা চেনে না! মুসলিম প্রধান এই দেশে সেরা সুন্দরী নির্বাচন করার প্রশ্নই ওঠে না। তাই ‘মিস উজবেকিস্তান-২০১৩’ শিরোপা নিয়ে কাউকে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ প্রতিযোগিতায় পাঠানো হয়নি। ‘মিস উজবেকিস্তান’ নামে কোনো প্রতিযোগিতাও দেশটিতে অনুষ্ঠিত হয় না। তাহলে কে এই রহস্যময়ী সুন্দরী? উজবেক সংস্কৃতি ও ক্রিড়া মন্ত্রণালয় এবং নারী বিষয়ক জাতীয় কমিটি তন্ন তন্ন করে খুঁজেও তার পরিচয় বের করতে পারেনি। তারা সরাসরি বলে দিয়েছে, ওই মেয়েটিকে উজবেকিস্তান বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় পাঠায়নি। তাহলে কি রাখিমা হাওয়া থেকে এলেন! সারা বিশ্ব যেখানে টিভি চ্যানেল ও পত্রপত্রিকার মাধ্যমে নজর রাখছে সেখানে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতার মতো একটি আসরে একটি দেশের প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নিয়ে মিথ্যাচারিতা করা যায়? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা উজবেকিস্তান। দেশটির প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা ঘাম ছুটিয়ে চলেছেন মেয়েটির পরিচয় খুঁজে বের করার জন্য। দেশের বড় বড় মডেলিং এবং ইভেন্ট এজেন্সিগুলোর কর্মকর্তারাও বার বার চোখ কঁচলেও চিনতে পারছেন না রাখিমাকে! রাখিমা কিভাবে এই প্রতিযোগিতায় তালিকাভুক্ত হলেন, এখন এই বিষয়টিই হয়ে দাঁড়িয়েছে আয়োজকদের কাছে মিলিয়ন ডলারের প্রশ্ন। তারাও তাজ্জব বনে গেছে এই সুন্দরীকে নিয়ে। তার পরিচয় বের করার ব্যর্থতার দায় তাদের উপর বর্তাবে তাই মুখে কুলুপ এটে আছেন তারা। রাখিমার ফেসবুক পেজও ‘ভক্তদের’ ভীড়ে জমজমাট। তিনি ফেসবুকে এই প্রতিযোগিতায় তার বিভিন্ন ইভেন্টে অংশ নেয়ার ছবি পোস্ট করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। বিভিন্ন দেশের সেরা সুন্দরীদের সাথে তোলা ছবি একের পর এক আপলোড করে চলেছেন তিনি। কিন্তু দেশে তাকে নিয়ে লজ্জায় লাল হচ্ছে সরকার। তিনি জানিয়েছেন তিনি বাস করেন দেশটির রাজধানী তাসখন্দে। কিন্তু তাসখন্দের মডেলিং এজেন্সি ‘প্রো মডেলস’ এর প্রধান জাভলন কমলভ বলেন, রাখিমা নামের কেউ কোনো প্রতিযোগিতার মাধ্যমে সেরা উজবেক সুন্দরী নির্বাচিত হননি। তেমন কিছু হলে তারা অবশ্যই জানতে পারতেন। তিনিও অনেক চিন্তাভাবনা করে কিছুক্ষণ দাঁত দিয়ে আঙুলের নখ কেটেও রহস্যের কিনারা করতে না পেরে একগাল হেসে দিয়ে বললেন -বোধহয় বিশ্বসুন্দরীর আয়োজকরা মেয়েটিকে হাওয়া থেকে পেয়েছেন!