পৃথক ঘটনায় আট জন খুন

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৭
সুনামগঞ্জ, ফেনীর ছাগলনাইয়া, কুড়িগ্রামের উলিপুরে বিভিন্ন ঘটনায় আটজন খুন হয়েছে। -খবর ইত্তেফাক প্রতিনিধি ও সংবাদদাতাদের। সুনামগঞ্জ সুনামগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে কদরিছ আলী (৪০) নামে একজনের খুনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বামী-স্ত্রীর দু’জনের মধ্যে ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে ঘটনাস্থলে স্বামী মারা যান। দক্ষিণ সুনামগঞ্জ থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে এবং নিহতের স্ত্রী আসমা বেগমকে গ্রেফতার করে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ছাগলনাইয়া (ফেনী) উপজেলার ছয়ঘরিয়া গ্রামের সীমান্ত এলাকায় নোমেন্স ল্যান্ড থেকে গত শনিবার সকালে মধুগ্রাম ক্যাম্পের বিজিবি নূর আলম ফকির (২৬) নামের এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে। সে কালা মিয়া বৈদ্যের পুত্র। নিহতের পিতা জানান, এলাকার কতিপয় ফেনসিডিল ব্যবসায়ী নূর আলম ফকিরকে হত্যা করেছে। এসআই মাহবুব জানান, নিহত ফকিরের গলায়, বুকে ও পিঠে ১০/১২টি ছুরিকাঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ফকিরের পিতা কালা মিয়া বৈদ্য বাদী হয়ে থানায় হত্যা মামলা করেছে। উলিপুর (কুড়িগ্রাম) উলিপুর পৌরসভার পশ্চিম শিববাড়ী গ্রামে গত শনিবার সন্ধ্যায় মর্জিনা বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। স্বামী আব্দুর রহমানের মারধরে স্ত্রী মর্জিনা অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। পুলিশ ঐ রাতে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে গত রবিবার ময়না তদন্তের জন্য কুড়িগ্রাম মর্গে প্রেরণ করেছে। এ ব্যাপারে পুলিশ একটি ইউডি মামলা দায়ের করেছে। ত্রিশাল (ময়মনসিংহ) ত্রিশালে সিএনজিসহ অপহরণের পর আব্দুর রশিদ (২৪) নামে এক সিএনজি চালককে খুন করেছে দুর্বৃত্তরা। গত শনিবার ফুলবাড়ীয়া উপজেলার জঙ্গলবাড়ী থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় সিএনজিটি উদ্ধার হলেও চালক রশিদকে পাওয়া যায়নি। গতকাল রবিবার সকালে আছিম পাটুলী কালাইপাড় চান্দেরবন্দ খাল থেকে পুলিশ সিএনজি চালক আব্দুর রশিদের লাশ উদ্ধার করে। দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) দামুড়হুদার কলাবাড়ী জিয়ালার মাঠে সাহাবুদ্দিন (৩২) নামে এক করিমন চালককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। গতকাল রবিবার সকালে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঝিকরগাছা (যশোর) উপজেলার গদখালী বাবুপাড়ায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুত্বর আহত উমির হোসেন (৪২) চিকিত্সাধীন অবস্থায় শনিবার মারা গেছেন। গত ৩০ আগস্ট সকালে প্রতিপক্ষের হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় যশোর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শনিবার খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সে মারা যায়। এ ব্যাপারে ঝিকরগাছা থানায় মামলা হয়েছে। নওগাঁ উপজেলার কালাসিতা গ্রামে গত শনিবার রাতে মামুনুর রশিদ মোল্লা ওরফে মামুন (২৯) নামে এক যুবককে গাছের সাথে বেধে পিটিয়ে হত্যা করেছে প্রতিপক্ষরা। গতকাল রবিবার ঘটনাস্থল থেকে তার লাশ উদ্ধার করেছে মান্দা থানা পুলিশ। এ ঘটনায় মামুনের বন্ধু মোশারফ হোসেন (২৮) নামে আরেকজনকে গুরুতর আহত অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত মামুন আরমান মোল্লার ছেলে। আরমান মোল্লা বাদি হয়ে নয়জনকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। জানা যায়, একই গ্রামের তমিজ উদ্দিনের স্ত্রী শাহিনুর বেগমের (২৫) সাথে মামুনের দীর্ঘদিন পরকীয়া সম্পর্ক চলে আসছে। ঐ দিন রাতে শাহিনুরের সাথে দেখা করতে গেলে মতিজ উদ্দিন ও তার লোকজন মামুনকে গাছের সাথে বেধে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করে। কিন্তু মামুনের ভাই এমরান পরকীয়ার সম্পর্ককে অস্বীকার করে বলেন, পূর্ব শত্রুতার জেরে আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। এমরান আরো বলেন, পুলিশ সঠিক সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মামুনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা যেত। সিংগাইর (মানিকগঞ্জ) জুয়া আর মাদকাসক্ত থেকে স্বামী নূরুল ইসলামকে ফেরাতে পারেনি গৃহবধূ আমেনা বেগম (৩০)। এনিয়ে দাম্পত্য কলোহের জের ধরে সন্তানদের সামনেই স্বামীর হাতে প্রাণ দিতে হলো আমেনাকে। স্ত্রীর লাশ গোপন করার সময় জনতার ধাওয়া খেয়ে লাশ রেখে পালিয়ে যায় নূরুল ইসলাম। শনিবার সকালে সিংগাইর উপজেলার চরশ্যামনগর গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটেছে। সিংগাইর থানা ও নিহতের আত্মীয়-স্বজনরা জানান, ১০ বছর আগে বিদেশ ফেরত নূরুল ইসলামের সাথে বিয়ে হয় একই উপজেলার বান্ধাইল গ্রামের প্রবাসী তারা মিয়ার মেয়ে আমেনা বেগমের। বিয়ের পরে নূরুল ইসলাম আর বিদেশে যায়নি। জুয়া খেলা আর মাদকাসক্ত হয়ে পড়ে সে। এ নিয়ে সংসারে অশান্তি ছিল। গত শনিবার সকালে ঘরের দরজা বন্ধ করে দুই সন্তানের সামনেই আমেনাকে বেদম মারধর করে তার স্বামী। এক পর্যায়ে আমেনা মারা যায়। পলিথিনে জড়িয়ে মৃতদেহ একটি ভ্যান রিকশায় তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় গ্রামবাসী নূরুল ইসলামকে আটক করে। সেখান থেকে কৌশলে পালিয়ে যায় সে । পরে পুলিশ খবর পেয়ে আমেনার লাশ উদ্ধার করে।