প্রখ্যাত সাংবাদিক, কলামিষ্ট, লেখক, রাজনীতিক, মুক্তিযোদ্ধা নির্মল সেন ১৯৩০ সালের ৩ আগস্ট গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত। মাতার নাম লাবণ্যপ্রভা সেনগুপ্তা। ৬ ভাই ৩ বোনের মধ্যে নির্মল সেন ৪র্থ। তার একাডেমিক নাম নির্মল কুমার সেনগুপ্ত। ছেলেবেলা থেকে পরিবারের অবাধ্য সন্তান হিসাবে বোহিমিয়ান জীবনযাপনের কারণে তার বাবা রাগ করে তার ঠিকুজি ছিঁড়ে ফেলেন। ফলে তার আসল জন্ম তারিখ অজ্ঞাত রয়ে যায়। তবে তার প্রকৃত জন্ম সাল ১৯২৯।
১৯৪৪ সালে কলসকাঠি বিএম একাডেমি থেকে প্রবেশিকা (এসএসসি) পাস করে আইএসবিতে ভর্তি হন বরিশালের বিএম কলেজে। এই কলেজে পড়ার সময় তত্কালীন বিপ্লবী সমাজতন্ত্রী দল আরএসপির রাজনৈতিক মতাদর্শে দীক্ষিত হন। পুরোপুরি রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। রাজনীতিতে এসে পরিচয় ঘটে আজকের বিখ্যাত সাংবাদিক আব্দুল গাফফার চৌধুরী, এবিএম মূসার সাথে। ১৯৪৬ সালে আইএসসি পাস করেন। ১৯৪৭ সালে দেশভাগ হলে মা ভাইবোন সবাই চলে যান ভারতে। তিনি থেকে যান তার নিজ দেশে কোটালীপাড়ায়। ১৯৪৮ সালে বিএসসি পড়ার সময় ছাত্র আন্দোলন করতে গিয়ে রাজবন্দি হিসেবে গ্রেফতার হন।
কাজ শুরু করেন দৈনিক জেহাদে। ১৯৬১ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক হিসেবে যোগ দেন। এরপর ১৯৬৪ সালে দৈনিক পাকিস্তান পরবর্তীতে দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। প্রেস ট্রাস্টের এই পত্রিকাটি ১৯৯৭ সালে বন্ধ হওয়ার দিন পর্যন্ত নির্মল সেন এই পত্রিকায় সহকারী সম্পাদক ছিলেন। ১৯৭২-৭৩ সালে নির্মল সেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ও ১৯৭২-৭৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন।
দীর্ঘ রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা জীবনে নির্মল সেন বিভিন্ন সময়ে প্রায় ৮ বছর জেল খেটেছেন। বিভিন্ন দাবি দাওয়া নিয়ে অনশন করেছেন।
তার জীবনের শেষ ইচ্ছা ছিল নিজ নামে নিজ বাড়িতে একটি মহিলা কলেজ স্থাপন করা। তার জীবদ্দশায় তিনি কলেজটি স্থাপন করে যেতে পারেননি। তবে মৃত্যুর আগেই তিনি নিজ বাড়িতে একটি মহিলা কলেজ স্থাপনের জন্য ১.৫০ একর জমি কলেজের নামে সরকারের কাছে দান করে দিয়ে গেছেন। তবে এখন পর্যন্ত তার অন্তিম ইচ্ছাটি পূরণ হয়নি।
লেখক :সিনিয়র সাংবাদিক, গোপালগঞ্জ
