সম্প্রতি পাস হওয়া ব্যাংক কোম্পানি আইন, ১৯৯১ (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী কোনো ব্যাংক তার আদায়কৃত মূলধন, শেয়ার প্রিমিয়ামে রক্ষিত স্থিতি, সংবিধিবদ্ধ সঞ্চিতি ও রিটেইন্ড আর্নিংসের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে। যেসব ব্যাংকের বিনিয়োগ এ সীমার বাইরে রয়েছে তাদের নির্ধারিত সীমায় নামিয়ে আনতে বলা হয়েছে। আর এজন্য সময় বেঁধে দেয়া হয়েছে ২০১৬ সালের ২১ জুলাই পর্যন্ত। গতকাল বাংলাদেশ ব্যাংকের অফ-সাইট সুপারভিশন বিভাগ এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
দেশে কার্যরত তফসিলি ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পাঠানো ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ব্রোকারেজ হাউস বা ব্যাংকিং কার্যক্রমের উদ্দেশ্যে গঠিত নিজস্ব সাবসিডিয়ারি কোম্পানি বা এরূপ অন্য কোনো কোম্পানিকে বা কোনো স্টক ডিলারকে ঋণ সুবিধা দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যাংকিং নিয়ম-কানুন পরিচালনা করতে হবে। এছাড়া একক ঋণ গ্রহীতার সর্বোচ্চ সীমার বিষয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলেছে, পুঁজিবাজারে মোট বিনিয়োগের হিসাবায়নের ক্ষেত্রে ব্যাংকের ধারণ করা সকল শেয়ার, ডিবেঞ্চার, করপোরেট বন্ড, মিউচুয়্যাল ফান্ড ইউনিট এবং অন্যান্য পুঁজিবাজার নিদর্শনপত্রের বাজারমূল্য অন্তর্ভুক্ত হবে। হিসাবায়নে সাবসিডিয়ারি কোম্পানিকে প্রদত্ত ঋণের স্থিতি (তলবী ও মেয়াদী ঋণের ক্ষেত্রে) ও মঞ্জুরিকৃত ঋণসীমা (চলমান ঋণের ক্ষেত্রে), পুঁজিবাজার কার্যক্রমে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে নিয়োজিত অপর কোনো কোম্পানি অথবা কোনো স্টক ডিলারকে প্রদত্ত ঋণের স্থিতি ও মঞ্জুরিকৃত ঋণসীমা এবং তাদের সাথে রক্ষিত তহবিলের স্থিতি (প্লেসমেন্ট) যোগ করতে হবে।
এছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন হতে লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোনো স্টক ডিলারকে শেয়ার বা ডিবেঞ্চারের বিপরীতে প্রদত্ত ঋণ এবং পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের উদ্দেশ্যে গঠিত কোনো প্রকার তহবিলে প্রদত্ত চাঁদা হিসাবায়নে অন্তর্ভুক্ত হবে। তবে শেয়ার ডিবেঞ্চার ক্রয় বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে কোনো স্টক ডিলারকে স্টক এক্সচেঞ্জের তালিকাভুক্ত শেয়ারের বিপরীতে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ‘এ’ ও ‘বি’ গ্রুপভুক্ত শেয়ারের অনুকূলে বিগত ছয় মাসের বাজার মূল্যের সর্বাধিক ৭০ শতাংশ এবং ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ প্রদান করা যাবে, যার সর্বোচ্চ সীমা হবে ৩ কোটি টাকা।
প্রজ্ঞাপনে পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ নির্ণয়ে যেসব উপাদান অন্তর্ভুক্ত হবে না তা উল্লেখ করা হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, সংশোধিত ব্যাংক কোম্পানি আইন অনুসারে সহজে বিনিময়যোগ্য সম্পদ সংরক্ষণে ব্যবহার উপযোগী অনুমোদিত সম্পত্তি নিদর্শনপত্র, বিশেষ উদ্দেশ্যে গঠিত এবং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় এমন পাবলিক সেক্টর এন্টারপ্রাইজের শেয়ার বা ডিবেঞ্চার, তফসিলি ব্যাংকের ইস্যুকৃত টাইয়ার-২ মূলধনে বিবেচনাযোগ্য এবং স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত নয় এরূপ সাব-ডেট ইন্সট্রুমেন্ট এবং সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি (বিডি), স্টক এক্সচেঞ্জগুলোর শেয়ার। এদিকে ব্যাংক-কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রতি মাসের শেষ কার্যদিবসভিত্তিক পুঁজিবাজার বিনিয়োগ সংক্রান্ত বিবরণী পরবর্তী মাসের ১০ তারিখের মধ্যে নির্ধারিত ছকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পাঠানোর কথা ওই প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে।
