পুরুষের জন্য স্ত্রী হরমোন!

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০৯
পুরুষের কাঙ্ক্ষিত শারীরিক ফিটনেস ঠিক রাখতে বিশেষজ্ঞগণ এক অদু্ভত ধরনের ফলাফল পেয়েছেন। আর তা হচ্ছে, যেসব পুরুষের শারীরিক ক্ষমতা হ্রাস পেয়েছে তারা ফিমেল হরমোন বা স্ত্রী হরমোন হিসাবে খ্যাত এস্ট্রোজেন ব্যবহার করতে পারেন। এই হরমোন পুরুষের হূদরোগ, ডায়াবেটিস ও ওবেসিটি বা মুটিয়ে যাওয়ার জন্য যেমন দায়ী তেমনি লো এস্ট্রোজেন থেকে শারীরিক অক্ষমতা ও বিশেষ ক্ষেত্রে অনিচ্ছা তৈরি হতে পারে। সাধারণত এক্ষেত্রে শুধু পুরুষের হরমোন হিসাবে বিশেষভাবে পরিচিত লো টেস্টোসটেরনকে দায়ী করা হয়ে থাকে। এখন বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, পুরুষের শরীরে এস্ট্রোজেনের মাত্রা কম থাকলেও পুরুষের শারীরিক সামর্থ্য হ্রাস পেতে পারে। বস্টনের ম্যাসাসুয়েট জেনারেল হাসপাতালের গবেষকগণ গবেষণায় এ ফলাফল পেয়েছেন। নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন গবেষণালব্ধ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞগণ বলছেন, এই গবেষণাটি ব্যবস্থাপত্র দেয়ার ক্ষেত্রে আমূল পরিবর্তন এনে দেবে। তাই নতুন গবেষণাটিকে ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের ভাইস চেয়ারম্যান হরমোন বিশেষজ্ঞ ডা. ব্রাড ‘ব্লক বুস্টার’ হিসাবে উল্লেখ করে বলেছেন, একটি বিশেষ সমস্যায় চিকিত্সার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষতো বটেই এমনকি অনেক বিশেষজ্ঞের চিকিত্সার ক্ষেত্রে এটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে দেবে। বিশেষজ্ঞগণ বলেছেন, পুরুষের শতকরা ৮০ ভাগ এস্ট্রোজেন আসে টেস্টোসটেরন পরিবর্তনের মাধ্যমে। আর এরোমেটাজ নামক এক ধরনের এনজাইম বা জারক রস এর মাধ্যমে টেস্টোসটেরন এস্ট্রোজেনে রূপান্তরিত হয়। মহিলাদের বয়স ৫০ পার হলে বিশেষ ক্ষেত্রে যেমন এস্ট্রোজেনের অভাবে সমস্যা হয় তেমনি এই নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, এস্ট্রোজেন পুরুষের হাড় দুর্বল করে দেয়। তবে এই নতুন গবেষণায় ফলাফল যাই হোক না কেন, বিশেষজ্ঞগণ এ বিষয়টির উপর আরও অধিকতর গবেষণার ওপর জোর দিয়েছেন। তবে পুরুষ হরমোন টেস্টোসটেরন মাত্রা ঠিক থাকার পরও যাদের শারীরিক সমস্যা থেকেই যাচ্ছে তাদের চিকিত্সায় এই নতুন গবেষণার ফলাফল সহায়ক হবে বলে বিশেষজ্ঞদের অভিমত। লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ