সাংবাদিকতা নিয়ে বাজারে একটা গল্প প্রচলিত আছে। এক সাংবাদিক ছেলেকে নাকি পাত্রী পক্ষ জিজ্ঞেস করে, সাংবাদিকতার পাশাপাশি আর কিছু করেন? এই হলো সাংবাদিকতা নিয়ে মানুষের ধারণা। বুঝেন এবার! সময় বদলেছে। সময়ের তালে তালে বদলেছে সাংবাদিকতাও। পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা একটা সুবিধার জায়গায় দাঁড়িয়েছে। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে। এ বিষয়ে পড়তে চাওয়াদের সংখ্যাও বেড়েছে। সাংবাদিকতা পেশায় মোটা বেতন হচ্ছে। বিষয় হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানো হচ্ছে। দক্ষতা অর্জনের জন্য চালু হয়েছে নানান কোর্স। দক্ষ জনশক্তির চাহিদা বাড়ছে। এই তো সুযোগ। সাংবাদিক হতে চান? তবে প্রয়োজন মানসম্মত শিক্ষা।
কেন পড়বেন: বিভিন্ন পেশার মধ্যে সাংবাদিকতা শুরু থেকেই একটি মহত্ ও সম্মানজনক পেশা হিসেবে স্বীকৃত। একসময় সাংবাদিকতা বিষয়ে পড়াশোনাকে তেমন মূল্যায়ন না করা হলেও বর্তমানে চ্যালেঞ্জিং এবং নিজের রুচি ও মননের চর্চার সুযোগ থাকায় অনেকেই আগ্রহ দেখাচ্ছে এ পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার। অনেকেই এ পেশাকে একটি সেলিব্রেটি পেশারও স্বীকৃতি দিয়েছেন।
সুযোগ বাড়ছে: সংবাদপত্রের পাশাপাশি সাংবাদিকতার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে টেলিভিশন, রেডিও ও অনলাইনে। এছাড়া সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জনসংযোগ কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করার সুযোগতো রয়েছেই। বর্তমানে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে কাজের ক্ষেত্র। সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীরা এখন শুধু গণমাধ্যমে নয়, বিভিন্ন এনজিও, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতার সঙ্গে কাজ করছে।
কোথায় পড়বেন: সাংবাদিকতায় পড়তে চাইলে আগে মনস্থির করা প্রয়োজন। তারপর সিদ্ধান্ত নিন কোথায় ভর্তি হবেন। সেক্ষেত্রে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ও রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতায় পড়ার সুযোগ রয়েছে। এছাড়া যদি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে চান তবে ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ, স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি, ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ইউনিভার্সিটি অব ডেভেলপমেন্ট অলটারনেটিভ, গ্রীণ ইউনিভার্সিটি, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটি, মানারাত ইউনিভার্সিটিসহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকতা বিভাগ রয়েছে। এগুলোর যেকোনো একটিতে ভর্তি হতে পারেন।
প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা: সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন মেয়াদে সংক্ষিপ্ত ও ডিপ্লোমা কোর্স করার সুযোগ রয়েছে। প্রেস ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশে রয়েছে সাংবাদিকতার ওপর এক বছর মেয়াদী ডিপ্লোমা কোর্স করার সুযোগ। জাতীয় গণমাধ্যম ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব জার্নালিজম এ্যান্ড ইলেকট্রনিক মিডিয়াসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সাংবাদিকতায় বিভিন্ন স্বল্পমেয়াদী প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে যে কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে প্রশিক্ষণ নিতে পারে।
ভর্তি হতে চাইলে: এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় মোট জিপিএ ৭-৮ থাকলে সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির আবেদন করা যায়। প্রতিবছর এইচএসসির ফল প্রকাশের তিন মাসের মধ্যেই এসব বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম শুরু হয়। ডিগ্রী বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা প্রতিবছর জুলাই মাসে পিআইবিতে পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তির সুযোগ পান। এক্ষেত্রে শিক্ষার্থীকে অবশ্যই দুই বছরের সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।
ছবি: রায়হান আহমেদ
পৃথিবীর কোথাও অনলাইন সাংবাদিকতার নীতিমালা নেই
রোবায়েত ফেরদৌস
শিক্ষক
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
পেশা হিসেবে সাংবাদিকতা ভালো একটা জায়গায় দাঁড়িয়েছে। এখন অনেক সাংবাদিকই ভালো অংকের টাকা বেতন পাচ্ছেন। গাড়ি, বাড়ি সবই হচ্ছে। তবে অনলাইন সাংবাদিকতা নিয়ে নানা কথা হচ্ছে। সরকার চাইছে নীতিমালা করে স্বাধীনতা খর্ব করতে। আইন করার দরকার আছে বলে মনে করি না। তাছাড়া পৃথিবীর কোথাও অনলাইন সাংবাদিকতার কোন নীতিমালা নেই। তবে কেউ যদি স্বাধীনতার অপব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনেই ব্যবস্থা নেয়া যেতে পারে। তবে অনলাইন সাংবাদিকতার মান বাড়াতে সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা যেতে পারে।
