নাম তার নিপা মোনালিসা। রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন এন্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগে মাস্টার্স করছেন। ক্যাম্পাসে সবার কাছে মোনালিসা নামেই পরিচিত। একদিকে যেমন মেধাবী অন্যদিকে সংস্কৃতিমনা। মিষ্টিমুখখানী ক্যাম্পাসে সবার চেনা-জানা। সব সময় হাসিখুশি থাকতে ভালোবাসেন। বন্ধু বান্ধবের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও স্নেহের পাত্রী।
যুক্তি দিয়ে কথা বলাটা ছোট বেলা থেকেই অভ্যাস। ছোট বেলায় সবাই তাকে যুক্তিবাদি মেয়ে বলে ডাকতো। দু’চোখ ভরা স্বপ্ন আর রয়েছে সম্ভাবনা। হতে চান উদ্যোক্তা। আর শিক্ষক হয়েই সেটা সফল করতে চান। নড়াইল জেলার লোহাগড়া উপজেলায় জন্ম হলেও স্কুল ও কলেজ জীবন পাড় করেছেন বরিশাল শহরে। এ ওয়াহেদ মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় থেকে ২০০৪ সালে এসএসসি এবং সরকারি মহিলা কলেজ থেকে ২০০৬ সালে এইচএসসি পাস করার পর ২০০৭ সালে ভর্তি হন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে।
মেডিক্যাল পড়ার ইচ্ছেটা পূরণ করতে না পারায় ভেঙ্গে যায়নি মোনালিসা। মোনালিসা জানান, মেডিক্যালে পড়ার সুযোগ পাইনি বলে প্রচুর জেদ কাজ করতো। ডাক্তার হতে পারিনি বলে আমাকে ডক্টর হতেই হবে। আর এমন জেদটাই মোনালিসার জন্য সুফল বয়ে এনেছে। ২০১২ সালে স্নাতক ফলাফল শেষে তিনিই সেরাদের সেরা। আট সেমিস্টার শেষে তার সিজিপিএ ৪ এর মধ্যে ৩ দশমিক ৯৮। নিজের সাফল্যের কথা বলতে বলতে এক পর্যায় তার চোখে-মুখে নেমে আসলো শোকের ছায়া। ২০০৭ সালে পুলিশে কর্মরত বাবাকে হারায় মোনালিসা। তিন ভাই বোনের মধ্যে তার স্থান দ্বিতীয়। লেখাপড়ার জন্য বাবার অনেক অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। তার সাফল্য পুরোপুরি বাবা দেখে যেতে পারলেন না। কষ্ট নিয়ে বললেন মোনালিসা।
ক্লাসে ভালোভাবে লেকচার শোনাই এমন ফল বয়ে আনতে পারে, বললেন মোনালিসা। আর ক্যাম্পাসের ছোট ভাই বোনদের জন্য তিনি এমন পরামর্শই দিলেন। কৃষকদের সমস্যা বুঝতে চান তিনি। কাজ করতে চান সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে। মোনালিসা জানান, কৃষকরা তাদের সমস্যাই শনাক্ত করতে পারছেন না। ফলে তারা সমাধানও পাচ্ছেন না। পরবর্তীতে কৃষি পেশা থেকেই বেড়িয়ে পরে অন্য পেশায় ধাবিত হচ্ছেন। আমি সরাসরি কৃকষদের সাথে কাজ করতে চাই। তাদের কাছে কৃষির সকল তথ্য সরাসরি পৌঁছে দিতে চাই। কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে চাই নতুন নতুন গবেষণার সব আপডেট তথ্য নিয়ে। এখনো অনেক জায়গায় কৃষকরা সনাতন পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন। তাদের শেখাতে চাই প্রযুক্তির নানা ব্যবহার।
