আইওএস ৭.০-এর চমকজাগানো যত ফিচার

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:২৬
অ্যাপল’র কোনো পণ্য বা সেবার নতুন সংস্করণ মানেই যেন চমক, যার অপেক্ষায় থাকে গোটা প্রযুক্তিবিশ্ব। ঠিক তেমনই চমক নিয়েই আবারও হাজির হয়েছে অ্যাপল। এবারে তাদের আইফোনের নতুন দুইটি সংস্করণ অবমুক্ত করেছে বাজারে। কেবল নতুন আইফোনই নয়, তাদের মোবাইল অপারেটিং সিস্টেম আইওএস-এর নতুন সংস্করণও অবমুক্ত করেছে একই সময়ে। গেল সপ্তাহে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অপারেটিং সিস্টেমের নতুন সংস্করণসহ নতুন দুই মডেলের আইফোনের সাথে বিশ্ববাসীকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে তারা। আইওএস ৭.০-এর নানা ফিচারের কথা তুলে ধরা হলো এই লেখায়। কন্ট্রোল সেন্টার নতুন এই সংস্করণের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক মনে করা হচ্ছে এর কন্ট্রোল সেন্টারকে। আইফোন যে অবস্থাতেই থাকুক না কেন, এমনকি লক স্ক্রিন অবস্থায় থাকলেও, সরাসরি অ্যাকসেস করা যাবে এই কন্ট্রোল সেন্টারে। ফোনের মোড বদলানো, ওয়াই-ফাই চালু বা বন্ধ করা, ডিসপ্লে’র উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ করাসহ নানা ধরনের সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে এই কন্ট্রোল সেন্টারে, যা আগে কখনও ছিল না। ফ্ল্যাশলাইট, ক্যামেরা, টাইমার, ক্যালকুলেটরেও অ্যাকসেস করা যাবে এই কন্ট্রোল সেন্টার থেকেই। নোটিফিকেশন সেন্টার নতুন আসা মেইল, ম্যাসেজ কিংবা মিসড কলের খবর তো বটেই, যেকোনো ধরনের রিমাইন্ডার বা অন্যান্য নোটিফিকেশনও পাওয়া যাবে এই নোটিফিকেশন সেন্টার থেকে। লক স্ক্রিন থেকে সরাসরি অ্যাকসেস করা যাবে এই সেন্টারেও। ফলে নোটিফিকেশন দেখার জন্য আর এক মুহূর্তও দেরি হবে না। মাল্টিটাস্কিং মাল্টিটাস্কিংকে আগের চাইতে অনেক উন্নত করা হয়েছে আইওএস ৭.০-এ। এতে হোম বাটন পরপর দুইবার চাপলেই ফোনে চালু থাকা সব অ্যাপ্লিকেশন প্রদর্শিত হবে। এরপর সেখান থেকেই কোনো অ্যাপ্লিকেশন বন্ধ করা দেওয়া যাবে। এ ছাড়া রয়েছে শিডিউলড অ্যাপ্লিকেশন সুবিধা। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপ্লিকেশন নির্দিষ্ট কোনো সময়েই চালু করা যাবে। আর এমন অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে আইওএস ৭.০ নিজে নিজেই নির্দিষ্ট সময়ে আপডেট রাখবে আপনার জন্য। ক্যামেরা ক্যামেরার অ্যাপ্লিকেশনে নতুন বেশকিছু ফিচার যুক্ত করেছে অ্যাপল। ক্যামেরা অ্যাপ্লিকেশনটি চালু করলে এমনিতেই স্থিরচিত্র বা ভিডিও করার অপশন দেখানো হয়। এর বাইরে এতে নতুন করে প্যানেরোমা এবং বর্গাকৃতির ছবি তোলার অপশন যুক্ত করা হয়েছে । ফলে যে ধরনেরই ছবি তুলতে চান, সেটা সহজে তোলা যাবে। এর বাইরে এই অ্যাপ্লিকেশনে যুক্ত করা হয়েছে ইন্সটাগ্রামের মতোই নানা ধরনের ফিল্টার। ফলে এটি ব্যবহার করে ছবি তোলা আরও বেশি উপভোগ্য হয়ে উঠবে। ছবির অ্যাপ্লিকেশন আইওএস ৭.০-এ ছবি প্রদর্শন করার ব্যবস্থাকে উন্নত করা হয়েছে। এটি ব্যবহার করে আপনার ফোনের ছবিগুলোকে নানা ক্যাটাগরিতে ভাগ করা যাবে। ছবি তোলার স্থান বা সময়ের উপর ভিত্তি করেই ক্যাটাগরি করা যাবে ছবিকে। আর ‘মোমেন্টস’, ‘কালেকশন’ এবং ‘ইয়ার’ নামের মূল ক্যাটাগরি তো রয়েছেই। ফলে ছবি প্রদর্শনই কেবল নয়, ছবি খুঁজে পাওয়াও এই অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে অনেক সহজ হবে। আর আইক্লাউডের মাধ্যমেও ছবি শেয়ার করার সুবিধা তো রয়েছেই। এয়ারড্রপ ফোন থেকে ফোনে ছবি বা অন্যান্য ফাইল শেয়ারিংয়ের জন্যই অ্যাপল এতে যুক্ত করেছে এয়ারড্রপ। এর মাধ্যমে কোনো ধরনের ইমেইল কিংবা ম্যাসেজের সহায়তা না নিয়েও সরাসরি একটি আইওএস ডিভাইস থেকে অন্য একটি আইওএস ডিভাইসে যেকোনো ফাইল শেয়ার করা যাবে। ওয়াই-ফাই বা ব্লুটুথ থাকলেই হলো। এর জন্য কেবল কোনো ফাইল গিয়ে শেয়ার আইকনে চাপলেই হবে। বাকি কাজটা এয়ারড্রপই করে দেবে। সাফারি অ্যাপল’র নিজস্ব ব্রাউজার হলো সাফারি। এর ডিজাইনকে আগের চাইতে অনেক বেশি সহজে ব্যবহারবান্ধব করা হয়েছে। এতে যুক্ত করা হয়েছে বাটন এবং বার, যেগুলো সাধারণত অপ্রদর্শিত অবস্থায় থাকবে। ফলে ব্রাউজারটি আগের চাইতে একটু বড় হয়েই দেখা দেবে। এর ট্যাবগুলো প্রদর্শনে যুক্ত করা হয়েছে নতুন গ্রাফিক্স। আর লিংক শেয়ারিং এবং অনলাইন আর্টিকেলগুলো পরে পড়ার জন্য সংরক্ষণ করে রাখার সুবিধাও যুক্ত হয়েছে। ্আইটিউনস রেডিও প্যানডোরার বিকল্প হিসেবেই অ্যাপল আইওএস ৭.০-এ যুক্ত করতে যাচ্ছে আইটিউনস রেডিও। এর মাধ্যমে পছন্দের সব গান স্ট্রিমিং করে শোনার সুবিধা রয়েছে। মুহূর্তের মধ্যেই এতে তৈরি করা যাবে নিজের পছন্দের রেডিও স্টেশন, যেখানে বিভিন্ন শিল্পীর গান এবং মিউজিক সমন্বয়ও করা যাবে। আজ থেকেই যাত্রা শুরু করছে এই রেডিও সার্ভিস। সিরি ভয়েস কন্ট্রোল সার্ভিস সিরি এখন আগের চাইতে আরও উন্নত। এর মাধ্যমে বিং, উইকিপিডিয়া কিংবা টুইটারের মতো প্ল্যাটফর্মে ভয়েস সার্চের সুবিধা যুক্ত হয়েছে। রিটার্নিং কল, ভয়েসমেইল, আইটিউনস রেডিওসহ আরও নানা অ্যাপ্লিকেশনে ব্যবহার করা যাবে সিরি। ফাইন্ড মাই ডিভাইস অ্যাপল আইডি এবং পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে এখন নিজের আইফোন, আইপ্যাড বা আইপডকে সুরক্ষিত রাখা যাবে। এই আইডি পাসওয়ার্ড ছাড়া কোনো আইওএস ডিভাইসকেই সক্রিয় করা যাবে না। আর ফোনটি অন্য কারও হাতে পড়লে স্ক্রিন লক করা থাকলেও আপনার ফোন নম্বরটিই ডিসপ্লে করে রাখবে। আর ফোনটি কেউ নিয়ে এর সব তথ্য মুছে ফেললেও ওই আইডি এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে সব তথ্য ফিরে পেতে পারবেন। ফলে অ্যাপল ডিভাইসটি নিয়ে অনেকটাই নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।