সীমান্তবর্তী উপজেলার নাম শার্শা। প্রায় সাড়ে তিন লাখ লোকের বসবাস এ উপজেলায়। কিন্তু মানুষের চিত্ত বিনোদনের কোনো ব্যবস্থা নেই এখানে। যা দুয়েকটি ছিল তাও আজ বিলুপ্তি হয়ে গেছে। এ উপজেলায় চিত্ত বিনোদনের জন্য ৩টি সিনেমা হল ছিল কিন্তু সুন্দর পরিবেশ ও দর্শকের অভাবে ২টি বন্ধ হয়ে গেছে। এখনও একটি আছে তাও লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে। নাভারন বাজারে সোনালী ও নাহার টকিজ নামে ২টি দর্শক নন্দিত সিনেমা হল বন্ধ হয়ে গেছে। সোনালী সিনেমা হলটি ভেঙে কর্তৃপক্ষ সেখানে নির্মাণ করেছে সোনালী মার্কেট এবং সারথী হলটি প্রথমে মালিকানা বদল করে নাহার টকিজ নামকরণ করে বেশ কিছুদিন চালানোর পর সেটি আবার বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ। এখন এ হলটি ব্যবহার হচ্ছে ব্যবসায়ীদের গোডাউন হিসেবে। অত্যাচার, মাস্তানী আর চাঁদাবাজির কারণে এটি বন্ধ করে দেওয়া হয় বলে জানালেন কর্তৃপক্ষ। এখন উপজেলায় একটি মাত্র সিনেমা হল চালু আছে যা বাগআঁচড়া বাজারে অবস্থিত। বিলাসবহুল এ চালু হলটির নাম ময়ূরী। ময়ূরী সিনেমা হলের মালিক আশরাফুল ইসলাম বাবু জানান, শার্শা উপজেলায় আমার ৩টি সিনেমা হল ছিল তার মধ্যে ২টি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। একটি মাত্র চলছে তাও লোকসানের বোঝা মাথায় নিয়ে। এ দেশে ভালো মানের ছবি তৈরি না হওয়ায় দর্শকরা এখন আর হলমুখো হতে চায় না।
তিনি আরও জানান সিনেমা হলে প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষেরা সিনেমা দেখতে আসেন কিন্তু এখন ঘরে ঘরে স্যাটেলাইট চ্যানেল থাকায় তারা আর হলমুখো হয় না। তবে স্যাটেলাইট চ্যানেল বিদেশি চ্যানেলের সংখ্যা বেশি থাকায় দেশীয় সংস্কৃতিও হুমকির মুখে পড়ছে।
বেনাপোলের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মাস্টার মোহাম্মদ শহীদুল্লাহ জানান, চিত্রনাট্য, কাহিনী, সংলাপ সিনেমার মূল আকর্ষণ হয়ে থাকে। কিন্তু আমাদের দেশে সিনেমা তৈরির সময় এ বিষয়ে গুরুত্ব না দেওয়ায় এ শিল্প বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে। এ সব বিষয়ে নজর দিয়ে সিনেমা তৈরি করলে তা হবে দর্শক আকৃষ্ট হবে। আর তখনই আবার দর্শকে সবর হয়ে উঠবে সিনেমা হলগুলো। তবে হল টিকিয়ে রাখার পেছনে সরকারের যথেষ্ট মনোযোগী হওয়া প্রয়োজন।
