আন্তর্জাতিক মাঠে পুতুলনাট্যে বাংলাদেশের জয়

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩৩
ইন্দোনেশিয়ার জার্কাতায় গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ‘ওয়াং ওয়ার্ল্ড পাপেট কার্নিভ্যাল ২০১৩’-এ বাংলাদেশের পুতুলনাট্য অর্জন করেছে ‘বেস্ট ফোক পাপেট মিউজিক্যাল অ্যাওয়ার্ড’ এবং লাভ করেছে ‘নমিউনেশন্স ফর বেস্ট সিনারি’! এই কার্নিভ্যালে ৪৬ দেশের ৬৩টি পুতুলনাট্য দল এবং তিন শতাধিক পুতুলনাট্য শিল্পী অংশ নিয়েছে। এই উত্সবে প্রথমবারের মতো ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্য নিয়ে অংশগ্রহণ করেছে বাংলাদেশ। অর্জন করেছে ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্যের সাংগীতিক পরিবেশনার সেরা স্থান ‘বেস্ট ফোক পাপেট মিউজিক্যাল অ্যাওয়ার্ড’ এবং দৃশ্য পরিকল্পনায় লাভ করেছে নমিনেশন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক বিশিষ্ট পুতুলনাট্য গবেষক, অভিনেতা, নাট্যনির্দেশক ড. রশীদ হারুনের গ্রন্থনা, পরিকল্পনা ও নির্দেশনায় দীর্ঘ দু’মাসের মেধাশ্রমে নির্মিত হয় বাংলাদেশের পুতুলনাট্য প্রযোজনা ‘বাংলাদেশের গল্প’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের উদ্যোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী পুতুলনাট্য পরিবেশনার রীতি অবলম্বনপূর্বক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ঐতিহ্যবাহী শিল্পীবৃন্দ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে সৃজিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী পুতুলনাট্য’। গত ৭ সেপ্টেম্বর স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় জাকার্তা শহরের তামান মিনি ইন্দোনেশিয়া ইন্দাহ্য় ‘গিংদু কাউতামান পিওয়ানগান’ মঞ্চে প্রায় চারশত নানা বয়েসী দর্শক উপভোগ করেছে দেশের গান, ভাষা শহীদদের উদ্দেশ্যে নিবেদিত গান, বাংলার কৃষক-কৃষাণীর হালচাষ ও ধান তোলা, কলসি কাঁখে বাঙালি রমণী, বড়শিতে মাছ ধরা ও কুমির আক্রমণ, কাঠুরিয়া ও বাঘের লড়াই, বাউল শিল্পীর বেহালা বাদন, বেদে ও সর্পনৃত্য, কুঁজো বুড়ির গল্প, ঝঞ্ঝা-দুর্যোগ পেরিয়ে এগিয়ে চলা নৌকার গান প্রভৃতির পুতুলনাট্য পরিবেশনা। নানা দেশের নানা রীতির অভিনয়-পুতুল ও পরিশেনার বৈচিত্র্যের মাঝে মাটি আর উলুখাগড়া দ্বারা নির্মিত বাংলাদেশের মানুষের চেহারার আদলে তৈরি ও দেশীয় নকশার পোশাক-সজ্জার সুতা পুতুল বিপুল আগ্রহ ও ঔত্সুক্য সৃষ্টি করেছিল স্কুল পড়ুয়া শিশু-কিশোর থেকে পুতুলনাট্যের অভিজ্ঞ অভিনয় শিল্পী, নির্মাতা, নির্দেশক, গবেষক প্রমুখকে। সমগ্র পরিশেনা মুগ্ধ হয়ে উপভোগ করেছে দর্শকবৃন্দ। ১ সেপ্টেম্বর বেলা ৩টায় তামান মিনির বিখ্যাত পঞ্চশীলা প্লাজা তুগোতে ইন্দোনেশিয়ার নানা প্রদেশের বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য শোভিত নৃত্য-গীত সহযোগে অংশগ্রহণকারী দলসমূহের প্যারেডের মাধ্যমে সূচিত হয় ৮ দিনব্যাপী উত্সবের কর্মযজ্ঞ। ৪৩টি অংশগ্রহণকারী দলের সারিতে তৃতীয় অবস্থানে ছিল লালসবুজ পতাকা আর বাংলাদেশ লেখা প্ল্যাকার্ড। বাংলাদেশের পুতুলনাট্য দলের দশজন সদস্য দেশীয় নকশা করা সবুজ পাঞ্জাবি, সাদা পায়জামা ও গামছার উত্তরীয় পরে, হাতে দেশীয় পুতুল নিয়ে অংশ নেয় প্যারেডে। ব্যতিক্রমী পোশাক-পরিচ্ছদ ও পুতুল বিপুলভাবে মনোযোগ আকর্ষণ করে উপস্থিত হাজার হাজার পুতুলনাট্য শিল্পী-কুশলী, আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ এবং দর্শকের। ৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা ৬টায় তামান মিনি ‘সাসানা ক্রিয়া বলরুমে’ অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান এবং বিদায়ী ডিনার। ৩১ আগস্ট ইন্দোনেশিয়া গমন এবং ৯ সেপ্টেম্বর রাতে পুতুলনাট্য দল প্রত্যাবর্তন করে দেশে। উক্ত পুতুলনাট্য দলে পুতুল পরিচালনা করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রখ্যাত প্রবীণ পুতুলনাট্য শিল্পী খেলু মিয়া, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন ও শামীম মিয়া। সংগীত ও কণ্ঠাভিনয়ে ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রবীণ শিল্পী কবীর হোসেন এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষার্থী শ্যামা ভট্টাচার্য, নওরিন নিপু ও হূদয় বসাক। কথক (জব মাস্টার) ও নির্দেশনা ড. রশীদ হারুন। দলের ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেছেন সারা আরা মাহমুদ (পরিচালক, নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী) এবং দলনেতা ছিলেন জাহাঙ্গীর হোসেন চৌধুরী (সচিব, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমী)।