কুষ্টিয়া

হায়াত আলী এক লালন শিল্পী

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩৪
লালন সংগীতশিল্পী হায়াত আলী। নানা প্রতিভার অধিকারী। যেমন সুরেলা কণ্ঠে গাইতে পারেন লালন গীতি, পল্লী গীতি, ভাটিয়ালি, মুর্শীদি ও নজরুল সংগীত। পাশাপাশি খুব দক্ষতার সাথে বাজাতে পারেন ঢোল, সারিন্দা, দোতারা, কিবোর্ড ও হারমোনিয়াম। অপরদিকে কুমারখালির ঐতিহ্যবাহী তাঁত শিল্পের তিনি একজন দক্ষ পাওয়ারলুম ম্যাকানিকস ছিলেন। তিনি ১৯৬৬ সাল থেকে দুই বছর রেডিও পাকিস্তানে দলীয় সংগীতে দোতারা বাজান। ১৯৯৩ সালের ৩১ মে হতে দীর্ঘ ১৭ বছর খুলনা বেতারে লালন সংগীত শিল্পী হিসেবে নিয়মিত গান পরিবেশন করেন। কণ্ঠশিল্পী হায়াত আলী ১৯৪৮ সালের ১১ মার্চ ঢাকা দক্ষিণের দোহার জয়পাড়া খালপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। বাবা মৃত আবদুল গণি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে গাইতেন মুর্শীদি গান। মূলত বাবার কণ্ঠে মুর্শীদি গান শুনে শিশুকাল থেকে গান গাওয়ার প্রতি ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয় হায়াত অলীর। ১৯৬৩ সালে কুষ্টিয়ার কুমারখালি বেসিক সেন্টারে চাকরির উদ্দেশ্যে পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে স্বপরিবারে তিনি কুমারখালিতে আসেন। সেই থেকে বসবাস শুরু করেন শহরের সেরকান্দি এলাকায়। শুরুতে বেসিক সেন্টারে পাওয়ার লুম চালানো শেখেন তিনি। পরবর্তীতে কুমারখালিতে গড়ে ওঠা বিভিন্ন পাওয়ার লুমের ম্যাকানিকস হিসেবে কাজ করেন। পেশায় পাওয়ার লুম ম্যাকানিকস হলেও সংগীত চর্চার ক্ষেত্রে সব সময় তিনি চরম আন্তরিক। দেশের বিভিন্ন এলাকার মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে লালন গীতি পরিবেশন করে বেশ সুনাম অর্জন করেন তিনি। হায়াত আলী বলেন, ‘আমার বয়স যখন ৭ বছর ঠিক তখন বাবার কণ্ঠে শুনতাম মুর্শীদি গান। সেই থেকে গান গাওয়ার প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয়। আমার বাবার গুরু ছিলেন দোহারের নুরুল্লাহপুরের আবদুর রহিম ফকির। একদিন বাবার সঙ্গে রহিম ফকিরের বাড়িতে গেলে তিনি আমাকে আশীর্বাদ করে বাবাকে বলেছিলেন তোমার ছেলেকে বাদ্যযন্ত্র বাজানো শেখাও সে সব ধরনের বাদ্যযন্ত্র বাজাতে পারদর্শী হবে। রেডিওতে আবদুল আলিমের পল্লী গীতি শুনে দোতরা বাজিয়ে শুরুতে পল্লী গীতি গাওয়ার চেষ্টা করতাম। ১৯৯৩ সালে যখন প্রথম বেতারে গান পরিবেশন করি তখন সম্মানি পেতাম ২৮০ টাকা। শেষের দিকে এসে ৬১৯ টাকা পেতাম। কুমারখালি থেকে খুলনা যাতায়াত, থাকা খাওয়াতে যা সম্মানি পেতাম তার অধিক খরচ হতো। সে কারণে ২০১১ সালের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে বেতারে গান পরিবেশন বন্ধ করে দিয়েছি।’