কুষ্টিয়া

প্রান্তিক এক নাট্যযোদ্ধা

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৩৫
মফস্বলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পরিচিত নাম রাধারমন কর্মকার ওরফে বাদল স্যার। বাড়ি কুষ্টিয়া মিরপুর পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড সুলতানপুর মহল্লায়। পিতার নাম মৃত অনুকূল কর্মকার। ছাত্রজীবনে তিনি গল্প কবিতা নাটক লেখার পাশাপাশি নাটকে অভিনয় করতেন। পরবর্তীতে সন্তোষ কুমার দে (সাবেক প্রধান শিক্ষক পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়) ও গৌরচন্দ্র দেবনাথের সাহচর্যে জড়িয়ে পড়েন নাটক ও যাত্রা পরিচালনায়। ‘মর্জিনা এতিমখানা’ নামে তার লেখা নাটক ছাড়াও অর্ধশতাধিক নাটক অত্যন্ত সুনামের সাথে পরিচালনা করেছেন। তার পরিচালিত নাটক ও যাত্রাপালার মধ্যে শুভ বিবাহ, সাগর সেচা মানিক, পথের শেষে, স্বামীর ঘর, কোহিনূর ও সমাজের বলি উল্লেখযোগ্য। বাদল কর্মকার ১৯৬৫ সালে উপজেলার মশান প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করেন এবং সেখান থেকে পাহাড়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও সর্বশেষ মিরপুর সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সবমিলিয়ে ৪০ বছর শিক্ষকতা করে ২০০৫ সালে অবসর গ্রহণ করেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি এলাকার সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করতে কাজ করে যান। একসময় নাটক যাত্রাপালা এলাকার সব শ্রেনী ও পেশার মানুষের কাছে সুস্থ্য বিনোদনের মাধ্যম হিসাবে পরিগণিত হলেও দিনে দিনেই অশ্লীলতা ও রাজনৈতীক দুর্বৃত্তায়নের প্রসার ঘটায় বিনোদন পিয়াসী মানুষগুলো মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। সুস্থ পরিবেশ না থাকা ও মফস্বলের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে সচল রাখার জন্য সরকারিভাবে যথাযথ অর্থ বরাদ্দ না থাকায় তিনিও খানিকটা দূরে রয়েছেন নাটক থেকে।