আইরিন সুলতানা। ছোট পর্দা, মডেলিং ও অভিনয়ের পাশাপাশি সম্প্রতি নাম লিখিয়েছেন বড় পর্দায়। এখন পর্যন্ত কোনো ছবি মুক্তি না পেলেও একসঙ্গে হাফ ডজন ছবির কাজ করছেন আইরিন। ‘ছেলেটি আবোল তাবোল মেয়েটি পাগল পাগল’, ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’, ‘সেই তুমি’, ‘প্রিয়তমা আমি দাঁড়ি তুমি কমা’ চলচ্চিত্রগুলোর শুটিংয়ের কাজ করছেন। সময়ের এই আলোচিত অভিনয়শিল্পী এবার মুখোমুখি আমাদের পাঁচ প্রশ্ন বিভাগের। সাক্ষাত্কারটি নিয়েছেন রিয়াদ খন্দকার ও ছবি তুলেছেন
তাহের মানিক
তুলনামূলকভাবে আপনার সময়টা পজেটিভ না নেগেটিভ?
আমার জন্য বললে তো সব সময়ই পজেটিভ। কাজ পড়শোনা সব মিলিয়ে ভালোই চলছে। আসলে
আমি বরাবরই পজেটিভ চিন্তাটাই করি। সময়ের সাথে নিজেকে মানিয়ে নেওয়া চেষ্টা করি।
অনেক ব্যস্ততার মাঝেও জীবনের খেই হারিয়ে ফেলি না। সময়ই মানুষকে বলে দেয়, পথিক পথ
ওদিকে নয় পথ এদিকে। সুতরাং যে অবস্থায়ই হোক বা যে কারণেই হোক নিজেকে মানিয়ে নেওয়াটাই সবচেয়ে বড় ব্যাপার এবং আমি সে চেষ্টাই করি।
বর্তমানে ব্যস্ততা কী নিয়ে?
বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা একটু বেশি। এখন আছি বান্দরবানে সাইফ চন্দনের ‘ছেলেটি আবোলতাবোল মেয়েটি পাগল পাগল’ চলচ্চিত্রের শুটিংয়ে। ছবিটির শুটিং বেশ কিছুদিন আগে শুরু হলেও নানা কারণে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে। কিন্তু আবার পুরোদমে এর শুটিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে। চমত্কার একটি গল্প নিয়ে চলচ্চিত্রটি নির্মিত হচ্ছে। আশা করি দর্শকের ভালো লাগবে।
কোন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করতে পছন্দ করেন?
নিজে যা না সেই চরিত্রেই অভিনয় করাটাই একজন ভালো অভিনেত্রীর গুণ। অন্যের জীবনাচরণ নিজের মাঝে ধারণ করতে পারাটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় অভিনয়। আমার বরাবরই এই চেষ্টা আছে। তারপরও গল্প এবং চরিত্রের প্রয়োজনে বিভিন্ন ধরনের চরিত্রেই নিজেকে মানিয়ে নিতে আমি পছন্দ করি। আর বর্তমানে আমাদের স্ক্রিপ্টের মধ্যে অনেক বৈচিত্র্য এসেছে। শুধু প্রেম-ভালোবাসার মধ্যে আটকে নেই। দৈনন্দিনের নানা ধরনের ঘটনাগুলোই উঠে আসছে আমাদের পর্দায়।
ব্যক্তিগত জীবন এবং মিডিয়া দুটি সামাল দেন কীভাবে?
খুবই কঠিন। ভার্সিটির পড়াশোনা এবং অভিনয়—দুটি একসাথে সামাল দেওয়া মাঝে মাঝে খুব কঠিন হয়ে পড়ে। কিন্তু তারপরও সকলের সহযোগিতায় একটি নির্দিষ্ট ছকের মধ্যে সাজিয়ে নিয়েছি এসব। সিডিউল মেন্টেন করার ক্ষেত্রে আমার পরিচালক কো-আর্টিস্ট এবং ভার্সিটির বন্ধুদের সহযোগিতা অনেক। আর আমি আমার পরিবারের আদুরে মেয়ে। তাই আমার প্রতিটি কাজের পেছনে সবচেয়ে বড় যে অনুপ্রেরণা পাই তা আমার পরিবার থেকেই।
আপনার নাগরিক আনন্দ-বেদনা কতটুকু?
একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমার প্রথম চাওয়া হচ্ছে সঠিক নিরাপত্তা। আর বলতেই হয়, নাগরিক আনন্দ খুঁজে নিতে হয়, তবে নাগরিক বেদনা খুঁজে নেওয়া লাগে না, তা স্বাভাবিকভাবেই চলে আসে। দেশের নাগরিক হিসেবে অবশ্যই দেশের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা ও দায়বদ্ধতা আছে। দেশটাকে আরও পরিচ্ছন্ন, যানজটমুক্ত এবং দুর্নীতি মুক্ত দেখতে চাই।
