পথরেখা মুছে গেছে
ষোল ফিট প্রশস্ত কংক্রিট রাস্তা চলে গেছে গঞ্জের দিকে,
সরু রাস্তার পাশের লাজুক লজ্জাবতী
ঢাকা পড়ে গেছে অনেক লতাগুল্ম বর্ধনশীল তরু প্রজাতি।
না! কোনও চিহ্ন নেই
গহীন বনভূমির নিঃস্তব্ধতায় উদাসীন দুপুর
একদা প্রবল বর্ষণে উত্তর ধেয়ে আসা জল
লালমাটির খাড়ি বেয়ে ভিজিয়ে দিয়েছে
বিস্তীর্ণ সার সার তমাল তরু— সেগুন আর গজারির শরীর।
আর ক্যানিয়নে জালি পেতে যে কিশোর শত শত দিনরাত্রি
ডানকানা, আর বেতরঙ্গীর পিছনেই জমা রেখেছে
কষ্টকর ফেনায়িত সময়ের ফলক।
সাক্ষী আছে, অশীতিপর হামিদা বেওয়া
উপত্যকায় বসে থাকে জলপাত্র হাতে
ক্লান্ত পথিকের জলতৃষ্ণা নিবারণের দরদী মানবী।
সাক্ষী আছে, ঝাঁক ঝাঁক হরিয়াল আর টিয়ের দঙ্গল
না ওরা এখন কেউ নেই।
বৃক্ষ কর্তন করে বনভূমি জুড়ে গড়ে উঠেছে সামরিক ব্যারাক
প্রতিদিন তারস্বর চিত্কার করে কনভয় ছুটে যায়
দিনভর চানমারি’র শব্দে পাখিদের দল পালায় দূরে
প্রাকৃতিক এইসব সন্তানেরা সন্ত্রস্ত পথভারে হেঁটে যায়।
কংক্রিটে প্রতিদিন সহস্র ফৌজি পা লেফট-রাইট লেফট-রাইট
শুধু আমার পদরেখা মুছে গেছে।
