মদীনা শরীফ জিয়ারত

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৪০
জিয়ারত করা হজ্ব বা উমরার কোন অংশ নয়। তবে হজ্বের আগে বা পরে মসজিদে নববী জিয়ারত ও সেখানে নামায আদায়ের উদ্দেশ্যে মদীনায় যাওয়া যায়। শুধু রসূলের (স.) কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে যাওয়া বৈধ নয়। কারণ নবীজি বলেন, ‘তিনটি মসজিদ ছাড়া (নেকির উদ্দেশ্যে) সফর করা যাবে না। ১. মসজিদে হারাম ২. মসজিদে আকসা ও ৩. আমার এই মসজিদ’ (বুখারী)। ‘মসজিদে নববীতে নামায আদায় বায়তুল্লাহ ছাড়া অন্যান্য মসজিদে হাজার বার নামাজ আদায়ের চেয়েও উত্তম।’ (বুখারী) এখানে মসজিদের কথা বলা হয়েছে, কবর নয়। যে কোন সময়ে রসূলের কবর জিয়ারত করা যাবে। কিন্তু শুধুমাত্র তাঁর কবর জিয়ারতের উদ্দেশ্যে ঘর হতে বের হওয়া ও সফর করা নিষেধ। নবীজির কবর জিয়ারতের উত্সাহ, তাগিদ ও ফযিলতের ব্যাপারে বর্ণিত সব হাদীস মওযু বা জাল বা অতি দুর্বল। (আলবানী, সিলসিলা যঈফাহ..) যা ইসলামী শরীয়তে গ্রহণযোগ্য নয়। মসজিদে নববীতে প্রবেশ ও বের হওয়ার দু‘আ মসজিদে হারামে প্রবেশ ও বের হওয়ার দু‘আর মতো গ্রন্থের শুরুতে দেয়া হয়েছে। মসজিদে নববীতে প্রবেশ করে দু’রাকাত তাহইয়াতুল মসজিদ নামায আদায় করুন। তবে জামা‘আত চললে জামা‘আতে শামিল হন। সময় পেলে নফল নামায আদায় করুন। সেটা রাসূলের কবর ও মিম্বারের মধ্যবর্তী রওযার মধ্যে পড়ুন। হাদীসে একে রওযাতুল জান্নাহ বা জান্নাতের বাগান বলা হয়েছে। (বুখারী)। রওযায় মসজিদের কার্পেটের চেয়ে ভিন্ন রং এর কার্পেট বিছান রয়েছে। এরপর রওজা থেকে একটু সামনে যেয়ে বামে-দক্ষিণ দিকে অগ্রসর হয়ে প্রথমে রাসূলের (স.) কবর বরাবর গিয়ে সালাম দেবেন—‘আসসালামু আলাইকা ইয়া রসূলাল্লা-হ ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকাতুহ।’ একটু এগিয়ে যেয়ে আবু বকর (রা.) এর কবরের কাছে যেয়ে তাঁর ওপর সালাম দেন-‘আসসালামু আলাইকা ইয়া আবা বাকরিন ওয়া রহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।’ আরও একটু এগিয়ে উমার (রা.) এর কবরের কাছে যেয়ে তাঁর ওপর সালাম দেন-‘আসসালামু আলাইকা ইয়া উমারু ওয়া রহমাতুল্ল-হি ওয়া বারাকাতুহ।’ বাকী গোরস্থান- মসজিদে নববীর পূর্বদিকে বাকীউল গরকাদ জিয়ারত করুন। এখানে বহু সাহাবী, তাবেয়ী ও মুসলিম বিদ্বানের কবর রয়েছে। এ দু‘আ পড়ুন—‘আসসালামু আলা আহলিদ্দিয়ারি মিনাল মু’মিনিনা ওয়াল মুসলিমিনা, ওয়া ইন্না ইনশাআল্লা-হু বিকুম লাহিকুন, নাসআলুল্ল-হা লানা ওয়া লাকুমুল আফিয়াহ’ (মুসলিম)। মসজিদে কুবা-মসজিদে নববী থেকে ২ কি.মি. দক্ষিণে রসূল (স.) কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত মদীনায় প্রথম মসজিদ মসজিদে কুবা। এখানে যান এবং দু’রাকাত তাহইয়াতুল মসজিদ নামায পড়ুন। নবীজি প্রতি শনিবারে সওয়ারিতে বা পায়ে হেটে এখানে এসে দু’রাকাত নামায আদায় করতেন। নবীজি বলেন, ‘যে বাড়ি থেকে ওযু করে এখানে এসে নামায আদায় করবে সে একটি উমরাহ করার সমান সওয়াব পাবে’ (বুখারী, আহমাদ)। দেশে ফেরার পালা-বায়তুল্লাহ থেকে দেশে ফেরার সময় তিনবার আল্লা-হ আকবার বলুন এরপর এ দু‘আ করুন :‘লা ইলাহা ইল্লাল্ল-হু ওয়াহদাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িং ক্বদীর, আয়িবুনা তায়িবুনা সাজিদুনা লি রব্বিনা হামিদুনা, সদাকল্ল-হু ওয়া‘দাহু ওয়া নাসারা আবদাহু ওয়া হাঝামাল আহঝাবা ওয়াহদাহু’ (বুখারী)। নিজ বাড়িতে প্রবেশ-এ দুু‘আ করুন:‘আল্লা-হুম্মা ইন্নি আসআলুকা খয়রাল মাওলিজি ওয়া খয়রাল মাখরিজি, বিসমিল্লা-হি ওয়া লাজনা আলাল্লাহি রব্বিনা তাওয়াক্কালনা’ (আবু দাউদ)। দু‘আ করার পর বাড়ির সবাইকে সালাম দিন। প্রিয় হাজী! দু‘আ করি মহান আল্লাহ আপনার হজ্ব কবুল করুন। আর আপনিও মনে মনে বিশ্বাস করুন আপনি মাবরুর হজের (ত্রুটিহীন হজের) অধিকারী হয়েছেন। আপনি এখন নিষ্পাপ। তাকওয়ার গুণ অর্জন করুন। বেশি বেশি তাওবা করুন। ইবাদত শুধু আল্লাহর জন্য খালেস করুন। শিরক, বিদ‘আত বর্জন করুন। সর্বপ্রকার অন্যায় অশ্লীলতা পরিত্যাগ করুন। বিবেককে মানদণ্ড করুন। না জানা বিষয় যারা জানে তাদের থেকে জেনে নিন। যদি আপনার চরিত্র আগের মত থেকে যায় তাহলে জানবেন আপনার মাবরুর হজ হয়নি। অতএব এ ব্যাপারে সতর্ক হউন।