হজ্ব কার্যক্রমের ধারাবাহিক রূপরেখা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৪০
তালবিয়া লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা লাব্বাইক; লাব্বাইকা লা-শারী-কা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা, ওয়ান নি’অমাত লাকা ওয়াল মুলক লা-শারী-কা লাক। (আমি হাজির, হে আল্লাহ! আমি হাজির; আমি হাজির, আপনার কোন শরীক নেই-আমি হাজির, নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নেয়ামত আপনারই, সমগ্র রাজত্বও আপনার; আপনার কোন শরীক নেই)। ৮. জিলহজ্ব :তামাত্তু হজ্ব পালন কারী হাজীদের জন্য পূর্বের ন্যায় মক্কায় হারাম এলাকার নিজ নিজ অবস্থান থেকেই ইহরাম বাঁধতে হবে। ইহরামের পূর্বে শারীরিক পরিচ্ছন্নতা অর্জন করুন (গোঁফ ছাটা, হাত ও পায়ের নখ কাটা, নাভিমূল, বগলের লোম পরিস্কার করা)। ইহরাম বাঁধার সময় পুরুষ ও মহিলা সবার জন্যই গোসল করা সুন্নাত। অসুবিধা থাকলে ওজু করুন। গোসলের পর পুরুষরা সেলাইবিহীন কাপড় পরিধান করুন। পুরুষের জন্য নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত ঢেকে রাখা ফরজ। আর একখানা চাদর গায়ে জড়িয়ে নিন যেন দুই কাঁধ ও পিঠ ঢাকা থাকে। মহিলাগন যে কোন ধরনের পবিত্র এবং যথোপযুক্ত পোষাকে ইহরাম বাঁধবেন। ক. হজ্বের নিয়তের সময় বলুন “লাব্বাইকা আল্লাহুম্মা হাজ্জান’’ অথবা এভাবে বলুন (হে আল্লাহ! আমি হজ্ব পালন করার নিয়ত করছি। আপনি তা আমার জন্য সহজ করে দিন এবং আমার পক্ষ হতে কবুল করুন)। এবার তালবিয়া পড়ুন। পুরুষরা উচ্চস্বরে এবং মেয়েরা ক্ষীনস্বরে পড়ুন, যেন পাশের জন শুনতে পায়। তালবিয়া শেষে দরুদ পড়ুন এবং দো’আ করুন। এ তালবিয়া পাঠ চালু থাকবে ১০ জিলহজ্ব বড় জামারাতে কংকর নিক্ষেপের পূর্ব পর্যন্ত। খ. আজ ফজর নামাজ শেষে তালবিয়া পাঠ সহ সকল হাজী মিনার উদ্দেশ্যে রওয়ানা করবেন। (মিনা-আরাফা-মুজদালিফায় অবস্থানের জন্য আনুষাঙ্গিক সবকিছু একটি ছোট ব্যাগে নিন, ব্যাক-প্যাক নিলে হজ্জের দিনগুলোতে হাটা সহজ হবে)। গ. মিনায় পৌঁছে যোহর, আসর, মাগরিব, এশা এবং ফজর (৯ জিলহজ্ব) এই ৫ ওয়াক্ত নামাজ জামাআতের সাথে কছর করে আদায় করুন। আজ মিনায় রাত্রি যাপন করা সুন্নাত। ঘ. মিনা অত্যন্ত মোবারক, ত্যাগের মহিমায় উজ্জীবিত এবং ইসলামের একটি ঐতিহাসিক স্থান। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লাম থেকে বর্ণিত সকাল-সন্ধ্যার যিকির এবং বিভিন্ন দো’আয় মশগুল থাকুন। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা’য়ালা আপনাকে এই পর্যন্ত পৌঁছিয়েছেন এর শুকরিয়া ব্যক্ত করুন। এখানে সব কিছুই ধৈর্য্যের সাথে গ্রহন করুন। একই তাবুতে পর্দা টাঙ্গিয়ে মহিলা হাজীদের থাকার বন্দোবস্ত করুন। সকল সঙ্গী হাজীকে সকল কাজে সহযোগিতা করুন। আপনার পাশেই মেডিকেল ক্যাম্প আছে প্রয়োজনে সঙ্গী/বয়স্ক বা অসুস্থ হাজীকে ডাক্তার দেখাবার বন্দোবস্ত করুন। সুযোগ হলে মিনার ‘মসজিদে খউফ’ এ নামাজ আদায় করবেন। ৯. জিলহজ্বঃ ক. আজ আরাফা দিবস। আরাফাত ময়দানে অবস্থান করা হজ্জের ২য় ফরজ। মিনা হতে ফজর নামাজ শেষে সূর্যোদয়ের পর তালবিয়া পাঠ সহ আরাফাত ময়দানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করবেন। সূর্য্য পশ্চিম দিকে হেলার পরে মসজিদে নামিরা’য় হজ্জের খুত্বা পেশ হবে। খুত্বা শেষ হলে জামাআতের সাথে এক আযানে এবং পৃথক পৃথক ইকামতে কছর করে প্রথমে যোহরের ২ রাকাত এবং পরপরই আসরের ২ রাকাত নামাজ আদায় করবেন। এর আগে পরে কোন নামাজ নেই। আপনি আরাফাত সীমানার ভিতর প্রবেশ করেছেন এ ব্যাপারে অবশ্যই নিশ্চিত হবেন। সূর্য্য পশ্চিম দিকে হেলার পর হতে সূয্যাস্ত পর্যন্ত আরাফাত ময়দানে অবস্থান করতে হবে, আল্লাহর সমীপে বিনম্র ও বিনয়ী ভাবে। খ. আরাফার এই বিশাল ময়দানে বিশ্বনবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম বিদায় হজ্জের ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেছিলেন। আরাফাত ময়দান দো’আ কবুলের বিশেষ স্থান। কিবলামূখী হয়ে দাড়িয়ে দুই হাত উচু করে বিনয় ও নম্রতার সাথে আল্লাহর দরবারে কায়মনো বাক্যে বিভিন্ন দো’আ, তাসবীহ-তাহলীল, জিকির-তালবিয়া আদায়ে মগ্ন থাকুন-সূর্য্যাস্ত পর্যন্ত। রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সল্লামের জন্য দরুদ ও সালাম পেশ করুন। জীবনে আর কখনো এমন মোবারক মূহুর্ত নাও আসতে পারে। পিতা-মাতা, ভাই-বোন, সন্তান-সন্তনি, স্বামী-স্ত্রী, পরিবার-পরিজন, আত্নীয়-স্বজন, পাড়া প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব সহ মুসলিম উম্মা্হর জন্য দো’আ করবেন। আরাফাত ময়দানে পড়ার সর্বোত্তম দো’আ হল, যা রাসূল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসল্লাম পড়েছেন এবং তাঁর পূর্বের সকল নবীগনও পড়েছেন: ‘‘লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা-শারীকালাহু লাহুল মুলকু ওয়ালাহল হামদু, ইয়ূহয়ী ওয়া ইয়ূমীত, ওয়াহুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়্যিন ক্বদীর” (তিরমিযী)। ‘রব্বানা আতিনা ফিদ্দুনিয়া হাসানাতাঁও ওয়া ফিল আখিরাতে হাসানাতাঁও ওয়া কিনা আযাবান্নার’ (সুরা বাক্বারাঃ ২০১)। গ. মুজদালিফার পথেঃ সূর্য্যাস্থের পর আরাফাত থেকে মাগরিবের নামাজ আদায় না করেই ধীর-স্থির এবং ধৈর্য্য সহকারে তালবিয়া ও তাসবীহ পাঠ করতে করতে মুজদালিফার দিতে রওয়ানা হবেন। ঘ. মুজদালিফায় অবস্থানঃ মুজদালিফায় পৌঁছে মাগরিব ও এশার নামাজ এক আযানে ও দুই ইকামতে জামাআতের সাথে আদায় করবেন। এশার নামাজ কছর করবেন। বিতর নামাজ পড়বেন এবং বেশী বেশী দো’আ করে, খানা পানি খেয়ে ঘুমাবেন। যারা দূর্বল, মহিলা এবং ওযর আছে তারা মধ্যরাতের পর মিনায় চলে যাওয়া জায়েয আছে। মুজদালিফার সীমানার যে কোন স্থানে রাতে অবস্থান করা ওয়াজিব। আল্লাহ বলেন ‘যখন তোমরা আরাফাত হতে প্রত্যাবর্তন করিবে তখন মাশআরুল হারামের নিকট পৌঁছিয়া আল্লাহকে স্মরণ করিবে এবং তিনি যেভাবে নির্দেশ দিয়েছেন ঠিক সেভাবে তাঁহাকে স্মরণ করিবে। যদিও ইতিপূর্বে তোমরা বিভ্রান্তদের অন্তর্ভুক্ত ছিলে’ (সূরা বাকারাঃ ১৯৮)।