প্রসঙ্গ :ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৭:৩৩
মন্ত্রিপরিষদে নীতিগতভাবে অনুমোদিত ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং এ্যাক্ট-২০১৩ সম্পর্কে বিভিন্ন মহল থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ অব্যাহত রয়েছে। এটা স্বাভাবিক এবং সঙ্গত যে কোন আইনকে পরিপালনীয় করতে হলে এর প্রভাব একই সাথে সনাক্তযোগ্য ও পরিবীক্ষণীয় হওয়া আবশ্যক। দেশের জনস্বার্থ প্রতিষ্ঠানের হিসাব ও নিরীক্ষা তথা আর্থিক প্রতিবেদনে যথার্থ জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতকরণকল্পে উপযুক্ত মানদণ্ড নির্ধারণ এবং পরিপালন পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে যে আইন চূড়ান্তভাবে গৃহীত হতে যাচ্ছে দেখা দরকার সেটি উদ্দেশ্য পূরণ অভিমুখী হয়েছে কিনা। আলোচ্য আইনটি প্রণয়ন ও মুসাবিদাকালে সংশ্লিষ্ট বিষয়-আশয় খুঁটিনাটি নিশ্চয়ই দেখা হয়েছে এবং তা না হলে সংসদে আইনটি আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের প্রাক্কালে প্রতিক্রিয়া প্রকাশের এহেন পরিবেশ তৈরি হতো না। এই আইন প্রণয়নের প্রতিটি পর্যায়ে নিরীক্ষা ও হিসাব পেশা সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের অভিমত গৃহীত না হয়ে থাকলে কিংবা তাদের উদ্বেগ, অভিমত আইনটির চূড়ান্তকরণের এই পর্যায়ে বিবেচনার অবকাশ থেকে যাবে, নতুবা আইনটির যথার্থতা, প্রয়োগগত ভবিষ্যত্ কার্যকারিতা সম্পর্কে সংশয় সন্দিহানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এটা ঠিক যে আইন গৃহীত হবার সর্বোচ্চ প্লাটফর্ম হল সংসদ এবং সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির আওতায় যথাযথ যাচাই-বাছাই তথা সংসদীয় কমিটি কর্তৃক আইনটির চুলচেরা বিশ্লেষণের পর, প্রয়োজনে জনমত যাচাই সাপেক্ষে সুপারিশ গ্রহণের যে সনাতন রীতি পদ্ধতি আছে সেসব অনুসরণ করেই এই আইনটি প্রবর্তিত হবে বলে সকলের প্রত্যাশা ও বিশ্বাস। প্রস্তাবিত আইনটির প্রণয়ন ও প্রবর্তনের প্রেক্ষাপট পর্যালোচনায় দেখা যায় দেশে জনস্বার্থ সংস্থাসমূহে ফাইনান্সিয়াল কার্যক্রমের নিয়ন্ত্রণ তথা ন্যায়নীতি নির্ভরতার সপক্ষে নিরীক্ষা ও হিসাব পেশার নজরদারী ব্যবস্থাপনায় বেশ কিছু সমস্যা ও সীমাবদ্ধতা বিদ্যমান। নানান কৌণিক দৃষ্টিতে দেখা গেছে, প্রমাণিত হয়েছে, প্রতীয়মান হয়েছে আর্থিক কার্যক্রম পরিচালনায়, হিসাব সংরক্ষণে ও প্রক্ষেপণে, প্রতিবেদনে স্বচ্ছতায় ও অস্বচ্ছতা রয়েছে, হয়েছে। ক্ষেত্রবিশেষে পেশাজীবীদের দক্ষতা এবং ন্যায়ানুগতার রীতিপদ্ধতি প্রয়োগের মননশীল একাগ্রতা ও নিষ্ঠায় অপারগতাজনিত ঘাটতিও ধরা পড়েছে। ফলে বড় ধরনের আর্থিক কেলেঙ্কারীর দায়ভাগ স্বাভাবিকভাবে নিরীক্ষা ও হিসাব পেশাজীবীদের ওপরও বর্তিয়েছে। স্বাধীনতা লাভের পর বাংলাদেশে বিগত ৪২ বছরে অর্থনীতির আকার বেড়েছে। মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বিশ্বায়নের বদৌলতে বিশ্ব অর্থনীতির সাথে লেনদেন ও যোগাযোগের মাত্রাও বেড়েছে বিপুল ব্যঞ্জনায়। বর্ধিত ও স্ফীতকায় এসব কর্মকাণ্ডের যথাযোগ্য হিসাব ও নিরীক্ষায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ ও দেখভালের জন্য উপযুক্ত উপরিদর্শন বা নজরদারীর প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। এসবের জন্য প্রয়োজন দক্ষ পেশাজীবী এবং দৃঢ়চিত্ত মনোভাব ও নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি সঞ্জাত প্রাজ্ঞ পেশাজীবী। হিসাব পেশার বিকাশ ও নিয়ন্ত্রণ করার উদ্দেশ্যেই রাষ্ট্রপতির আদেশ (১৯৭৩ সালের ২নং আদেশ) বলে প্রতিষ্ঠিত সংবিধিবদ্ধ সংস্থা আইসিএবির, অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের মতই, প্রধান কাজ হল সিএ পেশা এবং নিরীক্ষাসহ সকল সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমের মান উন্নয়ন এবং নিয়ন্ত্রণ করা, নিরীক্ষা ও হিসাব পেশাজীবীদের নিবন্ধন সনদ প্রদান, হিসাব নিরীক্ষা পেশা পরিচালনা অনুমোদনসহ উক্ত পেশার আচরণবিধির শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কার্যক্রমের ক্ষেত্রে উপযুক্ত শাস্তি বা দণ্ড প্রদান করা। সনদ প্রদান প্রক্রিয়ায় যথেষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ, হিসাব ও নিরীক্ষায় অনুসৃতব্য নির্দেশনাসমূহে যথা স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ এবং প্রক্ষেপিত প্রতিবেদনে প্রতিবেদনাধীন প্রতিষ্ঠানের হিসাব-নিকাশের নির্মোহ মূল্যায়নের উপর আস্থার পরিবেশ সৃজনের আবশ্যকতা সে নিরীখেই উদ্ভূত অনুভূত হয়েছে। বাংলাদেশের বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক পরিবেশে নিরীক্ষা ব্যবস্থাপনার বিশ্বব্যাপী বেঁধে দেয়া স্ট্যান্ডার্ড রীতি পদ্ধতির পথে আছে কিনা কিংবা হাঁটছে কিনা, তা প্রয়োগে পারঙ্গম কিনা, দক্ষতা ও মানদণ্ড যথাযথ আছে কিনা সে ব্যাপারে ২০০৪ সালের দিকে বিশ্বব্যাংক রস নামে একটি গুচ্ছ সংস্কার কর্মসূচির আওতায় বাংলাদেশের বিদ্যমান ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান, নিরীক্ষা ও হিসাবসহ আর্থ-প্রশাসনিক বেশ কিছু আইন-কানুনের সুরতহাল পরীক্ষা পর্যালোচনার একটি তাগিদ প্রকল্প গ্রহণ করে। সেই প্রকল্পের আওতায় দেশের বেসরকারি খাতে নিরপেক্ষ ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান ও পেশা নিরীক্ষা ও হিসাব ব্যবস্থাপনার বিদ্যমান কাঠামো কর্মযোজনা ও পদ্ধতি প্রক্রিয়ার সংস্কারের প্রশ্নটি উঠে আসে। প্রশ্ন উঠে এই সংস্কার কিভাবে বিদ্যমান আইনের মধ্যস্থিত দুর্বলতা, অসম্পূর্ণতা, অপারগ পরিস্থিতি ও সংশোধন পরিমার্জন না পৃথক আরেকটি নজরদারী সংস্থা সৃষ্টি করে এ উদ্দেশ্য পূরণ করা হবে। চার বছরেরও অধিককালের কসরতের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে ২০০৮ সালের শেষ সপ্তাহে উপদেষ্টা পরিষদে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টি এাক্ট ২০০৮ নীতিগতভাবে অনুমোদিত হয় এবং ৩০ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতির (২০০৮ সালের ৬৪ নং) অধ্যাদেশ হিসাবে জারি করা হয়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর যাচাই-বাছাই শেষে অন্যান্য অনেক অধ্যাদেশের মত এটিও গৃহীত (র্যাটিফাই) না হওয়ায় পরিত্যক্ত হয়। ফলে আইনটি জন্মিয়াও জন্মলাভ করেনি। পরবর্তীকালে দাতা সংস্থাসমূহের নিকট থেকে বাজেট সাপোর্ট এবং ইসিএফ ঋণ গ্রহণের শর্তের মধ্যে ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং পদ্ধতির উন্নয়নের শর্ত পুনরুজ্জীবন লাভ করে। ইতোমধ্যে শেয়ার বাজার ও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে বড় বড় বিপর্যয় সৃষ্টি হলে দেশের নিরীক্ষা ও হিসাব ব্যবস্থাপনার দায়-দায়িত্ববোধে দুর্বলতার দিকটি প্রকট হয়ে ওঠে। এ প্রেক্ষাপটে নিরীক্ষা ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় সংস্কার সাধনের প্রশ্নটি আবার সামনে চলে আসে এবং সে সূত্রে জন্মিয়াও জন্মলাভ না করা এফআরএর পুনর্জন্ম লাভের ঘনঘটা শুরু হয়। গতমাসে মন্ত্রিপরিষদ পুনরায় এফআরএ নীতিগতভাবে গ্রহণ করেছে। আসন্ন সংসদ অধিবেশনে এটি চূড়ান্ত বিবেচনার জন্য পেশের প্রাক্কালে আইসিএবি এফআরএ বিশেষ করে এর অধীনে গঠিত এফআরসি-এর সংগঠন, কার্যাবলি ও শাস্তি বিধানের দায়িত্বাবলি সম্পর্কে তাদের অভিমত তুলে ধরছে। একথা অস্বীকার করার কোন উপায় নেই যে দেশের নিরীক্ষা ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা দূরীকরণ, এ অপারগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সবার ওপর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণকল্পে উপযুক্ত উপরিদর্শন সংস্থা সৃজনের যৌক্তিকতা নিয়ে কোন প্রশ্ন বা আপত্তি থাকার কথা নয়। তবে এফআরসি গঠিত হলে নিবন্ধনের ব্যাপারে দ্বৈততা সৃষ্টি হবে কিনা, কাউন্সিল কতটা এবং কিভাবে স্বাধীনভাবে যোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতার সাথে উপরিদর্শনের ভূমিকা পালন করতে সক্ষম হবে, এফআরসি-কে সিআরপিসির আওতায় ব্যবস্থা গ্রহণের এখতিয়ার দান পরিস্থিতি অতিশয় জটিল ও নিগ্রহমূলক হয় কিনা, এসব বিষয়ে প্রস্তাবিত আইনের ধারা-উপধারা বিশ্লেষণের এবং জনমত যাচাইয়ের ও অভিমত প্রকাশের সুযোগ নিশ্চয়ই থাকবে। প্রাকরণিক পদ্ধতি প্রক্রিয়ায় এই পেশায় সনদধারিত্বে গুণগতমান ক্ষুণ্ন হবে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে। দেশের অন্যান্য নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে যে সমস্ত গঠনতান্ত্রিক সীমাবদ্ধতা পরিলক্ষিত হয় প্রস্তাবিত এফআরসি তেমন যেন না হয় সে বিষয়টিও দেখার অবকাশ রয়েছে। দেখা যাচ্ছে এফআরসি সদস্যসংখ্যা সর্বমোট ১২। এদের মধ্যে ৯ জন পদাধিকারবলে উচ্চপদস্থ পর্যায়ের ব্যক্তি, প্রধান নির্বাহী এবং ২ জন বিশেষজ্ঞ। আইনে বলা হয়েছে ৫ জন হলেই কোরাম হবে এবং উপস্থিতিদের মধ্য থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠদের সম্মতিতে সব সিদ্ধান্ত হবে। এটি নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান হিসেবে এফআরসির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বারবার প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। প্রস্তাবিত আইনের বিভিন্ন ধারা-উপধারায় বর্ণিত বিধানসমূহের মধ্যে পরস্পর প্রযুক্তকরণের ক্ষেত্রে অসামঞ্জস্যতা ও বিচ্যুতি থাকলে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত হিসাব ও নিরীক্ষা পেশার স্বাধীনতা ও স্বার্থ ক্ষুণ্ন হতে পারে, নিবন্ধন ও নিরীক্ষা পেশা নিয়ন্ত্রণে দ্বৈততার সৃষ্টি হতে পারে এমন সাংঘর্ষিক অথবা অচল অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে বা দ্ব্যার্থতা সৃষ্টিকারী এমন শব্দ বা বাক্য থাকলে তা খতিয়ে দেখার অবকাশ আছে বলে প্রতীয়মান হয়। ২০০৮ সাল পর্যন্ত যে প্রেক্ষাপটকে বিবেচনায় এনে অর্থাত্ নিরীক্ষা ও হিসাব ব্যবস্থাপনায় পরিলক্ষিত সীমাবদ্ধতার সংস্কার প্রেসক্রাইব করা হয়েছিল ইতিমধ্যে সেই পরিবেশ পরিস্থিতিতে যদি কোন কার্যকর উন্নতি সাধিত হয়ে থাকে তাহলে একই প্রেসক্রিপশন একইভাবে এখনো রাখা যুক্তিযুক্ত হবে কিনা সে বিষয়টিও বিবেচনায় আসতে পারে। দেখা যাচ্ছে ২০০৮ সালের অধ্যাদেশে মানদণ্ড উন্নয়ন বিষয়ক যা যা ছিল দু’এক জায়গায় কিঞ্চিত্ পরিবর্তন ছাড়া অনেকটা হুবহু তাই-ই প্রেসক্রাই্ব করা হয়েছে ২০১৩-এর আইনে। গত কয়েক বছরে এই পেশায় মানোন্নয়নে বেশ কিছু অগ্রগতি বা পরিবর্তন সূচিত হয়েছে আন্তর্জাতিক চার্টার্ড একাউন্ট্যান্টস সংস্থার সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এর মাধ্যমে বাংলাদেশের সিএ পড়ুয়াদের আরটিক্যালিসপ ট্রেনিং এবং পরীক্ষাসমূহ আন্তর্জাতিকমানের হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। এছাড়া ২০১২ সালে উন্নতমানের ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং-এর জন্য সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সর্বোচ্চ সংখ্যক সেরা প্রকাশিত প্রতিবেদন লাভ করে অর্থাত্ প্রথম স্থান অর্জন করেছে। ইতিমধ্যে সার্ক-এর হিসাব নিরীক্ষা সংক্রান্ত শক্তিশালী কমিটি সংগঠন SAFA সার্কের সদস্য দেশসমূহে হিসাবনিরীক্ষা পদ্ধতি সংস্কার, উন্নয়ন ও সমন্বয় সাধনে যে সমস্ত উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেখানে উজ্জ্বল ভূমিকায়। আন্তর্জাতিক একাউন্টিং স্ট্যান্ডার্ড বোর্ড কর্তৃক ইস্যুকৃত স্ট্যান্ডার্ড প্রতিপালন নিশ্চিত করার বিষয় উল্লেখ করা হলেও আইনে আগ্রহী ব্যক্তিবর্গের কাছ থেকে মন্তব্য আহবান করে ফাইন্যানশিয়াল রিপোর্টিং ও অডিটিং স্ট্যান্ডার্ড প্রণয়ন করার বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। স্ট্যান্ডার্ডস প্রণয়নের এই দ্বৈত পদ্ধতি থাকার বিষয়টি পুনঃপর্যালোচনা করা যেতে পারে। আর্থিক বিবরণীর সংজ্ঞা আন্তর্জাতিক ফাইনান্সিয়াল রিপোর্টিং স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণপূর্বক হওয়া আবশ্যক। এ ব্যাপারে কোন অস্পষ্টতা থাকা সমীচীন হবে না। আর্থিক কর্মকাণ্ড ও অর্থনৈতিক বিষয়ে নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান যথা: বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, ইন্স্যুরেন্স ডেভেলপমেন্ট এ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি ইত্যাদি সংস্থাগুলোর দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত অপারগতা বা সীমাবদ্ধতার কারণে এসব প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমে অধিকতর ও যুগোপযোগী গতিশীলতা আনার জন্য যেমন বিভিন্ন সংশোধনী এনে তাদের উত্কর্ষতা সাধন ও কার্যকরীকরণের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রয়েছে। একইভাবে আইসিএবি-এর গঠন কাঠামোতে পরিবর্তনসহ প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে এসব প্রতিষ্ঠানকে অধিকতর শক্তিশালী করলে হিসাব ব্যবস্থাপনা এবং নিরীক্ষা কার্যক্রমের আরো স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি সাধিত হবে এবং একই সাথে এফআরআর-এর আওতায় একটি কার্যকর এফআরসি গঠিত হলে এবং সে প্রতিষ্ঠানকে নজরদারীর সুস্পষ্ট ও সুপর্যালোচনা প্রসূত দায়িত্ব সুনির্দিষ্ট করে অর্পিত হলে সার্বিকভাবে হিসাব ও নিরীক্ষা ব্যবস্থাপনার প্রতি আস্থা বাড়বে, মর্যাদা লাভ হবে পেশার এবং দেশ ও অর্থনীতি হবে বহুধায় উপকৃত। সকলেরই এটা মেনে নেয়া উচিত। লেখক : সরকারের সাবেক সচিব এবং এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান