গৃহযুদ্ধ অচলাবস্থায় পৌঁছেছে

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৩২
সিরিয়ান উপ-প্রধানমন্ত্রী কাদরি জামিল বলেছেন, কোনো পক্ষই জয়ী হওয়ার মতো যথেষ্ট শক্তিশালী না হওয়ায় সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ অচলাবস্থায় পৌঁছেছে। এদিকে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংসের যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া করেছে তা শতভাগ সফল হওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। ইতোমধ্যে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ানকে দেয়া সাক্ষাত্কারে কাদরি জামিল বলেন, জেনেভায় প্রস্তাবিত শান্তি আলোচনায় দামেস্ক সশস্ত্র বিরোধীদের সাথে যুদ্ধবিরতির আহবান জানাতে পারে। জামিল জোর দিয়ে বলেন, ‘সিরিয়ায় পরিবর্তন হচ্ছে। চাপ প্রয়োগ নয়, সিরিয়ার এখন সমর্থন প্রয়োজন।’ ধারণা করা হচ্ছে, জামিলের এই বক্তব্য শান্তি আলোচনার জন্য রাশিয়ার প্রস্তুতির অগ্রগতির প্রতিফলন। এদিকে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংসের যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া করেছে তা শতভাগ সফল হওয়া নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার ভালদাইয়ে বৃহস্পতিবার সাংবাদিক ও বিশেষজ্ঞদের পুতিন বলেন, ‘সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংসের পরিকল্পনা সফল হওয়া নিয়ে আমি শতভাগ নিশ্চিত নই। তবে এই কয়েকদিনে ঘটা ঘটনাগুলো আমাদের আত্মবিশ্বাস যুগিয়েছে যে, এটা (অস্ত্র ধ্বংসের কাজ) হবে।’ সিরিয়া যাতে এই দায়িত্ব শেষ করতে পারে, সেটি পর্যবেক্ষণে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সব সদস্যের দায়িত্ব নেয়ারও আহবান জানান পুতিন। ইতোমধ্যে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহবান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরি বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের বলেছেন, সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের বিষয়ে বিতর্কের কিছু নেই। আগস্ট মাসে সিরিয়ায় রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারে যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে তার জন্য দায়ী সিরিয়ার সরকার এবং আগামী সপ্তাহের মধ্যেই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে হবে। তিনি আরো বলেন, ‘এখন বিতর্কে না জড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়ার সময়। পুরো বিশ্ব দেখছে সামরিক অভিযান না চালিয়ে শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে এ বিষয়ে আমরা সমাধানে আসতে পারি কিনা। এখনই একটি কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা খুব জরুরি।’ গতমাসে দামেস্কের উপকণ্ঠে স্নায়ু বিকলকারী সারিন গ্যাস হামলায় বহু মানুষের প্রাণহানির পর এ হামলার জন্য প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ সরকারকে দায়ী করে সিরিয়া আক্রমণের হুমকি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। হামলার সিদ্ধান্ত নিয়ে আন্তর্জাতিক মহল দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। পরে সিরিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংসের ব্যাপারে ১৪ সেপ্টেম্বর রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একটি চুক্তি হয়। চুক্তি অনুযায়ী আসাদকে এ সপ্তাহের মধ্যে তার রাসায়নিক অস্ত্রভাণ্ডারের হিসাব করতে হবে এবং আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ সেগুলো ধ্বংস করতে হবে।