ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ

সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেটবিহীন একদিন

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২২:০৫
ফুটবল হোক আর ক্রিকেট; ঘরোয়া খেলায় মাঠভর্তি দর্শক এখন দিবাস্বপ্নে পরিণত হয়েছে। আবাহনী-মোহামেডানের ম্যাচেও এখন গ্যালারি খা খা করে। সেখানে কাল মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ব্রাদার্স ইউনিয়ন বনাম ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিংয়ের ম্যাচে হাজার দুয়েক দর্শক যে দেখা গেল, তাতেই সবার খুশি হয়ে ওঠার কথা। কিন্তু যেরকম জমজমাট খেলা দেখার আশা নিয়ে মাঠে দর্শক এসেছিল, তা মিরপুরে হয়নি। শুধু মিরপুরে নয়, রান উত্সব বা উইকেট উত্সবের কথা বিবেচনায় নিলে কাল ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের তিন ভেন্যুতেই বড় খরার একটা দিন গেল। চলতি মৌসুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এই প্রথম সেঞ্চুরি বা ৫ উইকেট বিহীন একটা দিন কাটল। এমন দিনে লড়াই অবশ্য দারুণ হয়েছে ফতুল্লায়। গাজী ট্যাংক ও কলাবাগানের রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ৮ রানের জয় পেয়েছে গাজী ট্যাংক। মিরপুরে দারুণ লড়াইয়ের আভাস থাকা ম্যাচে শেষ পর্যন্ত ভিক্টোরিয়ার বিপক্ষে ৬ উইকেটের জয় পেয়েছে ব্রাদার্স। আর দিনের সবচেয়ে একপেশে ম্যাচে, বিকেএসপিতে প্রাইম ব্যাংক ১৫২ রানে হারিয়েছে ক্রিকেট কোচিং স্কুলকে (সিসিএস)। ঘাস-বৃষ্টি-ম্যাথুস-নাজমুস মিরপুরকে বলা হয় বাংলাদেশের হোম অব ক্রিকেট। কিন্তু প্রিমিয়ার লিগের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ উপলক্ষে মাঠের যে প্রস্তুতি তাতে অন্তত কিউরেটরের লজ্জা পাওয়ার মতোই ঘটনা দিয়ে দিন শুরু হল। মাঠের দক্ষিণপাশে (থানা প্রান্ত) ঘাস অনাকাঙ্ক্ষিত পরিমাণে বড় থাকায় নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা পরে শুরু হল ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত ঘাসের সঙ্গে আপস করতে বাউন্ডারিও ছোট করে আনা হল! এই ছোট মাঠেও ভিক্টোরিয়া স্পোর্টিংয়ের শুরুটা হল যাচ্ছেতাই। বর্ষা মৌসুমের উইকেট আর ভিক্টোরিয়ার ব্যাটসম্যানদের খামখেয়ালি মিলিয়ে ১১ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে ফেললো তারা। এই সময় ভিক্টোরিয়াকে উদ্ধার করলেন জুবায়ের আহমেদ। নাসির ও শরীফের সঙ্গে পঞ্চম ও ষষ্ঠ উইকেটে দুটো কার্যকর জুটি করে তিনিই এগিয়ে দিলেন দলকে। শেষ পর্যন্ত জুবায়েরের ৫০, নাসিরের ৩৫, শরীফের ৩৩ এবং সাজেদুল ও এনামুলের ঝড়ো ২৭ ও ২৯ রানে ভর করে বেশ সম্মানজনক একটা পুঁজি পেল ভিক্টোরিয়া। উইকেট বিবেচনায় ৯ উইকেটে করা তাদের ২১৩ রানকে একেবারে কম রান বলা যাচ্ছিল না। ব্রাদার্সের তামিম, ইমতিয়াজ, নাফিস ও মেহরাবের অল্প রানে আউট হয়ে যাওয়ায় ভিক্টোরিয়ার রানটাকে আরও বড় মনে হচ্ছিল। এর মধ্যে দফায় দফায় হালকা বৃষ্টি এসে ব্রাদার্সের শঙ্কাটা আরও বাড়াচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত অ্যাঞ্জোলো ম্যাথুস ও নাজমুস সাদাত পাল্টা আক্রমণ করে ব্রাদার্সকে ৬.১ ওভার বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিলেন। ম্যাথুস ৭৬ বলে করলেন অপরাজিত ৫৬; কোনো চার নেই, ইনিংসে চারটি ছক্কা। নাজমুস ৯৭ বলে ১০টি চার ও ২টি ছয়ে সাজানো ৮২ রানে অপরাজিত রইলেন। চার ফিফটির লড়াই ফতুল্লায় ব্যাটে-বলে সত্যিকারের লড়াই হয়েছে কাল। আগে ব্যাট করে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ও ওপেনার তারিক উসমানের ৫০ রানে ভর করে ৮ উইকেটে ২৪৪ রান তুলেছিল গাজী ট্যাংক। ইনিংসে বড় একটা ভূমিকা ছিল ইমরুল, স্টাইরিস, রকিবুলদের কার্যকর ইনিংসগুলোর। ২৪৫ রান তাড়া করতে গিয়ে দুই শ্রীলঙ্কান জিহান মুবারক ও চামারা কাপুকেদেরার ফিফটিতে চেপে দিব্যি এগোচ্ছিল কলাবাগান। কিন্তু ১৭৪ রানে জিহানের আউটের থেকে ৬২ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে অলআউট হল কলাবাগান। আরও ভালো করে বললে বলা যায় ১৬ রানে শেষ ৫ উইকেট হারালো তারা! ফলে ইনিংসের ৩ বল বাকি থাকতে ২৩৬ রানে অলআউট কলাবাগান; জয় তখনও ৮ রান দূরে! দুই বিদেশি দাপট কাল দিনের সবচেয়ে বড় ইনিংসটা বিকেএসপিতে উপহার দিল প্রাইম ব্যাংক। এবার লিগের শুরু থেকেই ভালো করতে থাকা প্রাইম ব্যাংক কাল পেল ১৫২ রানের বড় জয়। মূলত ব্রেন্ডন টেলরের ৮৬ রানের ওপর দাঁড়িয়ে ৮ উইকেটে ২৪৯ রান তুলেছিল প্রাইম ব্যাংক। বিশ্বনাথ হালদান ৩ উইকেট নিয়ে নিজের ফর্ম ধরে রাখলেও প্রাইম ব্যাংককে আটকাতে পারেননি। বরং এই বড় লক্ষ্যে খেলতে নেমে হুড়মুড় করে ধসে পড়ল সিসিএসের ইনিংস। শুরুটা একেবারে খারাপ ছিল না সিসিএসের। উদ্বোধনী জুটিতে ৩৪ রান তুলেছিল তারা। কিন্তু এরপর আর ৬৩ রানে অলআউট হয়ে যায় সিসিএস। তাদের ধসিয়ে দেয়ার এই কাজটি করেন আসলে ৩১ রানে ৪ উইকেট নেয়া জীবন মেন্ডিস। ওয়াল্টন ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগ ২০১২-২০১৩ ম্যাচ : ব্রাদার্স ইউনিয়ন - ভিক্টোরিয়া এসসি ভিক্টোরিয়া এসসি : ৫০ ওভারে ২১৩/৯ (নাসির হোসেন ৩৫, জুবায়ের আহমেদ ৫০। আজহার মাহমুদ ২/৩২, অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ২/২৯, ইমতিয়াজ হোসেন ২/৭) ব্রাদার্স ইউনিয়ন : ৪৩.৫ ওভারে ২১৪/৪ (অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুস ৫৬*, নাজমুস সাদাত ৮২*। মো: শরিফ ১/৩৬, সেজওয়া ওয়েরাকুন ২/৩৫) ম্যান অফ দ্য ম্যাচ : নাজমুস সাদাত ব্রাদার্স ইউনিয়ন ছয় উইকেটে জয়ী গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স — কলাবাগান কেসি গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স : ৫০ ওভারে ২৪৪/৮ (তারিক ওসমান ৫০, মাহমুদুল্লাহ ৫০, রাকিবুল হাসান ৩৯। জিহান মুবারক ২/৫৩, নাঈম ইসলাম ৩/৪৪) কলাবাগান কেসি : ৪৯.৩ ওভারে ২৩৬/১০ (ফরহাদ হোসেন ৩৬, জিহান মুবারক ৬৫, কাপুগেদারা চামারা ৬০। রুবেল হোসেন ২/৫১, আরাফাত সানি ২/৪৫, মাহমুদুল্লাহ ২/১৩) ম্যান অফ দ্য ম্যাচ : মাহমুদুল্লাহ গাজী ট্যাংক ক্রিকেটার্স ৮ রানে জয়ী প্রাইম ব্যাংক সিসি — ক্রিকেট কোচিং ক্লাব এসসি প্রাইম ব্যাংক সিসি : ৫০ ওভারে ২৪৯/৮ (সৈকত আলী ২৮, ব্রেনডন টেইলর ৮৬। বিশ্বনাথ হালদার ৩/৪৩, সুজিত পার্বাতানি ২/৩৮) ক্রিকেট কোচিং ক্লাব এসসি : ৩৬.৩ ওভারে ৯৭/১০ (অমিত মজুমদার ২৪, আসিফ আহমেদ ২৭। এনামুল হক জুনিয়র ২/১৪, জীবন মেন্ডিস ৪/৩১, মাহামুদুল হাসান ২/১) ম্যান অফ দ্য ম্যাচ : ব্রেনডন টেইলর প্রাইম ব্যাংক সিসি ১৫২ রানে জয়ী