এদেশের ফুটবল খেলার জনপ্রিয়তা যখন আকাশ ছোঁয়া উচ্চতায়, খেলোয়াড়রা পাচ্ছিলেন লোভনীয় পারিশ্রমিক। তখন ক্লাবগুলো পারিশ্রমিক কমাতে জেন্টেলম্যান্ট অ্যাগ্রিমেন্ট করে খেলোয়াড়দের পায়ে শিকল পরিয়ে দিয়েছিল। যোগ্য পারিশ্রমিক না পাওয়া ফুটবলারদের আর্তনাদ ঘুচাতে দীর্ঘ অভিমান ভেঙ্গে পুনরায় ফুটবলে এসেছিলেন ক্রীড়া সংগঠক মঞ্জুর কাদের। দেশসেরা ফুটবলারদের প্রাপ্য পারিশ্রমিক হাতে তুলে দিয়ে ৯৪ সালে নতুন আঙ্গিকে গড়ে তোলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র আজও ফুটবলে বড় দল হিসাবে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে। বছর চারেক আগে অবহেলিত ধানমন্ডি ক্লাবটির হাল ধরলেন তিনি। তারকা ফুটবলারদের নিয়ে দল গড়ে মোহামেডান আবাহনীকে পিছিয়ে দিয়ে শিরোপা জয় করে তুলে ধরলেন সাফল্য পেতে কোচ খেলোয়াড়দের পাশাপাশি সাংগঠনিক নেতৃত্বের বিচক্ষণতা। ক্রীড়াঙ্গনে নতুন নতুন চমক সৃষ্টি করেছেন মঞ্জুর কাদের। যে কারণে সংবাদ মাধ্যমও তার দিকে বিশেষ নজর রাখে। বঙ্গবন্ধুর পুত্র শেখ জামালের স্মৃতি বিজড়িত ক্লাবটিকে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব লিমিটেড নামে গড়ে তুললেন অনুকরণীয় সংগঠন হিসাবে। ফুটবল কিংবা ক্রিকেট, খেলোয়াড়দের জন্য অকৃপণ ভাবে অর্থ ভাণ্ডার খুলে দিয়েছেন।
জেলা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হওয়ার পর জেলা ফুটবলকে চাঙ্গা করতে হাত বাড়িয়ে দিলেন।
মুক্তিযুদ্ধে ২ নম্বর সেক্টরে সম্মুখ যুদ্ধ করেছেন মঞ্জুর কাদের। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালীন সম্মিলিত বিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল দলে খেলেছেন। খেলোয়াড়ী জীবন গৌরবময় করেছেন আবাহনী ক্রীড়া চক্র, আজাদ স্পোর্টিং ক্লাব, জাতীয় ফুটবল (বাংলাদেশ সবুজ দল) দলে খেলে। ফুটবল ক্রিকেট সবই খেলেছেন তিনি। জড়িয়েছেন সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে।
স্বাধীনতা উত্তর ফুটবল লিগে প্রথম হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন আবাহনী ক্রীড়া চক্রের ফুটবল ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করে ব্যাপক জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।
সংগঠন পরিচালনায় মঞ্জুর কাদেরের উপর আস্থা রেখেছেন দেশের পরীক্ষিত ক্রীড়া সংগঠকরাও। ক্রীড়াঙ্গনে এখন গুরুত্ব পূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। সভাপতি হয়েছেন প্রিমিয়ার ফুটবল ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন এবং প্রিমিয়ার ক্রিকেট ক্লাব অ্যাসোসিয়েশনের। এবার নতুন লড়াইয়ে নামছেন নেতৃত্বে পরীক্ষিত ক্রীড়া সংগঠক মঞ্জুর কাদের। উত্তরা ক্লাবের সভাপতি পদে নির্বাচন করতে তত্পরতা শুরু করেছেন তিনি।
