শিক্ষা মন্ত্রী নূরুল ইসলাম নাহিদ বলেছেন, রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে পরীক্ষায় পাসের হার গত বছরের চেয়ে চলতি বছর পাঁচ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তাছাড়া একই কারণে বার বার পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করতে হয়েছে। অপরদিকে প্রতিটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য সিসি ক্যামেরা বসানোর কথা বলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার চলতি ১৯তম অধিবেশনের দ্বিতীয় বেসরকারি সদস্য দিবসে প্রশ্নোত্তর পর্বে মন্ত্রী সংসদকে এসব কথা জানিয়েছেন।
স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে বিকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হয়। বৃহস্পতিবার অধিবেশনের ষষ্ঠ কার্যদিবসেও বিএনপির নেতৃত্বাধীন বিরোধী দল সংসদে যোগদান করেনি।
শেখ ফজলুল করিম সেলিম সম্পূরক প্রশ্নে বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত ও উন্নয়ন করার জন্য অর্থমন্ত্রীকে টাকা দিতেই হবে। এটি হাউজের সেন্টিমেন্ট। সরকারের মাত্র তিন মাস সময় রয়েছে। তাই চলতি মাসের মধ্যেই টাকা দিতে হবে। তা নাহলে উন্নয়ন কাজ শেষ করা যাবে না। এ টাকা বরাদ্দের জন্য আমি প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। জবাব দিতে গিয়ে শিক্ষা মন্ত্রী জানান, আমি নিজেও একজন সংসদ সদস্য। শিক্ষার উন্নয়ন ও এমপিওভুক্তির জন্য সরকারকে টাকা দিতে হবে।
চিফ হুইপ উপাধ্যক্ষ মো. আবদুস শহীদ দেশের কলেজগুলোতে শিক্ষক অপ্রতুলতার কথা তুলে ধরে শিক্ষক নিয়োগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কী উদ্যোগ তা জানতে চান। জবাবে শিক্ষা মন্ত্রী জানান, শিক্ষক নিয়োগ মন্ত্রণালয় দেয় না। দেয় পিএসসি। এবারে তাদের বার বার বলার পরেও কোন ফলাফল পাওয়া যায়নি। তবে এটাও সত্য যে, শিক্ষা বরাদ্দের ৬৫ ভাগ অর্থ চলে যায় শিক্ষকদের বেতন দিতে। বাকি টাকা আমরা সৃজনশীল খাতে ব্যয় করি। ফলে নতুন শিক্ষক নিয়োগ দিতে চাইলে বরাদ্দ বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
সাধনা হালদার জানতে চান বিএনপি-জামায়াতের হরতাল কর্মসূচির কারণে শিক্ষা ক্ষেত্রে কি ক্ষতি হয়েছে বা হচ্ছে? জবাবে শিক্ষা মন্ত্রী জানান, চলতি বছরে বিএনপি-জামায়াতের সহিংস কর্মসূচি হরতাল, ভাংচুর, জ্বালাও পোড়াও-এর কারণে উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার ৩৩টি পত্রের পরীক্ষার সময়সূচি পরিবর্তন করতে হয়েছে। রাজনৈতিক সহিংসতার কারণে পাসের হার গত বছরের তুলনায় পাঁচ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
চেমন আরা বেগমের লিখিত প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশের ইতিহাসে ছাত্র রাজনীতির এক গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা রয়েছে। যোগ্য নেতৃত্ব সৃষ্টির সহায়ক হিসাবে ছাত্র সংসদের বিষয়টিকে সরকার ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখে।
ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, সারাদেশে তিনটি সরকারি মাদ্রাসাসহ দাখিল ও আলিম স্তরের নয় হাজার ৩৪৭টি মাদ্রাসা রয়েছে। এছাড়া ইবতেদায়ী মাদ্রাসার সংখ্যা হচ্ছে ছয় হাজার ৮৫৬টি।
