প্রতিবেদন

কঠিন সময় পার করছেন উঠতি শিল্পীরা

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ১৯:৫৩
রিয়েলিটি শো থেকে উঠে আসা শিল্পীরা সকলেই গানের রাজত্বে থাকছেন তা বলা মুশকিল। তবে কেউ কেউ থেকে যান। নিজ উদ্যোগে এরই ভেতরে বেশ ক’জন শিল্পী উঠেও এসেছেন নিজের মেধাগুণেই। রিয়েলিটি শোয়ের সর্বশেষ প্রাপ্তি চ্যানেল নাইনের পাওয়ার ভয়েসের কর্নিয়া। এ ছাড়াও উঠতি গায়িকাদের ভেতরে এখন প্লেব্যাক, অডিও ও স্টেজে সমানভাবে সপ্রতিভ কাজ করছেন নাওমী ও ঝিলিক। তবে এখন নতুনদের প্রতিযোগিতা যেন শুধু কণ্ঠমেধাই নয়, নিজের দামি ভিডিও এবং মিডিয়াবান্ধব হওয়াটাও অনেকাংশে জরুরি হয়ে পড়েছে। তরুণ মেধাবী কণ্ঠশিল্পী সেরা কণ্ঠের বিজয়ী নদী পড়াশোনার কাজে রাজশাহী চলে যাওয়ায় মিডিয়া থেকে দূরে সরে যান। এর দীর্ঘদিন পর কণ্ঠশিল্পী তারেকের সাথে ডুয়েট অ্যালবাম ‘মুগ্ধতা’য় কাজ করার পর আবারও আলোচনায় আসেন। অর্থাত্ এখানেও কিছুটা সহায়ক হয় তার ভিডিওটির প্রচার। গাজী শুভ্র তার বেশ কয়েকটি এক্সক্লুসিভ মিউজিক ভিডিও তৈরি করেন। কিন্তু মিউজিক ভিডিওর সংখ্যা প্রকট হওয়ায় আস্তে আস্তে সেই চাহিদাটাও কমতে শুরু করেছে। তাই প্রতিবছর অগণিত ‘সেরা’ তকমা দিয়ে বিভিন্ন রিয়েলিটি শোয়ের গায়ক-গায়িকারা উঠে এলেও সেই সংগ্রাম যেন নতুন করেই শুরু করতে হচ্ছে তাদের। আর সেই তুলনায় আমাদের ইন্ডাস্ট্রি বা প্লেব্যাকের কাজগুলো এখনও প্রফেশনাল ভাবে না এগোনোর কারণে এটাতে পুরোপুরি নিশ্চিত ক্যারিয়ারের কোনো আভাস পাওয়া যাচ্ছে না। এর ভেতর সেরা কণ্ঠের কোনাল গানের পাশাপাশি নিজের উপস্থাপনা ও অন্যান্য ক্ষেত্রে নিজেকে সমুজ্জ্বল রাখার জোর চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। মিডিয়ায় গানের বাইরে অন্য অনেক বিষয় নিয়েই তিনি থাকছেন আলোচিত। কিন্তু এটা তার মিউজিক ক্যারিয়ারের জন্য কতটা প্রাপ্তিযোগ করবে সেটিও প্রশ্নসাপেক্ষ! পড়শী তার সর্বশেষ অ্যালবামে হিন্দি গান গেয়ে বিতর্কের মুখে পড়লেও আবারও নতুন মিউজিক ভিডিও দিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর আশায় শেষ ভরসা রাখছেন। ঝিলিক তার প্রথম এককের একটি গান ভিডিও করে আলোচনায় আসায় নতুন করে আবারও উদ্যোগী হয়েছেন। কারণ একটি মিউজিক ভিডিও দিয়ে আবার সারাবছর আলোচনায় থাকাটাও কষ্টের। চাই নিত্যনতুন ভিডিও! আর এই খরচ সংকুলানের জন্যও যেমন প্রযোজকরা কোনো উদ্যোগই নেন না, তেমনি পাওয়া যায় না প্রফেশনাল স্পন্সর! তাই বিভিন্ন টিভি লাইভ ও স্টেজই যেন ভরসা জোগাচ্ছে তাদের। মিউজিক ভিডিও তাই যেন নিজের গানের নয়, নিজের ক্যারিয়ারের বিজ্ঞাপন হয়ে দাঁড়িয়েছে আজকাল। আর এই ফাঁকে ক’জন নবাগত মিউজিক কম্পোজার কাম শিল্পী উঠতি শিল্পীদের সাথে ডুয়েট গানের বিনিময়ে ভিডিও তৈরি ও প্রচারের কাজটি সেরে নিচ্ছেন। এভাবেই চলছে মিউজিক ভিডিওর ভিন্ন চাহিদার বাজার। তবে বিভিন্ন মানের ভিডিও বিশেষ করে বিভিন্ন আনকোরা ফিচারিং অ্যালবামের শিল্পীদের নিম্নমানের ভিডিও আরও বিভ্রান্তির পথ করে দিচ্ছে। এদিকে বিনা পয়সায় ভিডিও পাওয়ার পর বেশ কিছু টিভি চ্যানেল প্রডিউসারদের ব্যাপারে উল্টো গান চালানোর জন্য শিল্পীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তাই মিউজিক ভিডিওর ক্ষেত্রে প্রফেশনালিজমের পরিবর্তে বাড়ছে আরও অস্বচ্ছতা, যা উঠতি শিল্পীদের ক্যারিয়ারকে আরও ভয়াবহ পথে ঠেলে দিচ্ছে। চ্যানেলগুলোও নিজ উদ্যোগে স্টেশন ফিলার বা ভিডিও তৈরির কাজ একেবারে বন্ধই করে দিয়েছে। তাই শিল্পীদের কণ্ঠের জোর আর পারফর্মেন্সের মেধায় যেন কিছুটা আশার আলো মিলছে শেষতক। নয়তো লাখ টাকার মিউজিক ভিডিও এখন ব্যর্থ হচ্ছে নিজেদের ক্যারিয়ার সমুজ্জ্বল রাখার কাজে।