শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশে ঐতিহাসিক ভোটগ্রহণ

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২০:৪৩
শ্রীলঙ্কার উত্তরাঞ্চলের ভোটাররা প্রথমবারের মতো একটি আধা-স্বায়ত্তশাসিত পরিষদ নির্বাচনের লক্ষ্যে শনিবার ভোট দিয়েছে। সেনাবাহিনী তামিল টাইগার বিদ্রোহীদের পরাজিত করার চার বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো। কয়েক দশক আগে এই ধরনের একটি পরিষদ করার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তামিল সংখ্যাগরিষ্ঠ উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশটিতে কখনোই নিজেদের কোনো পরিষদ ছিল না। তিন দশকের গৃহযুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এ নির্বাচনের মাধ্যমে এক ধরনের স্বায়ত্তশাসনের অধিকার পাওয়ার আশা করছে তামিলরা। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, জাফনায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার নির্ধারিত সময়ের আগেই ভোটকেন্দ্রে বিভিন্ন বয়সী মানুষকে সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে। ৬৩ বছর বয়সী একজন ভোটার বলেছেন, তিনি তামিল জনগোষ্ঠীর ভাগ্য পরিবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে চলে এসেছেন। তামিলদের চূড়ান্ত লক্ষ্য ‘স্বাধীনতা’ অর্জন বলে দাবি করেন তিনি। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ এ নির্বাচন পর্যবেক্ষণ কর নির্বাচনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সশস্ত্র পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় প্রদেশের রাজধানী জাফনার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা এস. অরুমাইনাইয়াহাম শনিবার সকালে শুরু হওয়া নির্বাচন সম্পর্কে বলেছেন, স্থানীয় নির্বাচন হলেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও এর বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপাকসে গত সপ্তাহে তার সমর্থিত প্রার্থীদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচার চালাতে জাফনা সফরে যান। এ সময় তিনি তামিল জনগোষ্ঠীর মধ্যে ‘বিচ্ছিন্নতাবাদী’ চিন্তাধারা ঢুকিয়ে দেয়ার জন্য বিরোধী টিএনএ জোটকে দায়ী করেন। সাবেক তামিল গেরিলাসহ কয়েকটি তামিল দলের সমন্বয়ে টিএনএ জোট গঠিত হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১৯৮০’র দশকে শুরু হওয়া গৃহযুদ্ধে শ্রীলঙ্কার অন্তত এক লাখ মানুষ নিহত হয়। ২০০৯ সালের এপ্রিলে তামিল বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা ভেলুপিল্লাই প্রভাকরনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে গৃহযুদ্ধের সমাপ্তি হয়।