তালেবানের সাবেক দ্বিতীয় শীর্ষ নেতা ও সহ প্রতিষ্ঠাতা মুল্লাহ ঘানি বারাদারকে কারাগার থেকে মুক্তি দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। গতকাল শনিবার তাকে মুক্তি দেয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আফগান সরকারের অনুরোধের পর বারাদারকে মুক্তি দেয়া হল। তবে তার এ মুক্তির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আগে জানানো হয়নি। এক মুখপাত্র জানায়, তার মুক্তির ফলে আফগানিস্তানের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন প্রক্রিয়া আরো জোরদার হবে। ১৯৯৪ সালে দেশটিতে তালিবান আন্দোলন প্রতিষ্ঠায় অন্যতম চারজনের মধ্যে তিনিও ছিলেন। আফগানিস্তানে তালেবানের মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, তার মুক্তির বিষয়ে তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোন খবর পাননি। ২০০১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পরিচালনায় আফগানিস্তানে হামলা চালিয়ে তালেবানকে ক্ষমতা থেকে হটানো হয়। এরপর থেকেই বারাদার হয়ে ওঠেন তালেবান বিদ্রোহের অপরিহার্য অংশ।
পাকিস্তানের করাচি থেকে ২০১০ সালে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এদিকে উভয় দেশ বিশ্বাস করে, তালেবান বিদ্রোহীদের অস্ত্র পরিহার ও তাদেরকে শান্তি আলোচনায় বসতে বারাদার প্রভাব রাখতে পারবেন। আর একারণেই ছেড়ে দেয়ার বিষয়টি নজরে আনা হয়েছে। অন্যদিকে, তালেবানের এক মধ্যমসারির নেতা জানিয়েছেন, সে আমাদের কাছে একজন সাধারণ ব্যক্তি। তাকে ছেড়ে দেয়া হলেও আফগানিস্তানে তাদের কার্যক্রমে কোন গুণগত পরিবর্তন আসবে না। এছাড়া কারাগার থেকে ছাড়ার পর তাকে কোথায় পাঠানো হবে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে এক পাকিস্তানি ও তালেবান সূত্রে জানা গেছে, বারাদারকে করাচিতে বসবাসরত তার পরিবারের কাছে পাঠানো হতে পারে। এদিকে অন্য এক তালেবান মুখপাত্র বলছেন, তাকে তৃতীয় বিশ্বের কোন দেশে নিয়ে যাওয়া হবে। সেটি সম্ভবত সংযুক্ত আরব আমিরাতও হতে পারে। গত কয়েক মাসে পাকিস্তান সরকার ৩০ জনেরও বেশি তালেবান জঙ্গিকে মুক্তি দিয়েছে। তবে এতে করে আফগান-তালেবান শান্তি প্রক্রিয়ায় কোন প্রভাব পড়বে বলে মনে হচ্ছে না। মুল্লাহ বারাদার ছিলেন তালেবান সরকারের উচ্চপর্যায়ের নেতা। ২০০১ সালে পতনের পর তিনি পাকিস্তানে পালিয়ে যান। সেখানে তালেবান সামরিক কমান্ডার হিসাবে কয়েক বছর কাজ করেন এবং গেরিল যুদ্ধের জন্য দলকে সংগঠিত করেন।
