ন্যায়বিচার ছাড়া টেকসই শান্তি সম্ভব নয়

আপডেট : ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৩, ২১:৪৪
বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেছেন, দীর্ঘ সময়ের জন্য শান্তি অর্জন করা যেকোনো দেশের জন্যই চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশি জনগণ ব্যক্তি পর্যায়ে অসাধারণ ভূমিকা পালন করছে। তবে এটাও মনে রাখতে হবে, শান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিরাজ করার পূর্বশর্ত সমাজ ও রাষ্ট্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হওয়া। জনগণ ও ধর্ম-বর্ণ-আদর্শ নির্বিশেষে সকল সম্প্রদায়ের মধ্যে পরস্পরের প্রতি সম্মানবোধ থাকতে হবে। এটি ছাড়া কোনো আশা নেই। ন্যায়বিচার ছাড়া টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠিত হতে পারে না। বাংলাদেশের জন্যও এটি প্রযোজ্য। গতকাল শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনে ‘ব্যক্তির শক্তি: ব্যক্তিগত কার্যক্রম ও অংশীদারিত্বের শান্তি’ শীর্ষক বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। বিশ্ব শান্তি দিবস উপলক্ষে এ ‘জ্ঞান-সোহাগী আন্তর্জাতিক শান্তি দিবস বক্তৃতা-২০১৩’র আয়োজন করে জ্ঞান-সোহাগী মেমোরিয়েল ট্রাস্ট ফান্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগ। ড্যান ডব্লিউ মজীনা বলেন, বাংলাদেশে শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত কর্তব্যরত পুলিশকে হরতালের নামে পিকেটাররা ইট দিয়ে আঘাত করেছে। এর ফলে কেউ আহত হয়েছে, কেউ মারা গেছে। এটি এ দেশের শান্তি বিনষ্ট করছে। অপরদিকে রামু ও উখিয়ায় সামপ্রদায়িক হামলা হয়েছে। শান্তিকামী মানুষ হিসেবে এসব দেখে আমি খুবই দুঃখ পাই। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত বলেন, মহাত্মা গান্ধী ও নেলসন ম্যান্ডেলাসহ বিশ্বের অনেক বিখ্যাত ব্যক্তি বিভিন্ন সময় যেসব বাণী দিয়েছেন, তার মূলমন্ত্র ছিল অহিংসতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও শোভন আচরণের মাধ্যমে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। তিনি বলেন, বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এদেশের মানুষের উদারতা ও সমপ্রীতি অনন্য বৈশিষ্ট্য বহন করে। তরুণ প্রজন্ম নতুন বাংলাদেশ ও বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, বাংলাদেশে সবাই আমরা বিশ্বের সকল দেশের সাথে শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থানে বিশ্বাস করি। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা শান্তি চর্চা ও শান্তি রক্ষার্থে নিবেদিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নাসরীন আহমাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, জ্ঞান-সোহাগী স্মৃতি ট্রাস্ট ফান্ডের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক ডালেম চন্দ্র বর্মণ, শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম। বক্তৃতা শেষে নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবন প্রাঙ্গণ থেকে একটি শান্তি-শোভাযাত্রা বের করা হয়।